পায়ের গোড়ালির তলায় ব্যথা বা প্লান্টার ফ্যাসাইটিস কেন হয়, কী করবেন
পায়ের গোড়ালির তলায় কি ব্যথা হয়? সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই কি ব্যথাটা অনেক বেশি থাকে? তখন পা ফেলতেও কষ্ট হয়? কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর কি ব্যথাটা বেশ প্রশমিত হয়ে যায়? এসব লক্ষণ যদি থেকে থাকে, তবে খুব সম্ভবত আপনি প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সমস্যায় ভুগছেন।
কেন হয়
সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম পা মাটিতে দিলে গোড়ালিতে ব্যথা তীব্র হওয়া, হাঁটতে কষ্ট ও ব্যথা এবং পায়ের মাংসপেশি শক্ত লাগলে বুঝবেন আপনার প্লান্টার ফ্যাসাইটিস হয়েছে।
পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ, যেমন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটা।
অতিরিক্ত ওজনের কারণে পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়লে।
শক্ত বা সাপোর্টহীন জুতা ব্যবহার করলে।
পায়ের পেশি শক্ত হয়ে পায়ের তলার ফ্যাসিয়ার ওপর চাপ বাড়লে।
অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা দৌড়ানোর অভ্যাস থাকলে।
বয়সজনিত পরিবর্তন। সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সে বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসা
চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ খেতে পারেন। পেশি শিথিল করার জন্য ওষুধ বা ইনজেকশন (যদি অন্যান্য চিকিৎসা ব্যর্থ হয়) নেওয়া যায়।
এ ছাড়া প্রয়োজনে নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যথা কমানো, চলাফেরার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য ফিজিয়াট্রিক ব্যবস্থাপনার আশ্রয় নিতে পারেন।
ফিজিক্যাল থেরাপির অংশ হিসেবে বেশ কিছু মডালিটিজ দেওয়া হয়। এসব করতে হবে।
থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ হিসেবে পায়ের তলা ও গোড়ালির পেশি শিথিল করার জন্য ফিজিয়াট্রিক ব্যবস্থাপনা করা যেতে পারে।
এ ছাড়া রয়েছে অর্থোটিক সাপোর্ট।
করণীয়
প্লান্টার ফ্যাসাইটিস এড়াতে বা প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
চেষ্টা করবেন নরম সোলের জুতা পরার।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটা এড়িয়ে চলতে হবে।
মেঝেতে দাঁড়ানোর সময় নরম মাদুর ব্যবহার করুন।
নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ওজন।
একটানা কোনো কাজ করবেন না। কাজের মধ্যে বিরতি নিতে হবে।
প্লান্টার ফ্যাসাইটিস সঠিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত থেরাপি, ওষুধ ও দৈনন্দিন জীবনের পরিবর্তন এ রোগের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা