কাঁধের ব্যথা কেন অবহেলা করবেন না
চুল আঁচড়ানো, জামা পরা, বাজারের ব্যাগ তোলা, রান্না করা, অফিসে কম্পিউটারে কাজ—প্রতিদিনের এমন অসংখ্য কাজে কাঁধের ব্যবহার হয়। তাই কাঁধে ব্যথা শুরু হলে দৈনন্দিন জীবনই যেন থমকে যায়।
বর্তমানে সব বয়সের মানুষই কাঁধের ব্যথায় ভুগছেন। অনেকেই ভাবেন হয়তো ঘুমের সমস্যা বা কয়েক দিনে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ব্যথা জটিল সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
ব্যথার সাধারণ কারণ
মাংসপেশি ও টেনডনের প্রদাহ: হাত বারবার মাথার ওপরে তোলা, ভারী জিনিস বহন, দীর্ঘ সময় কাজ করা বা বয়সজনিত ক্ষয়ের কারণে কাঁধের টেনডনে প্রদাহ হতে পারে।
ফ্রোজেন শোল্ডার: ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে খুব বেশি দেখা যায়। এতে কাঁধ ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় এবং হাত নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সারভাইকাল স্পন্ডেইলাইটিস: অনেক সময় ঘাড়ের স্নায়ুর সমস্যা থেকে কাঁধে ব্যথা ছড়িয়ে আসে।
ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা: দীর্ঘ সময় মুঠোফোন দেখা, ল্যাপটপে ঝুঁকে বসা, এক কাঁধে ভারী ব্যাগ বহন—এসব কারণেও ব্যথা হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়
কাঁধে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব; হাত ওপরে তুলতে কষ্ট হওয়া; জামা পরতে বা চুল আঁচড়াতে সমস্যা; রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া; কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া; দুর্বল লাগা বা হাত ভারী মনে হওয়া।
প্রতিকার ও প্রাথমিক করণীয়
ভারী কাজ কমিয়ে দিন; ব্যথা বাড়ায় এমন কাজ কিছুদিন এড়িয়ে চলুন; খুব বেশি বিশ্রামও নয়, আবার অতিরিক্ত ব্যবহারও নয়; প্রথম দিকে বরফ সেঁক উপকারী হতে পারে; দীর্ঘদিনের শক্তভাব থাকলে গরম সেঁক আরাম দেয়; সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও কাজ করা জরুরি।
অনেকে ব্যথা হলেই হাত একদম নাড়ানো বন্ধ করে দেন। এতে উল্টো কাঁধ আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে।
ফিজিয়াট্রিক ব্যবস্থাপনা কেন গুরুত্বপূর্ণ
কাঁধের ব্যথায় শুধু ওষুধ খেলেই সব সময় সমাধান হয় না। এখানে ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিয়াট্রিক চিকিৎসায় সাধারণত যা করা হয়—
রোগের সঠিক কারণ নির্ণয়; প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম শেখানো; দেহভঙ্গি সঠিক করা; মাসল স্ট্রেনদেনিং ও স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ; আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, টেনস, আইএফটি ইত্যাদি ফিজিক্যাল মডালিটি; ফ্রোজেন শোল্ডারে ধাপে ধাপে মোবিলাইজেশন; প্রয়োজনে ইমেজ গাইডেড ইনজেকশন; দৈনন্দিন কাজের উপযোগী পুনর্বাসন পরিকল্পনা।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
● ব্যথার কাঁধের ওপর ভর দিয়ে না শোয়া ভালো; কাঁধের নিচে ছোট বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
● দীর্ঘ সময় ঝুঁকে মুঠোফোন না দেখা; স্ক্রিন চোখের সমান উচ্চতায় রাখা; প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর বিরতি নেওয়া।
● এক হাতে ভারী ব্যাগ না নেওয়া; সম্ভব হলে দুই হাতে ওজন ভাগ করে নেওয়া।
● বারবার মাথার ওপর হাত তোলার কাজ কমানো; প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের নাগালে রাখা।
● চেয়ারে সোজা হয়ে বসা; কাঁধ ঝুলিয়ে না রাখা; দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে না থাকা।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা