ছোট ছোট বদভ্যাসের কারণে বাড়ছে স্ট্রেস

মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বড় কোনো ঘটনা—অফিসের ডেডলাইন, পরীক্ষা কিংবা পারিবারিক সমস্যা। বড় বড় মুহূর্তের চাপ সামলানোর জন্য অনেকেই প্রস্তুতি নেন, আগেভাগে পরিকল্পনাও করে রাখেন। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে এমনই ছোট ছোট কিছু ঘটনা ঘটে, যা নীরবেই মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। অবচেতন মনের আড়ালে ছোট ছোট জমানো চাপ একদিন পাহাড়সম হয়ে ওঠে। ক্ষতি করে ফেলে বিশাল। কী সেই চাপ, দেখে নিই একনজরে।

অনেকের রাত শেষ হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে, যা মানসিক চাপের কারণ হতে পারেছবি: পেক্সেলস

ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়া

অনেকেরই সকাল শুরু হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। ঘুম থেকে উঠে মস্তিষ্ক যখন কাজ ঠিকমতো শুরুও করতে পারেনি, তখনই তার ওপর এসে পরে হাজারো খবরের বোঝা।

নোটিফিকেশন ও মেসেজ থেকে শুরু করে সব ধরনের সংবাদ নিয়ে হাজির হয় ফোনের স্ক্রিন। ফলে সুন্দর শুরুর পরিবর্তে দিন শুরুই হয় অজান্তে এক মানসিক চাপ নিয়ে, যা থেকে সহজে বের হওয়া যায় না।

ঘুমানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা

সকালের শুরুটা যেমন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হয়, তেমনই অনেকের রাতটাও শেষ হয় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। কর্মব্যস্ত দিনের শেষে ঘুমের রাজ্যে যাওয়ার জন্য কিছুটা সময়ের দরকার।

ফোনের স্ক্রিনে সেই সময় পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে মস্তিষ্ক না পায় নিজেকে শান্ত করার সময়, না পায় মানসিক ক্লান্তি ঝেড়ে পরের দিনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। ফলে আগের রাতের চাপ বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় পরদিন সকালেও।

আরও পড়ুন

বিশ্রামকে প্রয়োজনের বদলে ‘পুরস্কার’ মনে করা

ঘুমকে অনেকেই মনে করেন একটা পুরস্কার। কর্মব্যস্ত দিনের শেষে একটা পুরস্কার হিসেবে বিশ্রাম পাওয়া উচিত। এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে যত দ্রুত বের হবেন, তত মঙ্গল। কারণ, ঘুম বা বিশ্রাম কোনো পুরস্কার নয়, এটি প্রয়োজন।

বিশ্রাম শরীর ও মনকে শান্ত হওয়ার সুযোগ দেয়, ক্লান্তি দূর করে শরীরকে আবার রিচার্জ করে। সেই সুযোগ না দিলে অনিবার্যভাবেই মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হবে, যা অজান্তেই মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলবে।

মনে ‘না’ রেখে মুখে ‘হ্যাঁ’ বলা

হুমায়ূন আহমেদের ‘বহুব্রীহি’ নাটকে একটি চরিত্র ছিলেন ডাক্তার। আফজাল হোসেন অভিনীত সেই চরিত্র কখনো ‘না’ বলতে পারত না। নাটকে হাসির পাত্র হলেও বাস্তবে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা ‘না’ বলতে চাইলেও পারেন না।

সত্যিকারের ইচ্ছা বা সামর্থ্য না থাকলেও শুধু কাউকে খুশি করতে গিয়ে অনেকেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেন। এতে মনের অজান্তেই বাড়তি একটা চাপ এসে পড়ে।

এতে শুধু বাড়তি কাজ করতে হয় তা নয়, মনের ভেতরে সূক্ষ্ম একটা অস্বস্তিও কাজ করতে থাকে। ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

সমাধান ছাড়াই কেবল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা

কোনো কাজ শুরুর আগে সমস্যা বের করা ভালো। কিন্তু সেই সমস্যা বের করে যদি সমাধান না করা হয়, তাহলে এর কোনো মূল্যই নেই।

কোনো কার্যকর সমাধান না খুঁজে যদি একই সমস্যার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে হয়, তাহলে সেই সমস্যা একধরনের মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে। ছোট্ট একেকটা বিষয় চাপ হয়ে বসে থাকে মস্তিষ্কে।

সময়মতো না খাওয়া

মেজাজ খিটখিটে হওয়ার অন্যতম বড় কারণ সময়মতো খাওয়াদাওয়া না করা। রক্তে শর্করা বা সুগার হুটহাট ওঠানামা করলে মেজাজ বিগড়ে যায়। অনিয়মিত বা তাড়াহুড়া করে খাবার খেলে শরীর মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

ওপরের কোনো অভ্যাসই খুব বড় কিছু নয়। ঠিক এ কারণেই প্রতিদিন এসব নজর এড়িয়ে যায়। কিন্তু এই অভ্যাসগুলোকে শুধরে নিতে পারলেই প্রতিদিনের মানসিক চাপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: এমএসএন

আরও পড়ুন