অনভ্যস্ত শরীরে হঠাৎ ফুটবল খেললে যেসব সমস্যা হতে পারে

বিশ্বকাপের আনন্দে যুক্ত হতে ফুটবল খেলতে নেমে পড়বেন অনেকেই। ফিটনেস ধরে রাখতে খেলাধুলার চর্চা দারুণ ব্যাপার। তবে ফুটবলের মতো খেলা, যেখানে কায়িক শ্রম অনেক বেশি, তাতে অভ্যস্ত না হলে হুট করে পুরোদমে খেলতে যাওয়া উচিত নয়। হিতে বিপরীত হতে পারে। এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

বিশ্বকাপের আনন্দে যুক্ত হতে ফুটবল খেলতে নেমে পড়বেন অনেকেই
মডেল: মৃদুলা, সায়ীদা, শামস ও রাগীব। ছবি: খালেদ সরকার

অনভ্যস্ত শরীরে হুট করে ফুটবলের মতো খেলাধুলা করতে গিয়ে অনেকেই যে সমস্যায় পড়েন, তা হলো পেশিব্যথা। খেলার সময় ব্যথা না হলেও খেলা শেষে বা দুয়েক দিনের মধ্যে পেশিব্যথা হয় অনেকেরই। অনভ্যস্ত পেশিগুলো আকস্মিক ভারী কাজের চাপে পড়ার কারণে এমনটা হয়।

অনভ্যস্ত এক ব্যক্তি খেলতে গিয়ে নিজের শরীরের পানি বা লবণের ঘাটতি বিষয়ে খুব একটা সচেতন না-ও থাকতে পারেন। পানি বা লবণের ঘাটতির কারণে পেশিতে টান পড়ে বা খিঁচ ধরে যায় খুব সহজে। গরম আবহাওয়ায় এসব উপাদানের ঘাটতিজনিত যেকোনো জটিলতার ঝুঁকিই বাড়ে।

আঘাতের ভয়ও আছে

অভ্যস্ত বা অনভ্যস্ত যে কেউই খেলতে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন। অনভ্যস্ত শরীরে আঘাতের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া অপেশাদার ব্যক্তি সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই খেলতে নেমে যান। তাতে আঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

ভুলভাবে শট নিতে গিয়ে পায়ের নখ উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। খেলতে গিয়ে পিছলেও পড়তে পারেন যে কেউ। বেকায়দা হেড করতে গিয়ে মাথা বা ঘাড়ে ব্যথা লাগতে পারে। বেখেয়ালে শরীরের যেকোনো জায়গায় ফুটবলের জোর আঘাত লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

আমাদের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের চারপাশে যে রগজাতীয় অংশ থাকে, এর নাম লিগামেন্ট। খেলতে গিয়ে লিগামেন্টে টান পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে জয়েন্ট বা এর আশপাশে ব্যথা হতে পারে।

মারাত্মক আঘাত লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়েও যেতে পারে। হাঁটুর জয়েন্টের তুলনামূলক নরম অংশেও (মেনিস্কাস) আঘাত লাগতে পারে ফুটবল খেলতে গিয়ে। পেশাদার ফুটবলারদেরও হাঁটুর আঘাতে ভুগতে হয়।

বড় পেশির শেষ প্রান্তে যে শক্ত লম্বাটে অংশ থাকে, এর নাম টেন্ডন। এর সাহায্যে হাড়ের সঙ্গে এঁটে থাকে পেশি। হুট করে খেলতে গিয়ে টেন্ডনে আঘাত লাগতে পারে। হতে পারে প্রদাহ।

অভ্যস্ত বা অনভ্যস্ত যে কেউই খেলতে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন। অনভ্যস্ত শরীরে আঘাতের ঝুঁকি বেশি
মডেল: মৃদুলা, সায়ীদা, শামস ও রাগীব। ছবি: খালেদ সরকার

আগে থেকে অসুস্থতা থাকলে

হৃৎপিণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি খেলাধুলা বা ভারী ব্যায়ামে অভ্যস্ত না হলে হুট করে খেলা শুরু করা তাঁর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। খেলতে গিয়ে হৃৎপিণ্ডের ওপর আকস্মিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে হৃৎপিণ্ডের ছন্দ।

উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিক রোগী অনভ্যস্ত শরীরে খেলাধুলা করতে গেলে হুট করে অসুস্থ হতে পারেন। এ ছাড়া কারও আগে থেকে পেশি বা জয়েন্টে কোনো সমস্যা থাকলে খেলতে গিয়ে তা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

সুস্থ থাকতে সবার জন্য

খেলতে চাইলে ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করে নিন
মডেল: মৃদুলা, সায়ীদা, শামস ও রাগীব। ছবি: খালেদ সরকার
  • খেলতে চাইলে ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করে নিন। পেশির স্ট্রেচিং এবং কিছু হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। অল্প অল্প করে খেলার সময় বাড়ান।

  • খেলার আগে ওয়ার্মআপ করুন। খেলার পর কুলডাউন করুন।

  • খেলার আগে ও খেলার সময় ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় খান। বাড়িতে খানিকটা লবণ মিশিয়ে তৈরি করা পানীয়ও খেতে পারেন বিকল্প হিসেবে।

  • পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে খেলার অভ্যাস করা উচিত।

  • আগে থেকে কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকলে এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন