ডায়াবেটিক রোগীর ইফতার কেমন হওয়া উচিত

একজন ডায়াবেটিক রোগী ইফতারে সঠিক খাবার না খেলে রক্তের শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হবেছবি: প্রথম আলো

ইফতারের খাবার হতে হবে সহজপাচ্য ও শক্তির ভালো উৎস। আবার ইফতার বাড়ির সদস্যদের কথা মাথায় রেখে আয়োজন করতে হবে। ছোটদের জন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার বেশি রাখা উচিত। প্রবীণদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁদের জন্য প্রযোজ্য খাবার রাখতে হবে। যেমন কারও কিডনিজনিত জটিলতা থাকলে তাঁর জন্য ডাল বা ডাল দিয়ে তৈরি ইফতারি রাখা উচিত নয়। ডায়াবেটিস থাকলেও আয়োজনটা ভিন্ন হবে।

একজন ডায়াবেটিক রোগী ইফতারে সঠিক খাবার না খেলে রক্তের শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হবে। হঠাৎ অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করা অনেক বেড়ে হাইপারঅসমোলার কোমা বা কিটো অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি থাকে। তাই বুঝেশুনে ডায়াবেটিক রোগীর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার আয়োজন করতে হবে।

আরও পড়ুন

পানীয় হিসেবে কী পান করবেন

চিনিযুক্ত শরবত বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত পানীয় পান করা যাবে না। চিনির শরবতে রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়ে এবং কিছুক্ষণ পরই সুগার দ্রুত কমে। এর ফলে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা হয়। বাড়িতে তৈরি চিনিবিহীন ফলের রস ভালো। পেঁপে, বেল, তরমুজ, আনারস বা মাল্টার জুস করে নিতে পারেন। এ ছাড়া সুগার ফ্রি মিল্কশেক বা টক দইয়ের লাচ্ছি খাওয়া যায়।

অন্য খাবার যা খেতে পারেন

খেজুর উচ্চ ক্যালরি ও ফাইবারযুক্ত ফল। তাই ইফতারে দুটি খেজুর খেতে পারবেন। খেজুর শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ ছাড়া অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণ করবে। চিবিয়ে খেতে হয় এমন ফল যেমন আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, বরই, তরমুজ ইত্যাদি ১০০-১৫০ গ্রাম খাবেন।

ইফতারে একটা সেদ্ধ ডিম, ক্যাশোনাট সালাদ বা অল্প পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা বা ছোলার সালাদ রাখুন। এই প্রোটিন সারা দিনের ক্লান্ত পেশিগুলোকে সতেজ করতে সাহায্য করবে। ইফতার দুই ভাগে খেতে হবে। পানীয়, ফল ও সেদ্ধ ডিম কুসুমসহ খেয়ে নামাজের বিরতি নিতে পারেন। শরীর বেশ কিছু শক্তি পেয়ে যাবেন। এতে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমাবে। 

আরও পড়ুন

পরে একটা ভালো খাবার রাখুন। চিড়া-দই বা দুধের সঙ্গে একটা কলা থাকতে পারে। রুটির সঙ্গে হালিম বা মাংস ও সবজি খেতে পারেন। চিকেন বা ফিশ গ্রিলের সঙ্গে রুটি ও সালাদ রাখুন। কখনো চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ খেতে পারেন। ছোলা বা চটপটির সঙ্গে অল্প মুড়ি, হালিম ও সালাদও খাওয়া যায়। খাবারের পরিমাণ আপনার বয়স, ওজন, উচ্চতা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ভাজাপোড়া যেমন জিলাপি, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, নিমকি, পাকোড়াসহ ডালের বেসন দিয়ে তৈরি খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

আরও পড়ুন