ডায়াবেটিস হলে ফল খাবেন, না খাবেন না

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই ফল খাওয়া বন্ধ করে দেনছবি: সাবরিনা ইয়াসমীন

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কারণ, ফল মিষ্টি তাই রক্তের সুগার বাড়াবে। কিন্তু বাস্তবে ডায়াবেটিস হলে ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, সঠিকভাবে গোটা ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ। কোনো একটি ফল একাই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে না; খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন, ওষুধ ও রোগের ধরন—সবই গুরুত্বপূর্ণ।

গোটা ফলের গুরুত্ব

গোটা ফলে থাকে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও নানা উদ্ভিজ্জ উপাদান। খাদ্যআঁশ গ্লুকোজ শোষণের গতি কিছুটা ধীর করতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই মিষ্টি বা মিষ্টান্নের পরিবর্তে পরিমিত গোটা ফল ভালো বিকল্প।

পেয়ারা, জাম, আপেল, কমলা, মাল্টা, পেঁপে, নাশপাতি ও বিভিন্ন বেরি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। এগুলোয় খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। তবে জামবীজের গুঁড়া, পাতার চা বা কাঁচা পেয়ারা ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কলা, আম, কাঁঠাল বা লিচুর মতো তুলনামূলক মিষ্টি ফলও একেবারে নিষিদ্ধ নয়; তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কলা যত পাকে, সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই ব্যক্তির রক্তের সুগারের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনা করতে হবে।

খাওয়ার পদ্ধতির গুরুত্ব

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলের চেয়ে ফল খাওয়ার পদ্ধতি। গোটা ফলকে অগ্রাধিকার দিন; জুস, স্মুদি ও চিনি মেশানো শরবত এড়িয়ে চলুন। জুসে অল্প সময়ে বেশি চিনি গ্রহণ করা সহজ হয় এবং গোটা ফলের আঁশের সুবিধা কমে যায়।

সুতরাং ফল খাবেন, জুস নয়। পরিমাণ বুঝে খাবেন, ভয় পেয়ে ফল বাদ দেবেন না। দেশি ও মৌসুমি ফলকে অগ্রাধিকার দিন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কোনো ‘জাদুকরি খাবার’ নেই; সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিয়মিত চিকিৎসাই মূল চাবিকাঠি।

ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়