প্রচণ্ড শীতে ফ্রস্ট বাইট ও হাইপোথারমিয়া হলে কী করবেন
দেশজুড়ে চলছে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ। বেশি ঠান্ডায় অনেকের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। বেশি ঠান্ডা আবহাওয়ায় অবস্থান করলে ফ্রস্ট বাইট ও হাইপোথারমিয়া—এই দুটি জটিল আর সংকটজনক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো প্রতিরোধ না করলে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
ফ্রস্ট বাইট
যখন অত্যধিক ঠান্ডার কারণে শরীরের কোনো অংশে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে কোষকলা জমে যায়, তখন ফ্রস্ট বাইট হয়। সাধারণত হাতের আঙুল, পায়ের আঙুল, কান, নাক ও মুখমণ্ডলের খোলা অংশগুলো সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রথম দিকে আক্রান্ত স্থান অসাড় হয়ে যায়, ঝিনঝিনে ভাব হয় এবং ত্বক ফ্যাকাশে বা সাদা দেখায়। ধীরে ধীরে সেখানে তীব্র ব্যথা, ফোসকা পড়া ও ত্বক শক্ত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে টিস্যু নষ্ট হয়ে কালো হয়ে যেতে পারে, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হতে পারে।
হাইপোথারমিয়া
হাইপোথারমিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। শুরুতে প্রচণ্ড কাঁপুনি দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে কাঁপুনি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। রোগী ধীরে ধীরে অবসন্ন হয়ে পড়ে, কথা জড়িয়ে যায়, মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ধীর হয়ে যায়। চিকিৎসা না পেলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা মৃত্যুও ঘটতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অপুষ্ট মানুষ, মদ্যপ ব্যক্তি ও গৃহহীনরা এ সমস্যায় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা
প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক প্রস্তুতি। বাইরে বের হওয়ার সময় কয়েক স্তরযুক্ত গরম কাপড় পরা উচিত, বিশেষ করে উল বা থার্মাল কাপড়। মাথা ও কান ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ শরীরের তাপের বড় একটি অংশ মাথা দিয়ে বের হয়ে যায়। ভেজা কাপড় যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করা উচিত এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় না থাকা ভালো। পর্যাপ্ত খাবার ও গরম পানীয় শরীরের শক্তি এবং তাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
জরুরি করণীয় ও চিকিৎসা
ফ্রস্ট বাইট হলে আক্রান্ত স্থান ধীরে ধীরে কুসুম গরম পানিতে উষ্ণ করা যেতে পারে, কিন্তু কখনোই জোরে ঘষা বা আগুনে গরম করা যাবে না। হাইপোথারমিয়ার ক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানে নিয়ে গিয়ে শুকনো কাপড় পরাতে হবে। প্রয়োজনে উষ্ণ পানীয় দিতে হবে। উভয় অবস্থাতেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।