মিষ্টি আলুর যে ৬টি উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন না
শীতকালে সেদ্ধ বা পোড়া মিষ্টি আলুর ঘ্রাণ কি মনে আছে? একবার এই ঘ্রাণ নাকে গেলে ভুলে যাওয়া কঠিন। জানেন কি, এই মিষ্টি আলুর ভেতরে লুকিয়ে আছে চমকপ্রদ কিছু স্বাস্থ্যগুণ! ভিটামিন, খনিজ আর অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর মিষ্টি আলু শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে চোখ, মস্তিষ্ক আর হজমশক্তি ভালো রাখতেও সাহায্য করে। জেনে নিন মিষ্টি আলুর এমন ৬টি উপকারিতা, যেসব অনেকেরই অজানা।
১. পুষ্টিগুণে ভরপুর
মিষ্টি আলুতে আছে ফাইবার বা আঁশ, ভিটামিন আর খনিজ—সবই একসঙ্গে। এক কাপ (প্রায় ২০০ গ্রাম) সেদ্ধ বা পোড়া মিষ্টি আলু থেকে শরীর পায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।
বিশেষ করে হলুদ আর বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এই ফ্রি র্যাডিক্যালই বয়স বাড়া, হৃদ্রোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত।
২. হজমশক্তি ভালো রাখে
মিষ্টি আলুতে দুই ধরনের আঁশ থাকে—দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়। এই আঁশ হজমতন্ত্রে গিয়ে মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
এ ছাড়া আঁশ অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। এতে অন্ত্র সুস্থ থাকে, পেট থাকে পরিষ্কার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে।
৩. ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে
বিশেষ করে বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট পরীক্ষাগারে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে দেখা গেছে। মূত্রথলি, কোলন, পাকস্থলী ও স্তন ক্যানসারের কোষের ক্ষেত্রে এমন ফল মিলেছে।
তবে মানুষের শরীরে এই প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। তবু নিয়মিত সবজি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেলে যে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে, তা বহু গবেষণায় প্রমাণিত।
৪. চোখের জন্য দারুণ উপকারী
হলুদ বা কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন। শরীরে ঢোকার পর এটি ভিটামিন এ–তে রূপ নেয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে জরুরি।
ভিটামিন এ–র অভাবে রাতকানা বা চোখের শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে এসব ঝুঁকি কমে।
৫. মস্তিষ্কের জন্য ভালো
বেগুনি মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সবজি ও ফলসমৃদ্ধ খাবার যাঁরা নিয়মিত খান, তাঁদের বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম—এমন তথ্যও আছে।
৬. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
মিষ্টি আলু ভিটামিন এ–র অন্যতম ভালো উৎস। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখে। এ ছাড়া অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ জরুরি, আর অন্ত্র সুস্থ থাকলে শরীরও সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালোভাবে লড়তে পারে।
খাবার তালিকায় কীভাবে রাখবেন
মিষ্টি আলু আমরা বেশির ভাগ সময় সেদ্ধ করে খাই, পোড়া মিষ্টি আলুর স্বাদ তো দারুণ। এ ছাড়া রান্না করা খুবই সহজ। সেদ্ধ, ভাপা, ভাজি, ভুনা—সবভাবেই খাওয়া যায়। চাইলে সবজি, ডাল বা সালাদেও যোগ করতে পারেন।
একটি বিষয় মনে রাখবেন, অল্প তেল (যেমন শর্ষের তেল বা অলিভ অয়েল) দিয়ে রান্না করলে মিষ্টি আলুর বিটা ক্যারোটিন শরীরে আরও ভালোভাবে শোষিত হয়।
শেষ কথা
মিষ্টি আলু সস্তা, সহজলভ্য আর পুষ্টিগুণে ভরপুর। আঁশ, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট আর ভিটামিন এ–র কারণে এটি হজম, চোখ, মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুর জন্যই উপকারী।
সূত্র: হেলথ লাইন