কখন ও কীভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করবেন
যাঁরা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন, প্রতি মাসে তাঁদের সতর্ক চিন্তা থাকে। আবার অনেকে না জেনেই কোনো প্রস্তুতি ছাড়া গর্ভধারণ করেন। অনেকে বিষয়টা নিয়ে লজ্জায় ভোগেন। সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট না করা হলে অনেক সময় দ্বিধায় পড়ে যেতে হয়।
কীভাবে ও কখন পরীক্ষা করবেন
বাড়িতে পরীক্ষা: বর্তমানে খুব সহজে নির্ভরযোগ্য উপায়ে একজন নারী বাড়িতে কিট দিয়ে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা কি না। মাসিকের নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে যাওয়ার অন্তত সাত দিন পর এ পরীক্ষা করলে ভালো। সকালে প্রথম প্রস্রাবটি পরীক্ষা করলে ভালো হয়। কিটের গায়ে লেখা নির্দেশনাগুলো ভালো করে পড়ে সে অনুযায়ী পরীক্ষাটি করতে হবে।
রক্ত পরীক্ষা: যদি বাড়িতে পরীক্ষা করে ফলাফল অনির্ধারিত থাকে বা সন্দেহজনক হয়, তবে ল্যাবে গিয়ে রক্তে বিটা এইচসিজি টেস্ট করলে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভধারণ শনাক্ত ও গর্ভধারণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য এ পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য।
সহবাসের কমপক্ষে ১০ থেকে ১৪ দিন পর এবং মাসিকের নির্ধারিত তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার অন্তত সাত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা উচিত।
প্রেগন্যান্সি টেস্টের গুরুত্ব
নারীর প্রজননক্ষম যেকোনো বয়সেই গর্ভধারণ হতে পারে। যাঁদের অনিয়মিত মাসিক হয়, বয়স বেড়ে গেছে বা নবজাতককে ব্রেস্ট ফিডিং করান, এমন নারীরা অনেক সময় ধরেই নেন যে তাঁদের গর্ভধারণের সুযোগ নেই। মাসিকের তারিখ পার হলেও টেস্ট করান না। আবার যাঁরা বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সন্তানধারণ একেবারে অসম্ভব কিছু নয়। তাই ন্যূনতম সন্দেহ হলেই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা জরুরি।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি দ্রুত ধরা পড়ে ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসা শুরু করা যায়। বিরত থাকা যায় ক্ষতিকর ওষুধ সেবন থেকে। ফলিক এসিড ও অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট যথাসময়ে শুরু করা যায়।
কিছু ভুল ধারণা
কোনো মাসে মাসিক হয়নি মানেই গর্ভধারণ, বিষয়টি তা নয়। অনিয়মিত মাসিকের নানা কারণ রয়েছে। তবে মাসিকের তারিখ পার হলে আগে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে নেওয়া উচিত। তারপর অনিয়মিত মাসিকের অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান ও তার চিকিৎসা করতে হবে।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট নেগেটিভ মানেই নিশ্চিত নয় যে গর্ভধারণ করেননি। অনেক সময় তাড়াহুড়া করে নির্ধারিত সময়ের আগে বা ভুল পদ্ধতিতে টেস্ট করলে নেগেটিভ আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ল্যাবে গিয়ে যথাসময়ে রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ মানেই নিশ্চিত গর্ভধারণ না–ও হতে পারে। যথাযথভাবে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পরও অনেক সময় ভ্রূণ ঠিকমতো তৈরি না–ও হতে পারে। সঠিক সময়ে হৃৎস্পন্দন আসা বা সঠিকভাবে স্যাক বা থলি তৈরি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।