ছোটদের হৃদ্‌রোগ হলে কী করবেন

কিছু নবজাতক জন্মের সময় হৃদ্‌রোগ নিয়ে জন্ম নেয়ছবি: আনস্প্ল্যাশ

ছোটদের মধ্যেও হৃদ্‌রোগ নেহাত কম নয়। ছোটদের হৃদ্‌রোগের বেশির ভাগই জন্মগত। তবে বাতজ্বর, কাওয়াসাকি ডিজিজ, হার্টের  ভাইরাস সংক্রমণ, প্রদাহ, ভিটামিন বি১ ঘাটতি ইত্যাদি কারণে জন্মের পর বা একটু বড় হওয়ার পরও হৃদ্‌রোগ হতে পারে। 

কারা ঝুঁকিতে

  • গর্ভধারণের প্রথম ১২ সপ্তাহে অন্তঃসত্ত্বা যদি কোনো প্রতিকূলতার শিকার হন (যেমন রুবেলা ভাইরাস সংক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, তেজস্ক্রিয়তা, নেশা, ধূমপান ইত্যাদি) তবে ওই শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

  • অধিক বয়সী মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া শিশু। অধিক বয়সী মায়ের গর্ভের সন্তানের ডাউন সিনড্রোম সমস্যার ঝুঁকি থাকে। তাদের জন্মগত হৃদ্‌রোগের হারও বেশি।

  • জেনেটিক বা ক্রোমোজোমাল সমস্যায় আক্রান্ত শিশু (যেমন টারনার সিনড্রোম, নুনান সিনড্রোম ইত্যাদি)।

  • ঘনবসতির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

  • পুষ্টিহীনতা (থায়ামিন ঘাটতিতে ভোগা শিশুদের হৃদ্‌রোগ হতে পারে)।

কীভাবে বোঝা যাবে

  • জন্মের পর থেকেই ঘন ঘন জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট।

  • যেসব শিশু একনাগাড়ে বেশিক্ষণ দুধ টানতে পারে না, ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

  • যেসব শিশুর ওজন আশানুরূপ বাড়ে না। 

  • দুধ খাওয়ার সময় শিশু অতিরিক্ত ঘেমে যায় বা নীল হয়ে যায়।

  • শিশু অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে।  

আরও পড়ুন

চিকিৎসা

সন্দেহ হলে অবশ্যই শিশুকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পূর্ণ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে তার হৃদ্‌রোগ আছে কি না, নিশ্চিত হতে হবে। আর থাকলে তার ধরন ও রোগ কী পর্যায়ে আছে, জানতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের হার্ট ফেইলিউর, ঘন ঘন নিউমোনিয়া, হার্টের অভ্যন্তরে ভালভে সংক্রমণ, সার্বিক গ্রোথ ফেইলিউর হতে পারে। তাই নিয়মিত ফলোআপ, পুষ্টিকর খাবার ও অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কখনো কখনো সার্জারিও লাগতে পারে।   

আরও পড়ুন