শীতে যেসব জিনিস ধরার পর অবশ্যই হাত ধুতে হবে

খাওয়ার আগে-পরে আর ওয়াশরুম ব্যবহারের পর হাত তো ধুতেই হয়। কিন্তু এর বাইরে দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু বস্তুর সংস্পর্শে আসি আমরা, যেসব ধরার পর হাত না ধুলে হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ। দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকার পর এসব জায়গা থেকে ছড়াতে পারে ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু। বিশেষত শীতে এসব জিনিস হয়ে উঠতে পারে দ্বিগুণ বিপজ্জনক। তাই দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশা ব্যবহৃত যেসব জিনিস ধরার পর হাত ধোয়া উচিত, তা সম্পর্কে জেনে নিন।

দরজার নব

দরজার নবে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে
ছবি: পেক্সেলস

বাসা, অফিস কিংবা নানা জায়গায় ঢোকার সময় দরজার নব ধরতেই হয়। প্রতিদিন একটি দরজার নবে ঠিক কতশত মানুষের হাতের স্পর্শ যে লাগে, তার কোনো লেখাজোখা নেই।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দরজার নবে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ই.কোলাই কিংবা স্টেফাইলোকক্কাসের মতো প্রাণঘাতী জীবাণুও বসবাস করে।

তাই তো দরজার নব ধরার পর যত দ্রুত সম্ভব হাত ধুয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জনবহুল স্থানের দরজার নব ধরার পর হাত যত দ্রুত পরিষ্কার করা যায়, তত ভালো।

টাকা

কাগজের নোট হোক কিংবা ধাতব মুদ্রা—হাজারো হাত ঘুরে সেই টাকা আসে আপনার হাতে
ছবি: মঈনুল ইসলাম

কাগজের নোট হোক কিংবা ধাতব মুদ্রা—হাজারো হাত ঘুরে সেই টাকা আসে আপনার হাতে। টাকার যাত্রাপথে কোথায়, কীভাবে ছিল, তা জানা নেই কারও। তবে এতে সন্দেহ নেই যে দুনিয়া ঘুরে আসা টাকার সঙ্গে আসে হাজারো জানা-অজানা জীবাণু।

ধীরে ধীরে ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হলেও কাগুজে নোটের প্রয়োজন এখনো অটুট। তাই তো লেনদেন শেষ হলেই, বিশেষ করে খুচরা নোট নাড়াচাড়ার পরই হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করা জরুরি।

আরও পড়ুন

হাতল

বিভিন্ন স্থাপনার সিঁড়ি, গণপরিবহনের এসকেলেটরসহ বিভিন্ন বাহনের হাতল ধরতে হয় নিয়মিত; এসব হাতলের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে হাজারো জীবাণু
ছবি: পেক্সেলস

বিভিন্ন স্থাপনার সিঁড়ি, গণপরিবহনের এসকেলেটরসহ বিভিন্ন বাহনের হাতল ধরতে হয় নিয়মিত। এসব হাতলের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে হাজারো জীবাণু। পাবলিক প্লেস হওয়ায় এসব পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া হয় খুব কম।

তাই ঠান্ডা বা ফ্লুর ভাইরাস জমা থাকতে পারে সেখানে। তাই পারতপক্ষে হাতল না ধরাই ভালো। আর যদি ধরতেও হয়, যত দ্রুত সম্ভব হাত স্যানিটাইজ করলেই নিরাপদ থাকা সম্ভব।

সুইচ বোর্ড

নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে সুইচ বোর্ডগুলো টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়ার বাসস্থান হয়ে উঠতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

শেষ কবে সুইচ বোর্ড পরিষ্কার করেছেন, বলতে পারবেন? প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলো জ্বালানোর জন্য যে বোর্ডে হাত পড়ছে, সেই বোর্ডই যদি নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তবে ভাবুন তো কত জীবাণু আটকে আছে সেখানে?

বিশেষ করে রান্নাঘর, বাথরুম ও ড্রয়িংরুমের সুইচ বোর্ডে বেশি জীবাণু থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে সুইচ বোর্ডগুলো টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়ার বাসস্থান হয়ে উঠতে পারে! সুতরাং সপ্তাহে একবার জীবাণুনাশক দিয়ে সুইচ বোর্ড পরিষ্কার করুর যথাযথ নিয়ম ও সতর্কতা মেনে।

আরও পড়ুন

সাবান ডিসপেনসার

ডিসপেনসারের ভেতরের সাবান জীবাণুনাশক হলেও পাম্পের মুখ ও বাইরের অংশ থেকে সহজেই জীবাণু ছড়িয়ে যেতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

ছোটবেলায় একটা প্রশ্ন অনেকেই করেছেন, সাবান কি কখনো ময়লা হয়? সাবান ময়লা হোক বা না হোক, সাবান রাখা হয় যে পাত্রে, সেই পাত্র ঠিকই ময়লা হয়। মানুষ হাত ধোয়ার আগেই হ্যান্ডেল বা পাম্প স্পর্শ করে। ফলে সেখানে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জীবাণু পড়ে থাকে।

ডিসপেনসারের ভেতরের সাবান জীবাণুনাশক হলেও পাম্পের মুখ ও বাইরের অংশ থেকে সহজেই জীবাণু ছড়িয়ে যেতে পারে। সম্ভব হলে স্পর্শমুক্ত ডিসপেনসার ব্যবহার করুন, অথবা ব্যবহারের পর একবার হাত স্যানিটাইজ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

পোষা প্রাণী

অন্য কারও বাসায় গিয়ে পোষা প্রাণী আদর করার পর হাত পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়
ছবি: পেক্সেলস

পোষা প্রাণীর সঙ্গে আনন্দময় মুহূর্ত কাটাতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু ওদের সঙ্গে খেলাধুলা করার পর হাত ধোয়া জরুরি। নইলে ওদের শরীরে থাকা জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে আপনার মধ্যেও। বিশেষ করে অন্য কারও বাসায় গিয়ে পোষা প্রাণী আদর করার পর হাত পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

আরও পড়ুন