রমজান মাসে ত্বক সতেজ রাখতে যা করবেন, যা করবেন না

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এ কারণে ত্বক যেমন শুষ্ক হয়, তেমনি উজ্জ্বলতা হারায় আর বিবর্ণ দেখায়। চোখের চারপাশেও অনেক সময় কালো দাগ দৃশ্যমান হয়। এ সময় কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে ত্বকের বিবর্ণ ভাব এড়িয়ে চলা যায়।

ইফতারি মানেই ভাজাপোড়া, প্রচলিত এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করুনমডেল: জেনিফার। ছবি: সুমন ইউসুফ

ইফতারে যা খাবেন

সুষম খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। কিছু ফল, যেমন খেজুর, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি; এগুলোতে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম আছে। এগুলো ত্বক ভালো রাখে।

ইফতার থেকে শুরু করে সাহ্‌রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি (ছয় থেকে আট গ্লাস) খান। একবারে বেশি পানি পান না করে, দু–এক ঘণ্টা পরপর পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

পানি ছাড়াও পানিজাতীয় তরল খাবার, যেমন শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস, দুধ ও স্যুপ–জাতীয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। এগুলো ত্বককে পানিশূন্য হতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুন

কাজুবাদাম বা বাদামজাতীয় খাবার রাখুন। কারণ, এসব খাবারে প্রচুর আমিষ, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার থাকে, যা শুষ্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে সাহায্য করে।

তরমুজ, পাকা পেঁপে, কমলালেবু, আঙুর, কলা, অ্যাভোকাডো, শসা, গাজর, লেবু, মধু, দই, ছোলা খান। এসব খাবারও শুষ্ক ত্বকের গ্লো বা উজ্জ্বলতা ফেরাতে কাজে লাগে।

ইফতার করার পর থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় ক্যাফেইন–সমৃদ্ধ ড্রিংকস, যেমন চা, কফি কম খান। এতে অধিক ইউরিন তৈরির মাধ্যমে দিনের বেলায় শরীরে বেশি পানিশূন্যতা দেখা দেয়।

রোজাদার ব্যক্তিদের রাতের খাবারে আমিষ, যেমন মুরগির মাংস, মাছ বা ডিমের সঙ্গে টমেটো, ব্রকলি, দই, লেবু থাকা উচিত। এসব খাবার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

আরও পড়ুন

আরও কিছু বিষয়

অনেক সময় রমজান মাসে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং বিবর্ণ দেখায়। তাই ত্বক আর্দ্র রাখতে গোসলের পর অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। পানির অভাবে ঠোঁট শুকিয়ে যায় এবং ফেটে যায়; তাই ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।

ডা. লুবনা খন্দকার, সহযোগী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর–১০, ঢাকা

আরও পড়ুন