জেনে নিন আপনার জন্য আদর্শ স্ক্রিন টাইম, যা মানলে চোখসহ অন্যান্য অঙ্গ রক্ষা পাবে
লেখাপড়া, কাজ, বিনোদন থেকে শুরু করে যোগাযোগ—সবকিছুই এখন স্ক্রিননির্ভর। তবে প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ধীরে ধীরে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। হিসাব করে দেখুন আপনার দৈনিক স্ক্রিন টাইম কত, সঙ্গে জেনে নিন আদতে আপনার আদর্শ স্ক্রিন টাইম।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে
১. দিনে ২–৪ ঘণ্টা: নিরাপদ মাত্রা
কাজ ও বিনোদন—সবকিছু মিলিয়ে। তবে একটানা নয়, মাঝে বিরতি দিয়ে দিয়ে। একটানা ৩০ মিনিটের বেশি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। আর রাতে, বিশেষ করে ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম নয়। অন্ধকারেও স্ক্রিন টাইম নয়। দিনে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম চোখ ও শরীরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
২. দিনে ৪-৬ ঘণ্টা: বিপৎসীমার কাছাকাছি
চোখে চাপ পড়তে শুরু করে। দীর্ঘ মেয়াদে ঘাড়ে–পিঠে ব্যথা হতে পারে। মনোযোগ ও ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৩. দিনে ৬–৮ ঘণ্টা বা তার বেশি: ক্ষতিকর মাত্রা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতিহীন স্ক্রিন টাইমে চোখ ভীষণ শুষ্ক হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ঝাপসা দেখতে পারেন। মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, বিরক্তি—এসব এই স্ক্রিন টাইমের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ওজন বেড়ে যেতে পারে। শারীরিকভাবে আপনি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারেন।
শিশুদের ক্ষেত্রে
২ বছরের কম: স্ক্রিন, অর্থাৎ গ্যাজেট না দেওয়াই ভালো
২–৫ বছর: দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা
৬–১২ বছর: পড়াশোনার বাইরে ১ থেকে ২ ঘণ্টা
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কী ক্ষতি করে?
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে সাধারণ প্রভাব পড়ে চোখের ওপর।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের তরল শুকিয়ে যায়।
ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
পাশাপাশি একটানা বসে থাকার কারণে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ব্যথা দেখা দেয়।
স্ক্রিন টাইম বেড়ে গেলে শারীরিক চলাফেরা কমে যায়; যা ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও স্ক্রিন টাইমের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার উদ্বেগ, হতাশা, মনোযোগের ঘাটতি ও ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সংকেত পায় না। ফলে ঘুমের মান নষ্ট হয়।
চোখ ও শরীর বাঁচাতে সহজ ৪ নিয়ম
১. ২০–২০–২০–এর নিয়ম
২০ মিনিট পরপর ২০ ফুট দূরে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।
২. ঘুমের ১ ঘণ্টা আগে গ্যাজেট দূরে রাখুন
ঘুমের কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে ফোনটাকে বিদায় বলুন। বিছানায় ফোন নিয়ে যাবেন না।
৩. চোখ ও স্ক্রিনের দূরত্ব
চোখের খুব কাছে বা অন্ধকারে স্ক্রিনের দিকে তাকালে তা আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে: চোখ ও স্ক্রিনের দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার।
ট্যাবের ক্ষেত্রে: ৪০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার।
ল্যাপটপের ক্ষেত্রে: ৫০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার।
টেলিভিশনের ক্ষেত্রে: টেলিভিশনের দৈর্ঘ্যের ৩ থেকে ৫ গুণ দূরত্ব বসে দেখা উচিত। চোখ ও টেলিভিশনের স্ক্রিন একই লেভেলে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. একটানা না দেখা
মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা বা স্ট্রেচিং করুন। বিশেষ করে সবুজের দিকে তাকান। আপনার ল্যাপটপের টেবিলে একটা গাছ রাখতে পারেন। কোনোভাবেই একটানা ৩০ মিনিটের বেশি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান