যেসব জিনিস অবুঝ শিশুর নাগালের বাইরে রাখবেন
বাড়ি এক নিরাপদ আশ্রয়। তবে নিজ বাড়িতেও আকস্মিক দুর্ঘটনায় পড়তে পারে ছোট্ট শিশু; আর সেসবের জন্য দায়ী হতে পারে ঘরেরই কিছু ছোটখাটো জিনিস। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম
যেকোনো বয়সেই গলায় কিছু আটকে যেতে পারে হুট করে। কমবয়সী শিশু তার গলার ভেতরের পেশি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
খাবারের টুকরা গলায় আটকে যাওয়ার ব্যাপারে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে কম বয়সীদের এই ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। অন্য যেকোনো জিনিসও আটকে যেতে পারে শিশুর গলায়।
গলায় যেকোনো কিছু আটকে যাওয়াটা বিপজ্জনক। ছোট একটা জিনিস দিয়েই মুহূর্তের মধ্যে শ্বাসনালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। ভয়ানক শ্বাসকষ্ট হতে পারে, এমনকি হতে পারে মৃত্যুও। গলায় কোনো কিছু আটকে যাওয়ার কয়েক দিন পরও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ছোট কিন্তু ভয়ংকর
ছোটখাটো জিনিস গলায় আটকে যেতে পারে সহজে। তবে অনেক সময়ই আমরা এসব জিনিসের ব্যাপারে যত্নশীল থাকি না; কিন্তু যে বাড়িতে ছোট শিশু আছে কিংবা কিছু সময়ের জন্য বেড়াতে এসেছে, সেই বাড়িতে ছোটখাটো জিনিসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
ছোট শিশুর পক্ষে মুখে নেওয়া সম্ভব, এমন যেকোনো জিনিসই তার জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। হোক তা ফলের বীজ, বারান্দার টবে রাখা ছোট পাথর কিংবা মায়ের পোশাকের পিন।
শিশুকে নিরাপদ রাখতে
শিশুকে খাবার দিন তার বয়স এবং খাবার গলাধঃকরণের সক্ষমতা অনুযায়ী।
ছয় মাস বয়সে খাবার নরম করে চটকে দিন। প্রয়োজনে সেদ্ধ করে নিন।
চিবিয়ে খেতে শেখার পরও নরম করে খাবার দিন।
দুই বছর পার হলে মাংস বা ফলের টুকরা দেওয়া যায়। তবে লম্বা ধরনের টুকরা করা ভালো, যা শিশু হাতে নিয়ে অল্প করে খেতে পারে।
পাঁচ বছর বয়স পার হলে স্বাভাবিকভাবে শিশুকে সব খাবার খেতে দেওয়া যায়।
তবে বড় বীজ আছে, এমন ফল (যেমন লিচু, জাম, বরই প্রভৃতি) পুরোটা মুখে ঢোকাতে দেবেন না কোনো বয়সেই।
ছোট বীজযুক্ত ফল (আপেল, কমলা, ডালিম, কলা প্রভৃতি) খাওয়ানোর সময়ও সতর্ক থাকুন। ছোট বীজ ফেলে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কোনো বয়সেই মুখভর্তি করে খাবার নিতে দেবেন না শিশুকে। খাওয়া শেখার সময় থেকেই অল্প অল্প করে খাবার মুখে নিয়ে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে খাওয়ার প্রতি মনোযোগী হতে শেখান। খাওয়ার সময় ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে বিরত রাখুন।
কোনো বয়সেই খাবার মুখে নিয়ে কথা বলা, হাসাহাসি বা কান্নাকাটি করা উচিত নয়।
পাঁচ বছর বয়সের আগে শিশুকে বাদাম, লজেন্স, ক্যান্ডি বা ললিপপ–জাতীয় খাবার দেবেন না।
শিশুর বয়সের উপযোগী খেলনা দিন। খেলনার ছোট অংশ কিংবা ভাঙা অংশও মুখে নিয়ে ফেলতে পারে। বড় ভাইবোনের খেলনায় এমন অংশ থাকলে তা ছোট শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।
অবুঝ শিশু বাড়িতে থাকলে টবে পাথর বা মার্বেল দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের চেষ্টা না করাই ভালো।
যেসব জিনিস অবুঝ শিশুর নাগালের বাইরে রাখবেন
মার্বেল
নুড়িপাথর
পিন
ধাতব মুদ্রা
ঘড়ির ছোট ব্যাটারি
ছোট চুম্বক
বোতাম–জাতীয় যেকোনো জিনিস
যেকোনো ওষুধ
ডিশওয়াশিং লিকুইড
বাথরুম ক্লিনার
গ্লাস ক্লিনার
প্রাণিখাদ্য ইত্যাদি