আপনার মাথাব্যথা কি সত্যিই মাইগ্রেন
মাথাব্যথা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু যখনই তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, তখনই আমরা অনেকেই ধরে নিই, এটি ‘মাইগ্রেন’। তবে এমন কিছু রোগ আছে, যার উপসর্গ হুবহু মাইগ্রেনের মতো। এ ধরনের সমস্যা রোগীকে তো বটেই, অনেক সময় চিকিৎসকদেরও বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয়, ‘মাইগ্রেন মিমিকস’।
মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ হলো, মাথার একপাশে দপদপ করা ব্যথা, আলো বা শব্দে অস্বস্তি এবং বমি বমি ভাব।
কিন্তু নিচের সমস্যাগুলো মাইগ্রেনের ছদ্মবেশে আসতে পারে—
টেনশন হেডেক: এটি সবচেয়ে সাধারণ। এতে মাথার দুই পাশে প্রচণ্ড চাপ অনুভব হয়, যা অনেকে মাইগ্রেন বলে ভুল করেন।
সাইনাস ইনফেকশন: সাইনাসের কারণে কপালে বা গালে যে ব্যথা হয়, তার সঙ্গে মাইগ্রেনের উপসর্গের বেশ মিল আছে।
হেমোরেজিক স্ট্রোক: হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা (যাকে ‘থান্ডার ক্ল্যাপ’ হেডেক বলা হয়) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সংকেত হতে পারে। এটি মাইগ্রেনের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক।
নিউরালজিয়া: মাইগ্রেনের মতোই মাথার একপাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, সঙ্গে মুখের বা চোয়ালের একপাশে ব্যথা থাকে।
ব্রেন টিউমার: যদিও এটি বিরল, তবে নিয়মিত মাথাব্যথার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি পরিবর্তন বা ভারসাম্যহীনতা থাকলে তা টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
চোখের সমস্যা: গ্লুকোমা বা চোখের পাওয়ারের পরিবর্তনের কারণেও মাইগ্রেনের মতো ব্যথা হতে পারে।
জায়ান্ট সেল আর্টারাইটিস: নামটা কঠিন, কিন্তু এটি নার্ভের নয়; বরং শিরার একধরনের অসুখ। এই অসুখে শিরায় ক্ষত হয়ে মাথাব্যথা হয়। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়।
মেনিনজাইটিস: এটি একধরনের মস্তিষ্কের সংক্রমণ। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা যক্ষ্মা রোগে হয়ে থাকে। মাথাব্যথার সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
ইপিলেপ্সি: অক্সিপিটাল লোব ইপিলেপ্সি বা খিঁচুনিতে মাইগ্রেনের মতো অনুভূতি হয়, যা অনেক সময় মাইগ্রেন বলে মনে হয়।
কখন সাবধান হতে হবে
সব মাথাব্যথাকে মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। যদি ব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে যায়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
যদি ব্যথা হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর মতো তীব্র বা ‘থান্ডার ক্ল্যাপ’ হেডেক হয়।
ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে।
৫০ বছর বয়সের পর প্রথমবার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে।
ব্যথার তীব্রতা যদি সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং সাধারণ ওষুধে না কমে।
প্রতিকার ও সচেতনতা
রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়ার ফলে সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা থাকলে নিজে নিজে ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে একজন নিউরোলজিস্টের বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটি ‘হেডেক ডায়েরি’ তৈরি করুন, যেখানে কখন ব্যথা শুরু হচ্ছে এবং কী খেলে বা কী করলে বাড়ছে, তা লিখে রাখুন। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ শনাক্ত করাই যন্ত্রণামুক্ত জীবনের চাবিকাঠি।