উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে ৭ ভুল ধারণা
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপে ভোগা প্রায় অর্ধেক মানুষই জানেন না যে তাঁরা এ রোগে আক্রান্ত। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ফলে রোগটি অজানাই থেকে যায়। আমাদের সমাজে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রতিবছরের ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ’।
ভুল ধারণাগুলো কী
১. উচ্চ রক্তচাপ শুধু বয়স্কদের রোগ: এটি ভুল। বর্তমানে তরুণ-যুবকদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এর বড় কারণ।
২. বয়স বাড়লে রক্তচাপ বাড়া স্বাভাবিক: এ ধারণাও সঠিক নয়। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কারও রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০ মিমি পারদ) ছাড়িয়ে গেলে তা গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।
৩. উপসর্গ না থাকলে রক্তচাপ নেই: উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি শরীরের ক্ষতি করে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
৪. রক্তচাপ স্বাভাবিক হলে ওষুধ বন্ধ করা যাবে: এটি বিপজ্জনক অভ্যাস। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করলে রক্তচাপ আবার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যেতে পারে।
৫. ডিম, দুধ ও মাংস খাওয়া বারণ: মূল সমস্যা অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার। উচ্চ রক্তচাপে প্রতিদিন কুসুমসহ একটি ডিম, এক কাপ সরবিহীন দুধ ও মুরগির মাংস খাওয়া যেতে পারে। এমনকি মাসে দু-একবার চর্বিহীন খাসি বা গরুর মাংসও সীমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। তবে লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব কমাতে হবে।
৬. লবণ ভেজে খাওয়া যায়: অনেকে মনে করেন, কাঁচা লবণ না খেলে সমস্যা নেই; তাই লবণ ভেজে খান বা রান্নায় লবণের পরিমাণ বাড়ান। কিন্তু লবণ কাঁচা হোক বা ভাজা—অতিরিক্ত গ্রহণ একইভাবে ক্ষতিকর। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়।
৭. তেঁতুল বা টক খেলে রক্তচাপ কমে: এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; বরং লবণসহ এসব খেলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। অ্যাসিডিটি হয়ে অস্বস্তি হতে পারে।
মনে রাখবেন অন্যের পরামর্শে বা নিজের ইচ্ছায় ওষুধ শুরু বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন—তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আসুন নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণ করি।
ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, সহকারী অধ্যাপক, হৃদ্রোগ বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা