সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার কি ঠিক, ঝুঁকিগুলো কী

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এগুলো ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্যছবি: পেক্সেলস

আজকাল চেহারার বলিরেখা দূর করতে বা ত্বককে আকর্ষণীয় করতে বোটক্স ও ডার্মাল ফিলার অনেক ব্যবহৃত হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এগুলো ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্য। যথাযথ সতর্কতা না থাকলে এসব প্রক্রিয়া স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় বাড়তি ঝুঁকি

সবার শরীরে এই ইনজেকশন একইভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে যাঁদের নির্দিষ্ট কিছু দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি দেখা দেয়। যেমন—
ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড: যাঁদের টাইপ–১ ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তাঁদের ইনজেকশনের পর বমি বমি ভাব ও ত্বকে অতিরিক্ত ফোলাভাব হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অটোইমিউন ডিজিজ: লুপাস ও অন্যান্য অটোইমিউন ডিজিজ থাকলে এ ধরনের ইনজেকশনে জটিলতা বেশি হয়।
উদ্বেগ ও মানসিক স্বাস্থ্য: উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে ইনজেকশনের স্থানে দীর্ঘক্ষণ ব্যথা ও কালশিটে পড়ার প্রবণতা থাকে।

আরও পড়ুন

সংক্রমণ: শরীরের অন্য কোনো জায়গায় সংক্রমণ বা ইনফেকশন (যেমন: সাইনাস, দাঁতের ব্যথা বা প্রস্রাবের ইনফেকশন) থাকলে সেই জীবাণু রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ইনজেকশনের স্থানে পৌঁছে পুঁজ বা ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

বোটক্স ও ফিলারের সম্ভাব্য জটিলতা

বোটক্স: এটি মাংসপেশিকে শিথিল করে। তবে ভুল প্রয়োগে চোখের পাতা ঝুলে পড়া বা টোসিস, ভ্রুর অসমতা, এমনকি মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে এটি শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে অসুবিধাও তৈরি করতে পারে।
ডার্মাল ফিলার: ফিলারের বড় ঝুঁকি হলো ‘ভাস্কুলার অক্লুশন’ বা রক্তনালি বন্ধ হওয়া। যদি ফিলার উপাদান কোনো ধমনিতে ঢুকে যায়, তবে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট অংশের চামড়া পচে যেতে পারে। চোখের চারপাশের ধমনি আক্রান্ত হলে স্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আরও পড়ুন

ইনজেকশনের আগে ও পরে করণীয়

নিরাপদ ফলাফলের জন্য বিশেষজ্ঞদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মেনে চলা জরুরি—
সময়ের ব্যবধান: কোনো টিকা নেওয়া বা ডেন্টাল চেকআপের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বা পরে ইনজেকশন নেওয়া উচিত। এ ছাড়া বোটক্স ও ফিলার একই দিনে না নিয়ে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নেওয়া ভালো।
ওষুধের সতর্কতা: অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে ইনজেকশনের স্থানে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো এক সপ্তাহ আগে বন্ধ রাখা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্নতা: ইনজেকশনের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মুখে মেকআপ বা লিপস্টিক ব্যবহার না করা এবং হাত দিয়ে না ঘষাই শ্রেয়।
কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যাবেন
ইনজেকশন নেওয়ার পর যদি নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি করা উচিত নয়—
১. ইনজেকশনের স্থানে অসহ্য ব্যথা ও চামড়া সাদাটে বা নীলচে হয়ে যাওয়া।
২. হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা।
৩. শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা সারা শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেওয়া।
কসমেটিক ইনজেকশন নেওয়ার জন্য সৌন্দর্যবর্ধনকারীর কাছে না গিয়ে অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের শরণাপন্ন হোন। মনে রাখবেন, সঠিক রোগনির্ণয় ও বিশেষজ্ঞের হাতের স্পর্শই আপনার সৌন্দর্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।

লেখক: ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।