বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমানোর উপায়

অনেক চেষ্টা করেও খাওয়ার পরিমাণ কমাতে পারছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু ওজন কমাতে হলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। সুস্থতার চর্চা করতে হলে আপনার যখন যা মনে চায়, সেটাই খেয়ে ফেলতে পারবেন না। কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন নিজেকে? কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক।

ওজন কমাতে হলে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করতেই হবেছবি: পেক্সেলস

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকবেন না

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, অর্থাৎ দিনের একটা লম্বা সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস করার মাধ্যমে অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে মনে রাখতে হবে, ওজন কমানোর সব উপায় সবার উপযোগী নয়। অনেকেই ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না। আর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অ্যাসিডিটিতেও ভোগেন অনেকে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ক্ষুধার্ত অবস্থায় অনেক বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে বহু মানুষের মধ্যে। অস্বাস্থ্যকর খাবারও খেয়ে ফেলেন অনেকে। তাই সারা দিনে ভাগে ভাগে নানান রকম খাবার খাওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। আর কয়েক মাস ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতো খাদ্যাভ্যাস মেনে চললেও তা বছরজুড়ে চালিয়ে না যাওয়াই ভালো।

নিজেকে ‘শাস্তি’ দেবেন না

আপনি হয়তো পিৎজা কিংবা বিরিয়ানি খেতে ভালোবাসেন। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রিয় খাবারটাকে বাদ দিয়েছেন খাদ্যতালিকা থেকে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে নিজেকে বঞ্চিত রাখতে গিয়ে বিষয়টাকে ‘শাস্তি’র পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না যেন।
রসনার তৃপ্তি থেকে জোর করে নিজেকে বঞ্চিত করা হলে আপনি সুস্বাদু কিন্তু অস্বাস্থ্যকর যেকোনো খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন অনেক বেশি পরিমাণে। তাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করলেও খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখুন। প্রিয় খাবার অল্প পরিমাণে গ্রহণ করুন মাঝেমধ্যে।

খাবার খাওয়ার সময় অন্যদিকে মন দেবেন না
মডেল: হৃদি, ছবি: অধুনা

মনোযোগ দিয়ে খান

খাবারের স্বাদ অনুভব করুন। খাবার খাওয়ার সময় অন্যদিকে মন দেবেন না। টেলিভিশন, মুঠোফোন বা কোনো ডিজিটাল পর্দা সামনে রেখে খাবেন না।
সব সময় ধীরেসুস্থে চিবিয়ে খাবার খেতে চেষ্টা করুন। চামচ দিয়ে খাবার খেলে খাবার চিবানোর সময় সেটি প্লেটে রেখে দিতে পারেন। এ রকম উপায়ে খাওয়ার গতি কমানো সহজ হবে।

এমন খাবার বেছে নিন, যা হজম হতে সময় লাগে

আঁশসমৃদ্ধ খাবার খান পর্যাপ্ত পরিমাণে। লাল চাল, লাল আটা, যব, ওটস, কিনোয়া প্রভৃতি গোটা শস্য রাখুন খাদ্যতালিকায়। রিফাইনড বা পরিশোধিত শস্যদানা এড়িয়ে চলুন। অল্প পরিমাণে হলেও আমিষ রাখুন তিন বেলার খাবারেই, তা সে প্রাণিজ আমিষ হোক কিংবা উদ্ভিজ্জ।

সঠিক পরিকল্পনা করুন

অনেক সময় কেবল ‘এখন না খেলে খাবারটা বাসি হয়ে যাবে’ এই ভাবনা থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন কেউ কেউ। তাই খাবার তৈরি করুন পরিমিত পরিমাণে। যতটা প্রয়োজন, কেবল ততটাই।
বাজার করার আগেই দেখে নেওয়া উচিত, ঠিক কোন কোন জিনিস কিনতে হবে। রান্নার উপকরণ অতিরিক্ত না কেনাই ভালো। তা ছাড়া কোন জিনিসটি কত দিন ভালো থাকবে, সেটিও মাথায় রাখুন। যেমন সহজে পচে যেতে পারে, এমন সবজি আগেই রান্না করে ফেলুন। এ ধরনের জিনিস বেশি পরিমাণে কিনবেন না।
সুযোগ থাকলে খাবার সংরক্ষণ করুন। তবে সংরক্ষণটা হতে হবে নিরাপদ উপায়ে। এক বেলার বা এক দিনের খাবারের কিছু অংশ বেঁচে গেলে তা কীভাবে অন্য এক বেলার খাবারের উৎস হয়ে উঠতে পারে, এ ব্যাপারটিও ভেবে দেখতে পারেন। তাহলে এক বেলায় অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বাঁচবেন আপনি।

সূত্র: ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন