শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হয় কেন

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে সবাই আতঙ্কিত হন। ধারণা করা হয়, নিশ্চয় মস্তিষ্কের কোনো জটিল রোগের লক্ষণ। কিন্তু ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি মস্তিষ্কের কোনো বড় রোগ ছাড়াও হতে পারে, যেটাকে বলা হয় ‘ফেব্রাইল সিজার’। এ ছাড়া আরও অনেক কারণে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে, যেমন মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস, মস্তিষ্কে যক্ষ্মা ও মস্তিষ্কে পুঁজ বা ব্রেইন অ্যাবসেস।

হরমোনের তারতম্য হলেও শিশুর খিঁচুনি হতে পারেছবি: পেক্সেলস

ফেব্রাইল সিজার কম বয়সী শিশুদের হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে রোগীর খিঁচুনি দেখা দেয়। কিছু জেনেটিক কারণ এবং বাচ্চার মস্তিষ্ক পরিণত না হওয়ায় এটি হয়ে থাকে।

ফেব্রাইল সিজার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় হলে থাকে না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃগীরোগে পরিবর্তিত হতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস রোগে জ্বর ও খিঁচুনির সঙ্গে চেতনা হারিয়ে ফেলতে পারে রোগী।

যক্ষ্মা অনেক সময় মস্তিষ্ককেও আক্রান্ত করতে পারে। একে ‘সিএনএস টিবি’ বলে। পরিবারের কেউ বা নিকটাত্মীয় কারও এই রোগ থাকলে তাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বাচ্চাদের কানপাকা রোগ থাকলে তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একে ‘ব্রেইন অ্যাবসেস’ বলে।

আরও পড়ুন

পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

ফেব্রাইল সিজার রোগীর ইতিহাস শুনেই ডায়াগনোসিস করতে হয়। তেমন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ইইজি পরীক্ষা করা যেতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ নির্ণয়ে এমআরআই করা হয়।

জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রোগীকে বাঁ কাত করে শুইয়ে দেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি নিজে থেকেই থেমে যায়। তাই রোগীকে নিরাপদ রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মুখে চামচ বা অন্য কোনো কিছু দেবেন না।

এটা ভেঙে গিয়ে শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য শরীর স্পঞ্জ করা যেতে পারে। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটর মলদ্বারে দিতে পারেন। খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন

ফেব্রাইল সিজারের শিশুকে পরবর্তী সময়ে অল্প জ্বর এলেই (৫-৭) দিনের জন্য প্যারাসিটামল ও ডায়াজিপাম–জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনির কারণ যদি মস্তিষ্কে প্রদাহ, টিবি বা ব্রেইন অ্যাবসেস রোগ হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. নাজমুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল, ঢাকা

আরও পড়ুন