ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে কী হয়
ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি কমে গেলেও যেমন বিপদ, তেমনি বেড়ে গেলেও তৈরি করে শারীরিক সংকট। রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বলে হাইপার ক্যালসেমিয়া।
রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে বা হাইপার ক্যালসেমিয়া হলে সবচেয়ে ক্ষতি হয় কিডনির। ব্যাহত হয় কিডনির কার্যক্রম।
কিডনিতে যেসব সমস্যা দেখা দেয়
কিডনিতে বারবার পাথর হওয়া বা কিডনি ও পিত্তথলিতে একই সঙ্গে পাথর হওয়া। এর পেছনে প্যারাথাইরয়েড হরমোনের আধিক্য দায়ী হতে পারে, যা রক্তে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়।
কিডনিতে ক্যালসিয়ামের দানা জমা হওয়া, যাকে বলে নেফ্রোক্যালসিনোসিস।
কিডনি বিকল (ফেইলিউর) বা কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দেওয়া।
প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
বেশি বেশি তৃষ্ণা লাগা বা পিপাসা অনুভব করা।
আরও যেসব সমস্যা হয়
শরীরে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে যেসব সমস্যা হয়—
পেটে ব্যথা
বমি
ক্ষুধামান্দ্য
পেপটিক আলসার
প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ
কোষ্ঠকাঠিন্য
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রক্তের ক্যালসিয়াম আসে হাড় থেকে। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। দেখা দিতে পারে হাড় ক্ষয়, হাড় ও মাংসে ব্যথা, হাড়ের ভেতর সিস্ট, হাড় ভেঙে পড়া ও মাংসপেশির দুর্বলতা।
ক্যালসিয়ামের আধিক্য মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। ফলে দেখা দেয় দুর্বলতা, বিষণ্নতা, স্মৃতিভ্রম, মনঃসংযোগে ঘাটতি, মূর্ছা যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়া ও তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবের মতো সমস্যা।
এ ছাড়া ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে হৃৎস্পন্দন এলোমেলো হতে পারে। বুক ধড়ফড় করতে পারে। হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কেন বেড়ে যায় ক্যালসিয়াম
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির এডেনোমা বা টিউমার হলে প্যারাথাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়।
কিডনি ফেইলিউর থাকলে প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।
ভিটামিন-ডি অথবা ভিটামিন এ-এর আধিক্য।
ক্যানসার (বিশেষত মাল্টিপল মায়োলোমা, লিম্ফোমা, ফুসফুস, কিডনি ও স্তন ক্যানসার)।
পারিবারিক বা জিনগত কারণ।
সারকয়ডোসিস নামক রোগ।
থাইরয়েডের হরমোন বৃদ্ধি।
এড্রেনাল হরমোনের ঘাটতি।
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
শেষ কথা
অতিমাত্রায় ক্যালসিয়াম বৃদ্ধি একটি গুরুতর অবস্থা। এটা একটা মেডিকেলে ইমার্জেন্সি। এতে অনেক অঙ্গ একসঙ্গে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
এ জন্য ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে পরামর্শ নিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের। কারণ জেনে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
দ্রুত ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমানোর চিকিৎসা আছে। এরপর কারণ বুঝে তার চিকিৎসা করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভাইজার, স্পেশালিস্ট মেডিসিন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকা; চেম্বার: ইবনে সিনা, মিরপুর, ঢাকা