৫০ পার করেও যেভাবে তারুণ্য ধরে রাখেন কিছু মানুষ

চাইলে ৫০ বছর বয়সে আপনিও ধরে রাখতে পারেন তারুণ্য
ছবি: নকশা

কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা বয়স ৫০ পার হওয়ার পরই গা ছেড়ে দেন। ৩০ সেকেন্ড দৌড়ালেই তাঁদের মনে হয় শরীর ভেঙে পড়ছে। ছয়-সাতটার বেশি পুশআপ দেওয়াই তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। ‘বয়স হয়ে যাচ্ছে,’ ধরে নিয়ে বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই মেন নেন তাঁরা। কিন্তু কিছু মানুষ এটাকে মেনে নেন না। তাঁরা বুঝতে পারেন, এখন দরকার একটি ‘রিবুট পিরিয়ড’, শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া। নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া, ধৈর্য আর নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শরীরের সক্ষমতা বদলাতে হবে।

একসময় সেই মানুষই কুপার টেস্টে ১২ মিনিটে ১ থেকে দেড় মাইলের বেশি দৌড়াতে পারেন, টানা ৬০টি পুশআপ দিতে পারেন, এমনকি এক পায়ে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট ভারসাম্যও ধরে রাখতে পারেন। ৫০ বছর বয়সেও ৩০ বছরের মতো ফিট থাকেন। এটা কীভাবে করা যায়, চলুন জেনে নিই।

আরও পড়ুন
৫০ বছর বয়সেও অনেককেই তরুণদের মতো ফিট থাকতে দেখা যায়
ছবি: কবির হোসেন

এ জন্য প্রথমেই জৈবিক বয়স সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। জৈবিক বয়স হলো আপনার শরীর বাস্তবে কতটা সুস্থ ও কার্যকর অবস্থায় আছে, সেটির হিসাব। এটি আপনার জন্মসনদে লেখা কোনো বয়স নয়। বরং আপনার কোষ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থাগুলো কতটা ‘যুবক’ বা ‘বৃদ্ধ’—তার একটি সামগ্রিক পরিমাপ। একজন মানুষের বয়স কাগজে-কলমে ৫০ হতে পারে, কিন্তু তাঁর জৈবিক বয়স হতে পারে ৩৫। আবার কারও বয়স ৩০ হলেও শরীরের অবস্থা হতে পারে ৪৫ বছরের মতো।
ঘরে বসেই কীভাবে নিজের জৈবিক বয়স বুঝবেন
এটা জানার জন্য আপনাকে বিজ্ঞানী হতে হবে না। কয়েকটি সহজ পরীক্ষাই যথেষ্ট—
১. বিশ্রামকালীন হার্ট রেট
ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়ার আগে এক মিনিট পালস মেপে দেখুন। পালস যদি ৬০ বিপিএমের নিচে হয়, তাহলে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো অবস্থায় আছে।
২. নমনীয়তা পরীক্ষা
মেঝেতে বসে দুই পা সোজা করে রাখুন। এবার ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে পায়ের আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। যদি সহজে আঙুল ছুঁতে পারেন, তাহলে বুঝবেন আপনার মেরুদণ্ড ও পেশি ভালো অবস্থায় আছে।
৩. ভারসাম্য পরীক্ষা
চোখ বন্ধ করে এক পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। যদি ৩০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তাহলে আপনার ভারসাম্য খুব ভালো। ভালো ভারসাম্য মানে স্নায়ু, পেশি ও মস্তিষ্ক একসঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করছে।
৪. শক্তি পরীক্ষা
টানা কতটি পুশআপ দিতে পারছেন, সেটি আপনার শরীরের শক্তির একটি সহজ মাপকাঠি। ৫০ বছরের বেশি বয়সে যদি ২৫ থেকে ৩০টি পুশআপ দিতে পারেন, তাহলে সেটিকে ভালো ফল ধরা হয়।

আরও পড়ুন
৮৪ বছর বয়সেও দিলারা জামান নতুন কিছু আগ্রহ নিয়ে শিখেন
ছবি: প্রথম আলো

যেভাবে নিজের মানসিক বয়স যাচাই করবেন


আপনার মানসিক বয়স বোঝার জন্য কিছু সহজ প্রক্রিয়া আছে। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনার মানসিক বয়স সম্ভবত আপনার প্রকৃত বয়সের চেয়ে অনেক কম।
১. অবিরাম শেখার আগ্রহ: আপনি নতুন কোনো বিষয় পুরোপুরি শিখেছেন? অজানা বিষয়গুলোতে কি আপনি উৎসাহের সঙ্গে প্রবেশ করেন? নতুন প্রযুক্তিতে কি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন?
২. সমস্যা সমাধান: লজিক গেম, ধাঁধা উপভোগ করেন কি? জটিল সমস্যার সৃজনশীল সমাধান খুঁজে বের করতে পারেন কি? মানসিক চ্যালেঞ্জ কি আপনাকে উদ্দীপিত করে?
৩. মস্তিষ্কের নমনীয়তা: নতুন প্রমাণ বা তথ্য পেলে কি আপনি আপনার মতামত বদলাতে পারেন? দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনে কি সহজে মানিয়ে নিতে পারেন? বিভিন্ন পরিস্থিতিকে কি একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারেন?

যদি ওপরের সব প্রশ্নের উত্তর হয় ‘হ্যাঁ’, তবে আপনার মানসিক বয়স এখনো আপনার প্রকৃত বয়সের চেয়ে অনেক কম।

সূত্র: মিডিয়াম

আরও পড়ুন