চোখের পাতা কেন লাফায় এবং কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, চোখের পাতা লাফালে বুঝি কোনো অমঙ্গল হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর সঙ্গে ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। চোখের পাতা লাফানো মূলত চোখের চারপাশের সূক্ষ্ম পেশিগুলোর অনৈচ্ছিক সংকোচন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘মায়োকাইমিয়া’। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক এবং ক্ষতিকর নয়, তবে এটি আপনার জীবনযাপনের কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।

চোখের পাতা লাফানোর সবচেয়ে বড় কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুমছবি: পেক্সেলস

চোখের পাতা লাফানোর সাধারণ কারণ

মানসিক চাপ ও ক্লান্তি: চোখের পাতা লাফানোর সবচেয়ে বড় কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম। শরীর যখন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, তখন স্নায়ুগুলো উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে চোখের পেশিতে।


চোখের ওপর বাড়তি চাপ: দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই ডিজিটাল আই স্ট্রেন থেকে চোখের পাতা লাফাতে পারে।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল: যাঁরা অতিরিক্ত চা বা কফি খান, তাঁদের এ সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ক্যাফেইন স্নায়ুকে উত্তেজিত করে তোলে, যা পেশির স্পন্দনের কারণ হয়।

চোখের শুষ্কতা: বয়সের কারণে কিংবা দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে গেলে চোখের পাতা লাফানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পুষ্টির অভাব: শরীরে ম্যাগনেশিয়াম বা ভিটামিন বি১২–এর অভাব হলে পেশিতে খিঁচুনি বা পাতা লাফানোর মতো সমস্যা হতে পারে।

যাঁরা অতিরিক্ত চা বা কফি খান, তাঁদের মায়োকাইমিয়া সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ছবি: খালেদ সরকার

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

সাধারণত কয়েক মিনিট বা কয়েক দিন পর এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • যদি চোখের পাতা লাফানো বিরতিহীনভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে।

  • যদি চোখের পাতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং তা খুলতে কষ্ট হয়।

  • যদি চোখের সঙ্গে মুখের অন্যান্য পেশিও কাঁপতে শুরু করে।

  • যদি চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে বা ফুলে ওঠে।

আরও পড়ুন

প্রতিকার ও প্রতিরোধ

চোখের পাতা লাফানো বন্ধ করতে আপনার জীবনযাত্রায় ছোট কিছু পরিবর্তন আনুন।

  • নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

  • ক্যাফেইন বা কফি খাওয়া কমিয়ে দিন।

  • দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চোখের বিশ্রাম নিন।

  • চোখের অস্বস্তি কমাতে পরিষ্কার তোয়ালেতে হালকা গরম পানি নিয়ে চোখে সেঁক দিতে পারেন, এতে পেশিগুলো শিথিল হয়।


সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, আমেরিকান অপটোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশন

আরও পড়ুন