ধোয়ামোছায় ত্বকের ক্ষতি এড়াতে যা করবেন

উৎসব–পার্বণে বিশেষ করে নারীদের রান্নাঘরে প্রচুর কাজের চাপ পড়ে। অনেক থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতে হয়। আবার কাপড় ধোয়ার কাজ বেড়ে যায়। এতে হাতের ত্বকের ক্ষতি হয় অনেক। প্রায়ই দেখা যায়, অতিরিক্ত সাবান পানি ব্যবহার করার কারণে শুষ্কতা, ত্বক ফেটে চামড়া ওঠা বা একজিমার মতো সমস্যা বেড়ে গেছে। তাই ধোয়ামোছা বা পানির কাজ যাঁদের করতে হয়, তাঁদের কিছু সতর্কতা প্রয়োজন।

ধোয়ামোছা বা পানির কাজ যাঁদের করতে হয়, তাঁদের কিছু সতর্কতা প্রয়োজনছবি: পেক্সেলস

ধোয়ামোছার সময় যা করবেন

  • খুব গরম পানি ত্বককে বেশি শুষ্ক করে দেয়। অনেকে বাসনকোসনের চর্বি ঝরাতে গরম পানি ব্যবহার করেন। কুসুম গরম পানি ভালো।

  • অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে হালকা ক্ষারযুক্ত ও ময়েশ্চারযুক্ত মৃদু ধরনের সাবান বেছে নিন।

  • অনেকেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান বা তরল, অ্যান্টিসেপটিক যেমন ডেটল, স্যাভলন ইত্যাদি ব্যবহার করেন। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। বারবার সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্ষতি করবে। তাই ব্যবহার করলেও হাতে গ্লাভস পরুন বা সরাসরি হাতে লাগাবেন না।

  • কাজ শেষে হাত পরিষ্কারের সময় মৃদু ধরনের হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করবেন। হাত ঘষা বা স্ক্রাব করা যাবে না।

  • সম্ভব হলে রান্নাঘরে ধোয়ামোছার কাজ করার সময় কিচেন গ্লাভস ব্যবহার করুন।

ধোয়ামোছার পর যা করবেন

  • হাতের কাজ শেষ করে হাত ত্বক আর্দ্র থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। যতবার হাতে সাবান পানি লাগবে, ততবারই এটা করবেন।

  • যাঁরা ধোয়ার কাজ করেন, তাঁদের জন্য লোশনের চেয়ে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট জাতীয় ময়েশ্চারাইজার ভালো। লোশনে পানি বেশি থাকে।

  • পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল, সিরামাইড ইত্যাদি উপকরণ সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার উপকারী।

  • সব কাজ শেষে হাত পরিষ্কার করে রাতে ঘুমানোর সময় পুরু ময়েশ্চারাইজার যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে যান। দরকার হলে হাতমোজা পরে নিতে পারেন, যাতে রাতে ত্বক শুকিয়ে না যায়।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

বারবার সাবান পানি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। জ্বালা করতে পারে।ফাটা জায়গায় জীবাণু প্রবেশ করে ইনফেকশন হতে পারে।

এ ছাড়া বারবার পানির সংস্পর্শে আসার কারণে আঙুলের ফাঁকে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। আবার ডিটারজেন্ট ও সাবানের সংস্পর্শে আসার কারণে ইরিটেশন ও অ্যালার্জি হতে পারে। ছোট ছোট ফুসকুড়ি, লালচে ভাব ও একজিমা দেখা দিতে পারে।

এগুলো হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। যাঁদের ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ আছে, তাঁদের এসব সমস্যা গুরুতর হতে পারে। তাঁরা সতর্ক থাকবেন।

অধ্যাপক মো. আসিফুজ্জামান, বিভাগীয় প্রধান, চর্মরোগ বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

আরও পড়ুন