পুরুষদেরও কেন স্তন ক্যানসার হয়?

পুরুষেরও যে স্তন ক্যানসার হয়, অনেকেরই তা জানা থাকে না। অনেক রোগীই তাই একেবারে জটিল পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে আসেন।

বয়স, ওজন, জিনগত রোগের মতো নানা কারণে পুরুষের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়েছবি: পেক্সেলস

হ্যাঁ, পুরুষেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার। পৃথিবীজুড়ে যত মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তাঁদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাটা এক শতাংশেরও কম। যদিও পুরুষের নারীর মতো দৃশ্যমান স্তন নেই ঠিকই, তবে প্রাকৃতিক নিয়মেই পুরুষের দেহেও স্তনের কিছু কোষ থাকে। কোনো কারণে এই কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে সেখানে চাকা বা গোটা তৈরি হয়। হতে পারে তা সাধারণ টিউমার, অল্প কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে ক্যানসারও।

কী কারণে এই অস্বাভাবিকতা ঘটতে পারে? ক্যানসার প্রতিরোধে একজন পুরুষকে কোন কোন বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে? জানতে চেয়েছিলাম স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের অনকোলোজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুনাংশু দাস এবং সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জন ডা. রেজা আহমদের কাছে।

আরও পড়ুন

যেসব কারণে পুরুষের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে

  • লিভারের রোগ: সিরোসিস বা লিভারের এমন কোনো রোগ, যাতে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় (ফলে দেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে নারী হরমোনের মাত্রা)।

  • মাদক: অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ।

  • রেডিয়েশন: বুকে বা বুকের কাছাকাছি রেডিয়েশন যেমন প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া বারবার এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই কক্ষে যাওয়া। ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওথেরাপি নেওয়ার কারণেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • নারীদেহের হরমোন: ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, যা মূলত নারীদেহের হরমোন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ করলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • ক্যানসারের ইতিহাস: রক্তের সম্পর্ক আছে, এমন যেকোনো নারী বা পুরুষের স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে।

  • কারসিনোজেনিক উপাদান: খাবারদাবার বা পরিবেশের অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে দেহে কারসিনোজেনিক উপাদান (যার প্রভাবে দেহের কোনো স্থানের কোষগুচ্ছ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে) প্রবেশ।

  • বয়স: সাধারণত ষাট-সত্তর বছর বয়সে পুরুষের স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে।

  • ওজন: অতিরিক্ত ওজন।

  • জিনগত রোগ: জিনগত রোগের কারণে দেহে নারী হরমোনের মাত্রা বেশি থাকলেও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পার

  • স্তনের জায়গাটায় চাকা বা গোটা কিংবা অস্বাভাবিক ক্ষত, যা সারে না।

  • স্তনের জায়গার ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

  • স্তনবৃন্তের (নিপল) আকৃতির পরিবর্তন বা ভেতরে ঢুকে যাওয়া।

  • স্তনবৃন্ত থেকে কোনো তরল বের হওয়া। রক্তও আসতে পারে।

  • বগলে চাকা বা গোটা।

ক্যানসার প্রতিরোধে করণীয়

ঝুঁকি থাকলেও যে আপনি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন, ব্যাপারটা তেমন নয়। আবার যেসব কারণে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, সেগুলোর সবই আপনি ইচ্ছা করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে বা বদলে ফেলতে পারবেন না। যেমন চাইলেই আপনি বয়স কমিয়ে ফেলতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

তবে সুস্থ থাকতে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন—

  • অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। ঘাম ঝরান। কর্মঠ জীবনযাপন করুন। আলস্যকে প্রশ্রয় দেবেন না।

  • রোজকার খাদ্যতালিকায় গোটা শস্যের (হোল গ্রেন) তৈরি খাবার, ফলমূল এবং শাকসবজি রাখুন ।

  • লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস, চিনি মেশানো পানীয় ও খাবার এবং অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার (আলট্রাপ্রসেসড ফুড) এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত না। কালেভদ্রে খেলেও পরিমাণ সীমিত রাখুন।

শেষ কথা

পুরুষ বা নারী যে কারও স্তনে ক্যানসার হলে তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সচেতন থাকা প্রয়োজন। ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখুন।

সুস্থ অবস্থাতেও মাঝেমধ্যে নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখুন। উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে সেরে ওঠা সম্ভব।

আরও পড়ুন