তরল ওষুধ বা প্রসাধনী ঝাঁকিয়ে না নিলে যে ক্ষতি হবে

অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন ওষুধ বা প্রসাধনের বোতল ব্যবহারের আগে ঝাঁকিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া থাকে। তবে ব্যবহারের আগে ঝাঁকিয়ে নিতে ভুলে গেলে সমস্যা কী? এতে কি শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

শিশুদের ওষুধের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন।ছবি:এআই/প্রথম আলো

ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান এ সম্পর্কে একটু সহজভাবে ব্যাখ্যা দিলেন। ধরে নেওয়া যাক, পাশাপাশি দুটি গ্লাসে পানি রাখা আছে। একটিতে আপনি মেশালেন লবণ, অন্যটাতে বালু।

ভালোভাবে মেশালে দুটি আলাদা ধরনের মিশ্রণ তৈরি হবে। লবণ মেশানো পানির পুরোটাতেই সমভাবে লবণ থাকবে। রসায়নবিদ্যার ভাষায় এটি হলো সমসত্ত্ব দ্রবণ। কিন্তু বালু মেশানো পানির বালুগুলো কিছুক্ষণ পরেই গ্লাসের নিচের দিকে জমা হবে। এটি হলো সাসপেনশন বা বিষম দ্রবণ।

আরও পড়ুন

কেন ঝাঁকানোর নির্দেশনা দেওয়া থাকে

কোনো কোনো তরল ওষুধ বা প্রসাধন মূলত এ ধরনের সাসপেনশন। অর্থাৎ, তাতে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা ওই তরলের নিচের দিকটায় জমা হয়। এই তরলগুলো ব্যবহারের আগে তাই ঝাঁকিয়ে নিতে হয়।

না ঝাঁকালে কী হবে?

না ঝাঁকিয়ে ব্যবহার করতে গেলে আপনি প্রথম দিকে শুধু ওপরের দিককার তরলটুকুই পাবেন, যাতে নিচের জমা হওয়া উপাদানগুলো নেই। আর ওই তরলটা এভাবে ব্যবহার করতে করতে একসময় বোতলের নিচে যে অংশটা থাকবে, তাতে ওই উপাদানের ঘনত্ব থাকবে অনেক বেশি। অর্থাৎ, যতটুকু অংশ আপনি ব্যবহার করবেন, তাতে ওই উপাদানটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় থাকবে না। প্রথম দিকে কম থাকবে, শেষের দিকে বেশি।

তাতে কি ক্ষতি?

আপনি যে উদ্দেশ্যে ওই সাসপেনশন–জাতীয় ওষুধ বা প্রসাধন ব্যবহার করছেন, ঝাঁকিয়ে না নিলে তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ, ঝাঁকিয়ে না নেওয়ার কারণে আপনি ওই প্রয়োজনীয় উপাদান ঠিক মাত্রায় পাচ্ছেন না। এমনকি নিচের দিকের তরল ব্যবহার করার সময় সেখানে জমা হওয়া উপাদানগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

অর্থাৎ, যে রোগের জন্য সাসপেনশন–জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে, বোতলটা না ঝাঁকিয়ে নিলে সেই রোগ নিরাময় হওয়া মুশকিল। প্রসাধনের ক্ষেত্রেও না ঝাঁকিয়ে নিলে পুরো উপকার পাবেন না। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকবে।

প্রসাধন ঝাঁকিয়ে নিতে ভুলে গেলেও ভয়ের কিছু নেই। পরেরবার থেকে আর ভুল করবেন না। কিন্তু ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, যেন কখনোই ভুল না হয়। কয়েকবার ভুল করে ফেললে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ভালো।

শিশুদের ওষুধের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারণ, শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন অনুযায়ী খুব সতর্কতার সঙ্গে ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করেন চিকিৎসকেরা। ঝাঁকিয়ে না নেওয়ার কারণে ডোজ এলোমেলো হলে জটিলতার সম্মুখীন হতে পারে শিশু।

আরও পড়ুন