গাজর যেভাবে খেলে মিলবে অধিক পুষ্টি

কেউ কেউ বলেন, গাজর কাঁচা খাওয়ার চেয়ে একটু সেদ্ধ করে বা ভাপিয়ে নেওয়া ভালো। আদতেই কি তা-ই? নাকি কাঁচা গাজরই বেশি পুষ্টিকর?

সালাদ না করেও গাজর টুকরা করে খেয়ে নেওয়া যায়
ছবি: কবির হোসেন

ইফতারে ফলমূল এবং কাঁচা সবজির সালাদ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ভাজাপোড়া খাবারের চাইতে এ ধরনের খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এমন খাবার খেলে পেট ঠান্ডা থাকে।

গাজর তেমনই এক সবজি। সালাদ না করেও গাজর টুকরা করে খেয়ে নেওয়া যায়। অনেকেই আবার কাঁচা গাজর খেতে পারেন না বলে সেদ্ধ গাজর খেয়ে থাকেন। কারণ কাঁচা গাজরের চেয়ে সেদ্ধ গাজর দ্রুত হজম হয়।
সেদ্ধ বনাম কাঁচা গাজর খাওয়ার ভালোমন্দ দিক সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান।

আরও পড়ুন
গাজর কাঁচা খেলে এতে থাকা আঁশ শরীরের কাজে লাগে
ছবি: পেক্সেলস

ভিটামিনের হিসাব-নিকাশ

গাজরে থাকে বিটা ক্যারোটিন। গাজর যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, খাওয়ার পর আমাদের দেহে এই বিটা ক্যারোটিন থেকে তৈরি হয় ভিটামিন এ। তবে গাজর যদি সেদ্ধ করে বা ভাপিয়ে নেওয়া হয়, তা থেকে ভিটামিন এ পাওয়া সহজ হয়। তবে কাঁচা খাওয়া হলেও যে ভিটামিন এ-র পরিমাণ খুব কম হয়, তা কিন্তু নয়।
অন্যদিকে, ভিটামিন সি আবার উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়। তাই গাজর কাঁচা খেলেই আপনি এর ভিটামিন সি পুরোপুরি পাবেন। সেদ্ধ বা ভাপালে ভিটামিন সি নষ্ট হবে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স

গাজর সেদ্ধ বা ভাপানো হলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেড়ে যায়। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কী, তা একটু সহজ করে বলে রাখা যাক। যেসব খাবারে শর্করা আছে, সেগুলোর শর্করা রক্তে কত দ্রুত শোষণ হবে, তার মাত্রা বোঝা যায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থেকে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ার অর্থ হলো ওই খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা তত দ্রুত বাড়বে। আর তা হুট করে কমেও যাবে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক। বিশেষত ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হলে উল্টোটা ঘটবে। অর্থাৎ যে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যত কম, তা তত বেশি স্বাস্থ্যকর। এই হিসাবে গাজর কাঁচা খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন
হজমের সমস্যার কারণে অনেকেই ভাপানো গাজর খেয়ে থাকেন
ছবি: সুমন ইউসুফ

আঁশের তফাত

গাজর কাঁচা খেলে এতে থাকা আঁশ আপনার পুরোপুরি কাজে আসবে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সহজ হবে। রমজান মাসে ভুল খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়ার কারণে কেউ কেউ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই এই সময় আপনি কাঁচা গাজর খেতে পারেন।
পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করা হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসবে আঁশ। তবে সেদ্ধ করলে বা ভাপিয়ে নিলে আঁশের কার্যকারিতা তুলনামূলক কম হবে।

শেষ কথা

সব বিচারে গাজর কাঁচা খাওয়াই ভালো। তবে কাঁচা গাজর হজমে কারও কারও সমস্যা। তাই কাঁচা না খেয়ে অন্যভাবে খেলে যদি স্বস্তি পান, তবে সেটিই করুন। আর সেদ্ধ করতে গিয়ে ভিটামিন সি যদিও হারিয়ে যায়, তাতে বিশাল কোনো ক্ষতি নেই। কোনো টক ফল কাঁচা খেয়ে নিলেই ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে নিতে পারবেন।

একইভাবে আঁশসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার থেকে পূরণ করতে পারবেন আঁশের চাহিদা।
তবে ডায়াবেটিস থাকলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের বিষয়টি একটু খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তবে তার মানে এটাও নয় যে আপনি সেদ্ধ, ভাপানো বা রান্না করা গাজর খেতেই পারবেন না। যেকোনোভাবেই হোক, খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর এই খাবার রাখুন।

আরও পড়ুন