রোজায় পিপাসা কমাতে ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত যেভাবে পানি খাবেন
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই রোজার এই সময়ে ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত সঠিকভাবে পানি পান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বিরতিতে পান করা ভালো।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে দুই থেকে আড়াই লিটার পানি প্রয়োজন। রোজার মাসে এই পরিমাণ পানি ইফতার থেকে সাহ্রির মধ্যে ভাগ করে নিতে হবে। একবারে অনেক বেশি পানি পান না করে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বিরতিতে পান করাই উত্তম।
ইফতারে শুরুটা হোক সঠিকভাবে
ইফতারের সময় দীর্ঘ উপবাসের পর শরীর দ্রুত পানি শোষণ করে। তাই শুরুতেই এক থেকে দুই গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। খুব ঠান্ডা পানি একসঙ্গে বেশি পান করলে অস্বস্তি হতে পারে। চাইলে লেবু মেশানো পানি বা প্রাকৃতিক ফলের শরবত খেতে পারেন, তবে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলাই ভালো।
ইফতার ও রাতের খাবারের মাঝের সময়
ইফতার ও রাতের খাবারের মাঝখানে দুই থেকে তিন গ্লাস পানি ধীরে ধীরে পান করুন। রাতের খাবারের পর ও ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত আরও এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। একবারে বেশি না খেয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পরপর অল্প অল্প করে পানি পান করলে শরীর ভালোভাবে তা ব্যবহার করতে পারে।
সাহ্রিতে কীভাবে পানি খাবেন
সাহ্রির সময় অন্তত দুই গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত পানি পান না করে খাবারের সঙ্গে এবং খাবারের পর কিছুটা বিরতি দিয়ে পানি পান করুন। এতে পেট ভারী লাগবে না এবং শরীরও ধীরে ধীরে পানি শোষণ করতে পারবে।
যেসব পানীয় এড়িয়ে চলবেন
চা, কফি ও কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন বা অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা শরীর থেকে পানি বের করে দিতে পারে। তাই রোজার মাসে এসব পানীয় সীমিত রাখা ভালো। অতিরিক্ত লবণাক্ত ও ঝাল খাবারও পিপাসা বাড়ায়, তাই খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য রাখা জরুরি।
পানিসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন
তরমুজ, শসা, কমলা, টমেটো ইত্যাদি পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়। সাহ্রিতে দই বা তরলজাতীয় হালকা খাবারও উপকারী হতে পারে।
একটি সহজ বণ্টন পরিকল্পনা
৮ গ্লাস পানির একটি সহজ বণ্টন হতে পারে এভাবে—
ইফতারে: ২ গ্লাস
ইফতার ও রাতের খাবারের মাঝে: ২ গ্লাস
রাতের খাবারের পর: ২ গ্লাস
সাহ্রিতে: ২ গ্লাস
পরিকল্পিতভাবে পানি পান করলে দিনের বেলায় পিপাসা কম অনুভূত হবে, মাথাব্যথা বা দুর্বলতাও কম হতে পারে। মনে রাখবেন, একবারে বেশি নয়; বরং নিয়মিত বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি পানই হলো সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক রোজার চাবিকাঠি।