স্তনে চাকা হওয়ার কিছু কারণ, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ব্রেস্ট লাম্প বা স্তনে চাকা অনুভূত হওয়া একটি শঙ্কার বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে স্তনে চাকা মানেই ক্যানসার নয়। বিভিন্ন কারণে চাকা হতে পারে।

ব্রেস্ট লাম্প বা স্তনে চাকা অনুভূত হওয়া একটি শঙ্কার বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে স্তনে চাকা মানেই ক্যানসার নয়ছবি: পেক্সেলস

চাকা হওয়ার কিছু কারণ

ফাইব্রোএডিনোসিস: সাধারণত ২৫-৪০ বছর বয়সে হয়। এর কারণে মাসিকের আগে বুকে চাকা চাকা এবং ব্যথা অনুভব হয়, যা মাসিক হওয়ার পর কমে যায়।

ফাইব্রোএডিনোমা: ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সে বেশি হয়। হঠাৎ বুকে এই চাকা ধরা পড়ে, যা সহজেই নড়াচড়া করে এবং ব্যথাহীন হয়। এ কারণে এ ধরনের চাকাকে ব্রেস্ট মাউস বলা হয়। আকার ছোট হলে আপনাআপনি মিলিয়ে যেতে পারে। তবে বড় হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রেস্ট সিস্ট: সিস্ট হচ্ছে পানিভর্তি টিউমার। এগুলো যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে নারীদের মাসিকের আগে বেশি হয়। সিস্টগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়। আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে নিডেল দিয়ে এটি অপসারণ করা হয়।

ব্রেস্ট অ্যাবসেস বা ইনফেকশন: এটা স্তন্যদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। ব্যাকটেরিয়া আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বিশেষ করে ক্রাক নিপল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে পুঁজ তৈরি করে। এটি খুব ব্যথা করে। চিকিৎসা হিসেবে ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, গরম কম্প্রেশন দেওয়া হয়। পুঁজ বা অ্যাবসেস বড় হলে নালি তৈরি করে নিয়মিত ড্রেসিংয়ের দরকার হয়।

ফ্যাট নেক্রোসিস: কোনো কারণে স্তন আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর ফ্যাটি টিস্যু থেকে চাকা তৈরি হয়। এগুলো সাধারণত ধীরে ধীরে অপসারিত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের দরকার হয়।

লাইপোমা: এটা ফ্যাটি টিস্যুর টিউমার। আকার বড় হলে অপসারণ করা লাগে। তা না হলে তেমন কিছু লাগে না।

ব্রেস্ট ক্যানসার: স্তনে চাকার একটি কারণ হচ্ছে ক্যানসার। অন্যান্য চাকার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো এটি সহজে নড়াচড়া করানো যায় না। উপরিভাগ অমসৃণ ও সাধারণত ব্যথাহীন হয়ে থাকে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

বিশেষ করে চাকাটি যদি মাসিক হওয়ার পরও মিলিয়ে না যায়। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে অথবা ব্যথা থাকে।

স্তনের চামড়ায় কোনো পরিবর্তন লক্ষ করলে। যেমন, কুঁচকানো ভাব, রোমকূপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া অথবা রঙের পরিবর্তন, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে অথবা কোনো অস্বাভাবিক রস বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

চাকার কারণ নির্ণয়ে আলট্রাসনোগ্রাম, কোর বায়োপসি, ম্যামোগ্রাফি প্রভৃতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হয়।

ক্যানসার প্রতিরোধের কিছু উপায়

যাঁদের পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাঁদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হরমোনাল পিল তিন-পাঁচ বছরের বেশি গ্রহণ না করা এবং শিশুকে সঠিকভাবে বুকের দুধ পান করালে ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

ডা. এম এ করিম, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

আরও পড়ুন