মুখে প্রজাপতির মতো লালচে দাগ কেন হয়, সতর্কতা ও চিকিৎসা কী

নাকের ওপর থেকে দুই গালজুড়ে প্রজাপতির ডানার মতো লালচে দাগ, ফুসকুড়ি। অনেকে এটিকে সাধারণ অ্যালার্জি, রোদে পোড়া বা প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সব সময় বিষয়টি এত সরল নয়। এই বাটারফ্লাই র‍্যাশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ম্যালার র‍্যাশ বলে।

বাটারফ্লাই র‍্যাশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ম্যালার র‍্যাশ বলেছবি: ফ্রিপিক

বাটারফ্লাই র‍্যাশের সবচেয়ে পরিচিত কারণ হলো সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমেটোসাস বা এসএলই। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষ ও অঙ্গকে আক্রমণ করে।

ফলে শুধু ত্বক নয়, জয়েন্ট, কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক এমনকি রক্তের কোষও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাটারফ্লাই র‍্যাশকে কখনো হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

তবে মনে রাখতে হবে, মুখে প্রজাপতির মতো লালচে দাগ মানেই লুপাস নয়। একনি বা ব্রন, রোসেসিয়া, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, এটপিক ডার্মাটাইটিস, সূর্যের আলোতে ত্বকের অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হার্টের ভালভের রোগ কিংবা ত্বকের অন্যান্য রোগেও একই রকম দাগ দেখা যেতে পারে।

সতর্কতা

যদি এই র‍্যাশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সন্ধি ব্যথা, অকারণে জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে ঘা, চুল পড়া, রোদে গেলেই ত্বকের সমস্যা বেড়ে যাওয়া, হাত-পা ফুলে যাওয়া বা প্রস্রাবে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রক্তের কিছু পরীক্ষা, যেমন এএনএ, অ্যান্টি ডিএস ডিএনএ, কমপ্লিমেন্ট লেভেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়।

আরও পড়ুন

চিকিৎসা

বাটারফ্লাই র‍্যাশের চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকৃত কারণের ওপর। যদি এটি লুপাসের কারণে হয়, তাহলে রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার, ছাতা বা টুপি পরা এবং দীর্ঘ সময় রোদে না থাকা উপকারী।

নিজের ইচ্ছামতো স্টেরয়েড বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং রোগী স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন যাপন করতে পারেন।

আরও পড়ুন