অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার কি ক্ষতিকর?
হ্যাঁ। একসঙ্গে অনেক অ্যাকটিভ যেমন রেটিনল, এএইচএ, বিএইচএ, ভিটামিন সি ব্যবহার করলে ত্বকের ব্যারিয়ার নষ্ট হতে পারে। এতে জ্বালাপোড়া, লালভাব, শুষ্কতা ও ব্রণ বাড়তে পারে। ‘কমই ভালো’ নীতি অনেক সময় সবচেয়ে কার্যকর।
প্রথম আলো :
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আদর্শ অ্যান্টি-এজিং রুটিন কী?
সকালে হালকা ক্লিনজার, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট (ভিটামিন সি), ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন আর রাতে ক্লিনজার, রেটিনল বা রেটিনাল এরপর ময়েশ্চারাইজার। শুরুর দিকে সপ্তাহে দু–তিন দিন রেটিনল/রেটিনাল ব্যবহার করলেই হবে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় জেল বা হালকা লোশনভিত্তিক পণ্য ভালো কাজ করে।
আলাদা আই ক্রিম কি প্রয়োজন?
সব সময় নয়। ভালো ময়েশ্চারাইজারই অনেকের জন্য যথেষ্ট। তবে চোখের চারপাশে কালো দাগ, ফোলাভাব বা সূক্ষ্ম রেখার জন্য ক্যাফেইন, রেটিনল বা পেপটাইডের মতো বিশেষ উপকরণ প্রয়োজন হয়। আই ক্রিম তখন ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রথম আলো :
ঘুম ও ওয়েট সাইক্লিং কি বয়সের ছাপ বাড়ায়?
হ্যাঁ। নিয়মিত কম ঘুম কোলাজেন তৈরিতে বাধা দেয়। আবার দ্রুত ওজন কমা বা বারবার ওজন ওঠানামা করলে মুখের ফ্যাট কমে গিয়ে বয়স বেশি মনে হতে পারে।
চিনি ও গ্লাইকেশনের ভূমিকা কী?
অতিরিক্ত চিনি কোলাজেন ও ইলাস্টিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাডভান্স গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রোডাক্টস তৈরি করে, যা কোলাজেনকে শক্ত ও ভঙ্গুর করে। ফলে ত্বক দ্রুত বয়সী দেখায়।
প্রথম আলো :
কোন বয়স থেকে অ্যান্টি-এজিং শুরু করা উচিত?
৩০ বছরের পর থেকে শুরু করা উচিত। অনেকে মনে করেন, ২৫ বছরের পর থেকে শুরু করা উচিত। এ সময় সানস্ক্রিন আর ত্বকচর্চায় মৌলিক উপাদানগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি ত্বকচর্চায় ভিটামিন সি এবং রেটিনয়েড যোগ করা যায়। ৩০ বছরের পরও এই রুটিন চলবে। ৪০ বছরের পর ভিটামিন সি, রেটিনয়েডের পাশাপাশি পেপটাইড, ত্বক অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার, চিকিৎসকের পরামর্শে ট্রিটমেন্ট শুরু করা যায়। ৫০ বছরের পর শুষ্কতা নিয়ন্ত্রণ, ব্যারিয়ার রিপেয়ার আর মেনোপজ–পরবর্তী যত্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি, রেটিনয়েডের পাশাপাশি পেপটাইড, ত্বক অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার, চিকিৎসকের পরামর্শে ট্রিটমেন্ট থাকবেই।
প্রথম আলো :
কোন উপাদান কীভাবে কাজ করে?
রেটিনয়েড ত্বকের কোলাজেন বাড়ায়, বলিরেখা কমায়। ভিটামিন সি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। নিয়াসিনামাইড ত্বকের ব্যারিয়ার শক্তিশালী করে, দাগ ও প্রদাহ কমায় এবং পেপটাইড কোলাজেন তৈরি করতে সহায়তা করে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে পানি ধরে রেখে ত্বককে মসৃণ করে।
রেটিনল ও রেটিনালের পার্থক্য কী?
রেটিনাল রেটিনলের তুলনায় দ্রুত কাজ করে এবং সাধারণত বেশি কার্যকর। তবে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়াও হতে পারে। শুরুতে সপ্তাহে দুই বা তিন রাত ব্যবহার করুন। সব সময় রাতে ব্যবহার করুন। দিনে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
প্রথম আলো :
কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে গবেষণা কী বলে?
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দুই থেকে ছয় মাস কোলাজেন পেপটাইড খেলে ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে এটি কোনো ‘জাদুকরি সমাধান’ নয়; সানস্ক্রিন ও ভালো স্কিনকেয়ারের বিকল্পও নয়।
প্রথম আলো :
বোটক্স, ফিলার, লেজার ও মাইক্রোনিডলিং কারা করাতে পারেন?
যাঁদের বয়সজনিত পরিবর্তন বা নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে। অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্ট বা প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের মাধ্যমে করালে সাধারণত নিরাপদ। প্রতিটি চিকিৎসার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব ভিন্ন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রিভেন্টিভ বোটক্স কি সবার প্রয়োজন?
না, এটি সবার জন্য নয়। খুব দ্রুত যাঁদের অভিব্যক্তিজনিত বলিরেখা তৈরি হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে অল্প বয়সে নিয়মিত বোটক্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রথম আলো :
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অভ্যাস কী?
প্রতিদিন সঠিকভাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার, রাতে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মধ্যে গুরুত্ব পাবে ভালো ঘুম, সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম।
প্রথম আলো :
বাংলাদেশে এসপিএফ ৫০ কি সবার প্রয়োজন?
এসপিএফ ৩০ সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে যাঁরা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, বাইরে কাজ করেন বা সহজে ত্বক পুড়ে যায়, তাঁদের জন্য এসপিএফ ৫০ বেশি উপযোগী। এসপিএফের পাশাপাশি ইউভিএ সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাসায় বা গাড়িতে থাকলেও কি সানস্ক্রিন দরকার?
যদি জানালার পাশে দীর্ঘ সময় থাকেন, গাড়ি চালান বা দিনের আলো নিয়মিত ত্বকে পড়ে, তাহলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। তবে সারা দিন ঘরের ভেতরে, জানালা থেকে দূরে থাকলে পুনঃপ্রয়োগের প্রয়োজন না–ও হতে পারে।
প্রথম আলো :
পারলার ফেশিয়াল ও নিজে বানানো প্যাক বা রেমেডি কি উপকারী?
সাধারণ ফেশিয়াল সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে পারে; কিন্তু অ্যান্টি-এজিংয়ের স্থায়ী সমাধান নয়। অপরিকল্পিত স্কিন পলিশিং বা লেবু, বেকিং সোডা ও টুথপেস্টের মতো নিজে বানানো উপাদান ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
প্রথম আলো :
ত্বকচর্চার নকল পণ্য চেনার উপায় কী?
উত্তর: বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। সিল, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ যাচাই করুন। অস্বাভাবিক কম দাম হলে সতর্ক থাকুন। প্যাকেজিং, বানান বা গন্ধে অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যবহার করবেন না।
প্রথম আলো :
সীমিত বাজেটে মাত্র তিনটি পণ্য কিনতে হলে কোনগুলো প্রাধান্য পাবে?
ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন (এসপিএফ ৩০) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ময়েশ্চারাইজার। রাতে ব্যবহারের জন্য রেটিনয়েড (যদি উপযুক্ত হন) অথবা নতুনদের জন্য ভিটামিন সি সিরাম।