গর্ভধারণের পরিকল্পনায় করণীয়

আমাদের দেশের বেশির ভাগ দম্পতিই পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ সন্তান নিয়ে নেন। কিন্তু প্ল্যানড প্রেগন্যান্সি বা পরিকল্পিত গর্ভধারণই মা ও শিশুর সর্বোত্তম সুস্থতার ভিত্তি। বর্তমানে ব্যস্ত জীবন, ক্যারিয়ার, মানসিক চাপ, দেরিতে বিয়ে, বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি—সব বিবেচনায় গর্ভধারণের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দিব্যি সুস্থ একজন নারী গর্ভধারণের পর নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস তেমনই এক রোগছবি: পেক্সেলস

পরিকল্পিত গর্ভধারণ কী, কেন জরুরি

পরিকল্পিত গর্ভধারণ মানে শুধু সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়; এর অর্থ হলো শারীরিক, মানসিক ও আর্থসামাজিক প্রস্তুতি। আরও রয়েছে প্রি-কনসেপশন মেডিকেল চেকআপ।

পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা। মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গর্ভধারণের আগে পরিকল্পনা জরুরি। মায়ের স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড সমস্যা, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি থেকে থাকলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা বাড়ে। আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

শিশুর সুস্থ বিকাশে সাহায্য করে পরিকল্পিত গর্ভধারণ। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয়। এ সময় ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি থাকলে নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গর্ভধারণের অন্তত তিন মাস আগে থেকে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ শুরু করা জরুরি।

পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা। মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গর্ভধারণের আগে পরিকল্পনা জরুরি।

পরিকল্পনা থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ বন্ধ করা যায়। অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার কারণে ওষুধ খান যা গর্ভাবস্থায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরিকল্পিত গর্ভধারণের মাধ্যমে ওষুধ পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। মাতৃত্ব জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। দাম্পত্য সম্পর্ক, কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব—সব মাথায় রেখে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রি-কনসেপশন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রক্তের গ্রুপ ও আরএইচ ফ্যাক্টর, হিমোগ্লোবিন, রক্তের শর্করা, থাইরয়েড কার্যকারিতা, রুবেলা ইমিউনিটি, হেপাটাইটিস বি ও সি স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাফি।

গর্ভধারণের আগে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো ইত্যাদি। স্থূলতা বা অতিরিক্ত কম ওজন—দুই অবস্থাই গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

আপনার বয়স যদি ৩৫ বছরের কম হয় এবং এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স ৩৫ বা বেশি হলে যদি ছয় মাস চেষ্টা করেও সন্তান না হয়, সে ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাসিক অনিয়মিত হলে, আগে গর্ভপাত বা বন্ধ্যত্ব হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বিশেষ কিছু পরিস্থিতি

বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে। তাই সময়মতো পরিকল্পনা জরুরি। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। গর্ভধারণের আগে সুগার ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মা ও শিশুর ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন