কোন বয়স থেকে উচ্চ রক্তচাপের বিষয়ে সচেতন হবেন?
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক। এর কারণ হলো, অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না, অথচ নীরবে শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি করে।
আমাদের অনেকের মধ্যেই একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে উচ্চ রক্তচাপ মানেই কেবল হৃদ্রোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। কিন্তু আসল সত্য হলো, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ আমাদের শরীরের প্রতিটি প্রান্তের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে চোখ, কিডনি, যকৃৎ এমনকি রক্তনালিতে পর্যন্ত পড়ে।
মস্তিষ্ক ও কিডনির ওপর প্রভাব
উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বড় শিকার হতে পারে আমাদের মস্তিষ্ক। রক্তনালিতে অতিরিক্ত চাপের ফলে তা ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ‘হেমোরেজিক স্ট্রোক’ হতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া শরীরের রক্ত পরিশোধনের প্রধান অঙ্গ কিডনিও উচ্চ রক্তচাপের কারণে অকেজো হয়ে যেতে পারে। কিডনির ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত ঠিকমতো পরিশোধিত হয় না, যা দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
চোখ ও রক্তনালির ক্ষতি
অনেকেই জানেন না যে উচ্চ রক্তচাপের কারণে দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। চোখের রেটিনার রক্তনালিগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবে সেখানে রক্তক্ষরণ হয়। এ ছাড়া সারা শরীরের ধমনিগুলো শক্ত হয়ে যেতে পারে (অ্যাথেরোস্কলেরোসিস), যা শরীরের রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
কোন বয়স থেকে সচেতনতা প্রয়োজন?
উচ্চ রক্তচাপ কেবল প্রবীণদের রোগ—এই ধারণাটি এখন সেকেলে। বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ এবং কায়িক শ্রমের অভাবের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এটি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই ১৮ বছর বয়সের পর থেকেই প্রত্যেকের তিন মাসে একবার রক্তচাপ দেখা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগের ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
প্রতিরোধের উপায়
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের পাতে আলাদা লবণ খাওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট (৬-৭ হাজার স্টেপ) দ্রুত হাঁটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে।
নীরব ঘাতক হওয়ার কারণে অনেক সময় মানুষ জানতেই পারে না সে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতনতাই পারে আপনার হার্ট, ব্রেন ও কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে।
সোর্স: ওয়েবএমডি, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন