গর্ভাবস্থায়ও অনেকের মুখ বেঁকে যায় কেন

গবেষণায় দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যে সাধারণ মানুষের তুলনায় বেলস পালসির ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ পরিমাণ বেশি। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস (তৃতীয় ট্রাইমেস্টার) অথবা সন্তান প্রসবের ঠিক পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস মুখ বেঁকে যাওয়ার সমস্যা বেশি দেখা দেয়ছবি: এআই/প্রথম আলো

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে হঠাৎ করে মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া অন্যতম একটি ভীতিকর অভিজ্ঞতা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘বেলস পালসি’। অনেকের ধারণা এটি স্ট্রোকের লক্ষণ, কিন্তু আসলে এটি মুখের স্নায়ুর একটি সাময়িক সমস্যা, যা সঠিক সময়ে শনাক্ত করলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব।

আরও পড়ুন

কেন হয়?

গবেষণায় দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যে সাধারণ মানুষের তুলনায় বেলস পালসির ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ পরিমাণ বেশি। সাধারণত গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস (তৃতীয় ট্রাইমেস্টার) অথবা সন্তান প্রসবের ঠিক পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও গর্ভাবস্থায় শরীরে পানি জমে যাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার তারতম্যের কারণে মুখের একটি স্নায়ু বিকলতার কারণে এটি হয়, যার ফলে মুখের যেকোনো একপাশের পেশিগুলো নিয়ন্ত্রণ হারায়।

লক্ষণগুলো কখন দেখা দেয়

  • মুখের একপাশ ঝুলে পড়া বা বেঁকে যাওয়া।

  • আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারা।

  • হাসতে গেলে বা কথা বলতে গেলে মুখ একপাশে সরে যাওয়া।

  • কপাল কুঁচকাতে সমস্যা হওয়া এবং কান দিয়ে অস্বাভাবিক জোরে শব্দ শোনা।

  • জিহ্বার সামনের অংশের স্বাদ কমে যাওয়া এবং মুখ থেকে লালা ঝরা।

প্রতিকার ও চিকিৎসা

১. দ্রুত পরামর্শ: লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

২. চোখের যত্ন: যেহেতু আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয় না, তাই চোখ শুকিয়ে যাওয়া বা ধুলোবালি থেকে ইনফেকশন হতে পারে। দিনের বেলা চোখের ড্রপ এবং রাতে ঘুমানোর সময় আইপ্যাচ ব্যবহার করা জরুরি।

৩. ফিজিওথেরাপি: মুখের বিশেষ কিছু ব্যায়াম বা ম্যাসাজ স্নায়ুকে দ্রুত সচল করতে অনেকটা সাহায্য করে।

বেলস পালসি সাধারণত কোনো স্থায়ী রোগ নয় এবং এর ফলে গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সঠিক চিকিৎসায় অধিকাংশ নারীই কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং পরিবারের সহযোগিতা পাওয়া সুস্থ হওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: হেলথ লাইন, পাবমেড

আরও পড়ুন