মেহেদি দিলে কারও কারও কেন সমস্যা হয়, এ ক্ষেত্রে কী করবেন
একসময় মেহেদিগাছের পাতা ছিঁড়ে বেটে নেওয়া পেস্ট ব্যবহার করা হতো। সেটি ছিল অনেকাংশে নিরাপদ। এখন বাজারে যেসব মেহেদি পাওয়া যায়, তাতে কিছু ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর উপাদান পিপিডি। বাজারে প্রচলিত ‘ব্ল্যাক মেহেদি’তে পিপিডি বেশি থাকে, তাই সেটি এখন বড় ঝুঁকির কারণ।
এসব মেহেদি কারও কারও ত্বকে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। প্রতিক্রিয়া হলে মেহেদি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যেই যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
লালচে ফোলা বা র্যাশ
ফোসকা বা পানিভর্তি দানা
ত্বকে কালচে দাগ পড়া বা স্থায়ী দাগ হয়ে যাওয়া
তৎক্ষণাৎ করণীয়
মেহেদি দেওয়ার পর যদি চুলকানি, জ্বালা, লালচে ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে—
মেহেদি দ্রুত হাত থেকে তুলে ফেলুন। পরিষ্কার পানি ও হালকা সাবান দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
ঠান্ডা সেঁক দিন। ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা ঠান্ডা কমপ্রেস দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কিছুটা কমে।
খোঁচানো বা চুলকানো এড়িয়ে চলুন। এতে সংক্রমণ ও দাগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
প্রয়োজনে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া যেতে পারে।
স্টেরয়েড ক্রিম বা মলম অনেক ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।
ফোসকা, ফোলা বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং স্থায়ী দাগ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
সতর্কতা
মেহেদি দেওয়ার আগে একটু সতর্ক থাকুন। নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—
খুব দ্রুত কালো রং দেয়, এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার করবেন না।
সম্ভব হলে খাঁটি প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করুন।
প্রথমবার ব্যবহার করলে আগে হাতে ছোট অংশে পরীক্ষা করে দেখুন। যদি দেওয়ার পর কোনো সমস্যা দেখা না দেয়, তাহলে পুরো নকশা করতে পারেন।
শিশুদের ও সংবেদনশীল ত্বকে মেহেদি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
মেহেদি দেওয়ার পর চুলকানি, লালচে ভাব বা ফোসকা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন।
সমস্যা বাড়লে দ্রুত চর্মরোগ–বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।