চারটি গরু নিয়ে ঢাকার হাটে এসেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতাস
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে অনেকে টিউশনি করেন। কেউ কেউ ফ্রিল্যান্সিং বা ছোটখাটো ব্যবসা দিয়েও আয় করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তিতাস খান বেছে নিয়েছেন একটু ভিন্ন পথ। পড়াশোনার পাশাপাশি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এখন তাঁর খামারে গরুর সংখ্যা ৯। এই ঈদে চারটি গরু বিক্রির পরিকল্পনা আছে। গত শুক্রবার যখন কথা হলো, তখন তিনি জানালেন, গরুগুলো নিয়ে ঢাকার হাজারীবাগ বাজারে এসেছেন।
‘অনেকে মনে করে, গরু পালা হয়তো তেমন একটা ঝামেলার কাজ নয়। আসলে অনেক সময় দিতে হয়। তা ছাড়া যেকোনো কাজই তো শুরুতে কঠিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ছোটবেলা থেকেই পরিবারে সীমিত পরিসরে গরু পালনের অভিজ্ঞতা ছিল, তবু বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনার বাস্তবতা আলাদা। তারপরও নিজের চেষ্টায় এত দূর আসতে পেরেছি।’তিতাস খান. শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই তিতাসের বেড়ে ওঠা। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ই ঠিক করেছিলেন খামার করবেন। বলছিলেন, ‘অনেকের মতো আমিও ছাত্রজীবনে আয় করার কথা ভাবতাম। টিউশনি বা ফ্রিল্যান্সিং তো অনেকেই করে। আমার মনে হলো, পারিবারিকভাবেই যেহেতু আমাদের বাড়িতে দুটি গরু পালা হয়, এটাকেই যদি একটু বড় করি, তাহলে কেমন হয়।’
পরিবারের লোকজন অবশ্য শুরুতে খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আগে পড়াশোনা শেষ হোক, তারপর অন্য কিছু ভাবা যাবে। এর মধ্যেই জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিতাসকে নিতে হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কিছুদিন ক্লাস করলেও পছন্দের সাবজেক্ট না পাওয়ায় পড়াশোনায় মন বসাতে পারছিলেন না। তখন আবারও ভর্তি পরীক্ষা দেবেন বলে ঠিক করেন। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে গেছেন তিনি। ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি’ বিভাগে ভর্তি হতে চান।
একদিকে পড়ালেখা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, অন্যদিকে গরুর খাবার জোগাড়, পরিচর্যা, নিয়মিত দেখভাল—একাই সবকিছু সামলাতে হয়েছে। তিতাস বলেন, ‘অনেকে মনে করে, গরু পালা হয়তো তেমন একটা ঝামেলার কাজ নয়। আসলে অনেক সময় দিতে হয়। তা ছাড়া যেকোনো কাজই তো শুরুতে কঠিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ছোটবেলা থেকেই পরিবারে সীমিত পরিসরে গরু পালনের অভিজ্ঞতা ছিল, তবু বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনার বাস্তবতা আলাদা। তারপরও নিজের চেষ্টায় এত দূর আসতে পেরেছি।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে তিতাসের স্বপ্ন আরও বড়। শুধু গরুর খামার পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে রূপ দিতে চান। খামার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করারও ইচ্ছা আছে তিতাসের। বলছিলেন, ‘সবাই শুধু চাকরির পেছনে ছুটলে তো হবে না। চাকরির সুযোগও তৈরি করতে হবে।’