ঘর সাজানোয় মিনিমালিজম অপছন্দ? আপনার জন্যই ম্যাক্সিমালিজম ধারা

কয়েক বছর ধরেই অন্দরসজ্জায় জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে মিনিমালিজম। তবে সব সময় যে ‘অল্পেই সারতে হবে’, ব্যাপারটা কিন্তু তেমন নয়। ভালো লাগার সবটাই যদি অন্দরে ধরে রাখতে চান, তাতেও ক্ষতি নেই। বৈশ্বিক ধারায়ও এর ব্যবহার আছে। এ প্রসঙ্গে সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি তাসনিম তূর্যির সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

ভালো লাগার এমন নানা ধরনকে যাঁরা অন্দরে ফুটিয়ে তুলতে চান, তাঁদের জন্য দারুণ এক ধারা হলো ম্যাক্সিমালিজমছবি: এআই/প্রথম আলো

কারও পছন্দ আধুনিক ধারার হালকা নকশার আসবাব। কেউ আবার চান আভিজাত্যের একটু বাড়তি ছোঁয়া। কেউ ধরে রাখতে চান পরিবারের পুরোনো ঐতিহ্য। কেউ অন্তরে ধারণ করেন দেশজ শিল্পকে। কারও আবার পছন্দ বৈশ্বিক ধারার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি কিংবা গেমিং ইফেক্ট।

পরিবারের সবার চাহিদা এক হবে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবার একই ব্যক্তিরও ভালো লাগতে পারে একাধিক ধারার অনুষঙ্গ। তিনি নিজেই চাইতে পারেন ভিন্নধারার সমন্বয়। ভালো লাগার এমন নানা ধরনকে যাঁরা অন্দরে ফুটিয়ে তুলতে চান, তাঁদের জন্য দারুণ এক ধারা হলো ম্যাক্সিমালিজম।

ম্যাক্সিমালিজম ধারায় বাড়ির বাসিন্দাদের ইচ্ছাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ থাকে
ছবি: এআই/প্রথম আলো

ম্যাক্সিমালিজম কী

সহজভাবে বলা যায়, ম্যাক্সিমালিজম হলো ভালো লাগার সব উপকরণ বা অনুষঙ্গকেই জায়গা করে দেওয়ার প্রচেষ্টা; অর্থাৎ অন্দরসজ্জার যে ধারাটি আপনার পছন্দ, সেই ধারার সঙ্গে মানানসই প্রায় সবকিছুই থাকবে আপনার অন্দরে।

বাস্তবে একটি ধারার সব অনুষঙ্গ একটি অন্দরে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে সেই প্রয়াসেই অন্দরসজ্জায় আসতে পারে ভিন্নরূপ। দুটি উদাহরণ দেওয়া যাক।

ধরা যাক, পেইন্টিংয়ের একটি বিশেষ ধারা কারও ভীষণ পছন্দ। ওই ধারার বহু পেইন্টিং নিজের বাড়িতে রাখতে চান তিনি। কিন্তু অগণিত পেইন্টিং তো আর একটি বাড়ির অন্দরে রাখা সম্ভব হয় না।

তাই তিনি বাড়ির অধিকাংশ দেয়ালের পুরোটায় এ ধরনের পেইন্টিংয়ের জন্য জায়গা ঠিক করে নিলেন। দেয়ালগুলো হয়ে উঠল দারুণ এক সংগ্রহশালা। মিনিমালিজমের চর্চায় সাধারণত বাড়ির এতগুলো দেয়ালজুড়ে এতগুলো পেইন্টিং রাখা হয় না।

আরও পড়ুন

আবার ধরা যাক, কেউ দেশজ শিল্প ভালোবাসেন। তাঁর শীতলপাটিও চাই, শতরঞ্জিও চাই। আরও চাই জামদানি মোটিফের ব্যবহার। বাঁশ, বেত, মাটি, টেরাকোটা কিংবা শোলা দিয়ে তৈরি বহু অনুষঙ্গ রাখলেন তিনি ঘরে।

যেকোনো ধারার বিভিন্ন উপকরণের পরিমিত ব্যবহারটা মিনিমালিজম। তবে প্রাচুর্যের সঙ্গে সেগুলোর বহুমাত্রিক ব্যবহারটা ম্যাক্সিমালিজম। কারও কাছে মনে হতে পারে, এ তো বাহুল্য।

তবে যিনি সত্যিই কোনো একটি ধারা বা বিষয়কে অন্তরে ধারণ করেন, তাঁর বাড়ির অন্দরে তাঁর জন্য এটা স্বস্তি। ব্যস্ত জীবনে একটুখানি দম নেওয়ার জায়গা।

আরও পড়ুন

যেসব সুবিধা পাবেন

ম্যাক্সিমালিজম ধারায় বাড়ির বাসিন্দাদের ইচ্ছাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ থাকে। তাতে অন্দর হয়ে ওঠে বাড়ির মানুষগুলোর মনের আয়না। অন্দরে ঘটে আবেগের প্রকাশ, আসে আভিজাত্যও। চমৎকারভাবে সাজিয়ে নিলে ম্যাক্সিমালিজমে অন্দরে প্রশান্তি মিলবে।

অসুবিধা আছে কি?

ম্যাক্সিমালিজম ধারায় যেটিই বেছে নিন না কেন, খেয়াল রাখুন, পুরো ব্যাপারটা যেন মানানসই হয়। বিভিন্ন ধারার অনুষঙ্গের যত্নআত্তি অবশ্য একটু আলাদা হয়ে থাকে। তবে নিজের কিংবা প্রিয়জনের শখ মেটাতে এই ঝক্কিটুকু আপনি নিশ্চয়ই মেনে নেবেন।

বাজেটবান্ধব ভাবনা

ম্যাক্সিমালিজম সব সময় অতিরিক্ত খরুচে না-ও হতে পারে। ছোট অন্দরে পুরোনো দিনের ভারী অনুষঙ্গের ব্যবহার একধরনের ম্যাক্সিমালিজম হয়ে উঠতে পারে; অর্থাৎ নতুন নতুন অনেক জিনিস কেনার খরচ এভাবে বেঁচে যেতে পারে। আবার পুরোনো ধারার যেসব জিনিস আগে থেকেই আছে, সেগুলো দিয়েই সাজিয়ে নেওয়া যায়।

আরও পড়ুন