আনপ্লাগড ওয়েডিং কী? রাশমিকা–বিজয়ের বিয়েতে ‘নো ফোন’ নীতির পেছনের ভাবনা

বিয়ের করলেন দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে তাঁদের বিয়েটা হয়েছে একেবারেই নিভৃতে, রহস্যময় আয়োজনের মধ্য দিয়ে। না ছিল কোনো ফাঁস হওয়া নাচের ভিডিও, না ছিল আত্মীয়স্বজনের লাইভ স্ট্রিম। পুরো আয়োজনেই ছিল কঠোর ‘নো ফোন’ নীতি। ফলে বিয়ের মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েনি আগেভাগেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কী ছিল এই ‘নো ফোন’ বিয়ের নীতির পেছনের ভাবনা, আর ‘আনপ্লাগড ওয়েডিং’ বলতে কী বোঝায়।

রাশমিকা–বিজয়ের বিয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কঠোর নো ফোন নীতি
কোলাজ: প্রথম আলো

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন রাশমিকা ও বিজয়। ছিল না কোনো বড় তারকাবহুল অতিথির বহর, না ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝলমলে প্রদর্শনী। পরিবার আর খুব কাছের বন্ধুদের নিয়েই সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি।

উৎসব শুরু হয়েছিল আরও আগে, ২৪ ফেব্রুয়ারি। দুই দিন ধরে চলা ছোটখাটো আয়োজনের পর ২৬ তারিখে মূল বিয়ের অনুষ্ঠান। অতিথির তালিকাও ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; শুধু যাঁরা সত্যিই তাঁদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁরাই ছিলেন আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের তালিকায়। গোটা আয়োজনের মুড এককথায় অনাড়ম্বর কিন্তু আন্তরিক।

নো ফোন নীতি

এই বিয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কঠোর নো ফোন নীতি। অতিথিদের কাউকেই অনুষ্ঠানস্থলে মুঠোফোন, ক্যামেরা বা কোনো রেকর্ডিং ডিভাইস সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার, কোনো ছবি বা ভিডিও যেন আগেভাগে ফাঁস না হয়। বিয়েতে আগত কেউ যেন অমনোযোগী হয়ে বাস্তবের মুহূর্তগুলো মিস না করেন।

এমনকি পেশাদার আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারদেরও সই করানো হয়েছিল এনডিএতে (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট)। অর্থাৎ দম্পতির অনুমতি ছাড়া কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চেয়েছিলেন রাশমিকা–বিজয়।

আনপ্লাগড ওয়েডিং কী

এই সিদ্ধান্ত আদতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ট্রেন্ডের অংশ। সহজ করে বললে, আনপ্লাগড ওয়েডিং মানে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফোন, ক্যামেরা ও অন্যান্য গ্যাজেট ব্যবহার না করতে অনুরোধ করা। কোনো ছবি তোলা নয়, কোনো ভিডিও নয়, কোনো মেসেজ বা স্ক্রলিং নয়; শুধু উপস্থিত থাকা, অনুভব করা আর মুহূর্তটাকে উপভোগ করা।

দম্পতিরা চান, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রিয় মানুষগুলো পুরো মনোযোগ দিয়ে পাশে থাকুক। ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘পারফেক্ট শট’ খুঁজতে গিয়ে যেন সেই আবেগের মুহূর্ত হারিয়ে না যায়।

রাশমিকা ও বিজয়ের মতো তারকাদের জন্য, যাঁদের জীবন প্রতিনিয়ত ক্যামেরার সামনে, এই কয়েক ঘণ্টার আনপ্লাগড সময় হয়তো ছিল একেবারে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে, কোলাজ: প্রথম আলো

কেন তারকারা এই ট্রেন্ড পছন্দ করছেন

এই নিয়মের পেছনে শুধু গোপনীয়তা নয়, আছে গভীর আবেগের যুক্তি। যখন কেউ ফোনে ব্যস্ত না থাকে, তখন পুরো অনুষ্ঠানের আবহ বদলে যায়। বর–কনের চোখে ধরা পড়ে অতিথিদের প্রকৃত প্রতিক্রিয়া।

কারও হাসি, কারও চোখের পানি, কারও নিঃশব্দ আবেগ। ফোনের পর্দার আড়ালে নয়, একেবারে খোলা চোখে দেখা সেই অনুভূতি আলাদা মাত্রা যোগ করে।

রাশমিকা ও বিজয়ের মতো তারকাদের জন্য, যাঁদের জীবন প্রতিনিয়ত ক্যামেরার সামনে, এই কয়েক ঘণ্টার আনপ্লাগড সময় হয়তো ছিল একেবারে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ।

আলোকচিত্রীদের জন্যও স্বপ্নের আয়োজন

এই নিয়মে সবচেয়ে খুশি থাকেন পেশাদার ফটোগ্রাফাররা। ভাবুন তো, কনের প্রবেশমুহূর্তে দশজন অতিথি ফোন তুলে ধরলে ছবির ফ্রেমে কী বিশৃঙ্খলা!
নো ফোন নীতির ফলে তাঁরা পান পরিষ্কার, ঝকঝকে, সিনেম্যাটিক শট। ছবিগুলো হয় আরও সুন্দর।

আর সত্যি বলতে, অতিথিদের তোলা বেশির ভাগ ছবিই তো ফোনের গ্যালারিতেই পড়ে থাকে। অথচ পেশাদার আলোকচিত্রই স্মৃতিকে ধরে রাখেন বছরের পর বছর।

আরও পড়ুন

বাস্তবে নো ফোন নিয়ম কীভাবে মানানো হয়

এ প্রশ্নটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অতিথিদের বিরক্ত না করে নিয়ম মানানো যায় কীভাবে? সাধারণত দম্পতিরা বিয়ের আগে থেকেই বিষয়টি জানিয়ে দেন। ‘সেভ দ্য ডেট’ কার্ডে, ওয়েডিং ওয়েবসাইটে কিংবা অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম কার্ডে। বারবার মনে করিয়ে দিলে অতিথিরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন।

অনেকে আবার অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালকের মাধ্যমে ভদ্রভাবে অনুরোধ জানিয়ে দেন। কোথাও কোথাও রাখা হয় ফোন রাখার আলাদা ঝুড়ি বা স্টোরেজ কাউন্টার। মজার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিষয়টাকে আনন্দময়ও করা হয়।

তবে মূলকথা, কঠোরতা নয়, সৌজন্য। জরুরি প্রয়োজনে কারও ফোন লাগতেই পারে। তাই মানবিক দিকটাও বিবেচনায় রাখা হয়। সাধারণত বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময়ই এই নিষেধাজ্ঞা থাকে। রিসেপশন বা পার্টি শুরু হলে ফোন আবার ফিরে আসে; তখনই শুরু হয় নাচ, সেলফি, গ্রুপ ছবি আর হ্যাশট্যাগ উৎসব।

রাশমিকা–বিজয়ের বিয়েতে নো ফোন নিয়ম আবারও মনে করিয়ে দিল, সবকিছু শেয়ার করাই জীবন নয়। কিছু মুহূর্ত শুধু নিজের করে রাখাও জরুরি।

সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান

আরও পড়ুন