আইইএলটিএস-টোয়েফল পরীক্ষার জন্য ইংরেজি উচ্চারণের চর্চা করবেন কীভাবে

লিখেছেন আইইএলটিএস প্রশিক্ষক মুহাম্মদ ইয়াসির

প্রতিদিন ১০ মিনিট ইংরেজি শোনার অনুশীলন করুনছবি: পেক্সেলস

স্কুল-কলেজে ১২ বছর পড়েও আমাদের ইংরেজি বলায় জড়তা থেকে যায়। তাই ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) বা টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ আ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজের (টোয়েফল) মতো পরীক্ষায় আমরা ঘাবড়ে যাই। আত্মবিশ্বাস পাই না।

অথচ সঠিক উচ্চারণটা রপ্ত করতে পারলেও আপনি অনেকখানি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। তা ছাড়া উচ্চারণ ভালো হলে আইইএলটিএস ও টোয়েফলে ভালো স্কোর পাওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়। মনে রাখবেন, ভালো উচ্চারণে ইংরেজি বলা শুধু জিহ্বার কাজ না। প্রথমত এটা কানের কাজ, তারপর মস্তিষ্কের, আর সব শেষে জিহ্বার। গবেষণায় দেখা গেছে, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মডেল অনুকরণ করা, পুনরাবৃত্তি করা, এবং নিজের উচ্চারণকে যাচাই করার ধারাবাহিক অনুশীলন শিক্ষার্থীর উচ্চারণ উন্নতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের বহু শিক্ষার্থীর সমস্যা এক জায়গায় এসে আটকে যায়। শিক্ষার্থীরা শব্দের বানান আগে দেখে, ধ্বনি পরে শোনে। ফলে শব্দ মুখে আসে, কিন্তু উচ্চারণ আসে না। ফলে vegetable হয়ে যায় ভেজিটেবল আর comfortable এমনভাবে বলা হয় যে শব্দটি নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে। উচ্চারণ শেখাতে ‘টপ-ডাউনড’ পদ্ধতি হিসেবে আগে অর্থপূর্ণ বাক্য, সংলাপ, গল্প, ভিডিও ক্লিপ, গান, বাস্তব কথাবার্তা শুনলে কাজে আসে। তারপর নিয়মকানুন শিখুন।

অনুসরণ করুন

উচ্চারণ শেখা মানে কেবল আলাদা আলাদা ধ্বনি শেখা নয়, শিখতে হয় শব্দের কোন অংশে বা বাক্যের কোন শব্দে জোর দিতে হবে, ছন্দ কেমন হবে, শব্দের গুচ্ছ উচ্চারণ ও বিরতি কেমন হবে। বাক্যের সুরও এর সঙ্গে যুক্ত। ধরুন, আপনি বলছেন: Can I get a cup of tea? অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একে শব্দে-শব্দে, খণ্ডিতভাবে বলেন।

এখানে একটি পদ্ধতির কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। ছায়া-অনুকরণ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে অন্য বক্তার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একই গতিতে, একই সুরে, একই ছন্দে পুনরায় বলা যায়। সঙ্গে যদি যুক্ত হয় শোনা-বলা-রেকর্ড করা-মিলিয়ে দেখার কৌশল, তাহলে শেখাটা হয় আরও দ্রুত।

নিজের কণ্ঠ নিজে শোনা একধরনের আয়না, যেখানে ভুল ধরা পড়ে, উন্নতির পথও স্পষ্ট হয়। উচ্চারণ শেখার জন্য একটি মুঠোফোন, একটি ছোট অডিও আর নিয়মিত মনোযোগই অনেক সময় যথেষ্ট। তাই বলব, অনুসরণ বা অনুকরণ ‘ফ্যাশনেবল টিপস’ নয়, বরং গবেষণায় প্রমাণিত একটি কার্যকর কৌশল।

রেকর্ড করুন

ভালো উচ্চারণ শিখতে আরও একটি শক্তিশালী কৌশল হলো শোনা-উচ্চারণ-রেকর্ড-তুলনা করা। প্রথমে শুনুন, তারপর বলুন, নিজের কণ্ঠ মুঠোফোনে রেকর্ড করুন, তারপর মূল অডিওর সঙ্গে তুলনা করুন। এই তুলনাই হলো আপনার আয়না। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিজে নিজে ভয়েস রেকর্ডিং শিক্ষার্থীর উচ্চারণ দক্ষতা বাড়ায়।

গান শুনে কি উচ্চারণ ভালো হয়? উত্তর—হ্যাঁ, তবে যদি সেটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করা যায়। ধীর গতির গান, পরিষ্কার লিরিক এবং সুর মিলিয়ে গুনগুন করার মাধ্যমে গানের প্রকৃত ভাব শেখা যায়।

আরও পড়ুন

সিনেমা দেখুন

ছোট ছোট সিনেমা বা সাক্ষাৎকারের ভিডিও থেকে কপি করার কৌশল অসাধারণ কাজে দেয়। পুরো সিনেমা দেখে মুগ্ধ হওয়া আর ১৫ সেকেন্ডের একটি ইংরেজি সংলাপ ১০ বার নকল করা—দুটো এক জিনিস নয়। দ্বিতীয় কাজটিই আপনাকে বদলে দিতে পারে। একটি ক্লিপ বেছে নিন, যেমন একটি ছোট অভিবাদন, একটি প্রশ্ন, একটি আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। তারপর দেখুন বক্তা কোথায় ঠোঁট খোলেন, কোথায় শব্দ জোড়া লাগে, কোথায় জোর দেন, কোথায় বিরতি দেন, ইত্যাদি। এই অনুসরণ প্রক্রিয়াই মুখকে নতুন ছন্দ শেখায়। উচ্চারণ শেখা অনেকটা গানের তাল তোলার মতো। আগে নকল করুন, পরে স্বাভাবিকভাবে শিখুন। ইংরেজি শেখার সময় আমরা আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে একজন দক্ষ বক্তাকে অনুকরণ করতে করতে সেই ভঙ্গিটিকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করতে পারি।

ইংরেজি ধ্বনি চিনুন

ইংরেজি উচ্চারণের ৪৪টি আন্তর্জাতিক ধ্বনি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা জরুরি। বিভ্রান্তি কাটাতে ‘মিনিমাল পেয়ারস’ চর্চা অত্যন্ত কার্যকর। যেমন: Ship/Sheep, Bat/Bet, Fan/Van—এই শব্দগুলোর সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারলে উচ্চারণের জড়তা দ্রুত কেটে যায়। টেসল পদ্ধতিতেও এই জোড়া শব্দের চর্চাকে উচ্চারণ শেখার অন্যতম সেরা উপায় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চারণ শেখার জন্য ফোনিকস-ফোনেটিকস ব্লেন্ডেড অ্যাপ্রোচ বা সমন্বিত পদ্ধতি বেশ কার্যকর। ছোটদের ক্ষেত্রে যেখানে Cat, Pen, Big-এর মতো ছোট শব্দ দিয়ে শুরু করা যায়, বড়দের ক্ষেত্রে সেখানে School, Street, Splash-এর মতো জটিল যুক্তবর্ণ বা কনসোনেন্ট ক্লাস্টার নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

যেভাবে শুরু করবেন

একজন সাধারণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে হুট করে শুরু করা যাবে না। প্রথম ধাপে প্রতিদিন ১০ মিনিট শোনার অনুশীলন করুন। দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিন ৫ মিনিট অনুসরণ করুন। তৃতীয় ধাপে ৫ মিনিট করে রেকর্ড করে তুলনা করুন। এভাবে চর্চার মাধ্যমে আজ শেখা একটি শব্দ বা বাক্য কাউকে শেখান। ৩০ মিনিটের রুটিন কয়েক সপ্তাহ চর্চা করলেই উচ্চারণে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।