ডার্ক এমপ্যাথ কারা? তাঁদের চিনবেন কীভাবে?

‘ডার্ক এমপ্যাথ’—সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মনোবিজ্ঞানের অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। এটি এমন মানুষদের বোঝায়, যাঁদের মধ্যে সহানুভূতির কিছু ক্ষমতা থাকে, কিন্তু সেই ক্ষমতা তাঁরা অন্যকে সাহায্য করার বদলে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। সাধারণত সহানুভূতিশীল মানুষ অন্যের অনুভূতি বুঝে পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু ডার্ক এমপ্যাথরা অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারলেও সেটিকে প্রভাব খাটানো, নিয়ন্ত্রণ করা বা মানসিকভাবে চালিত করার জন্য ব্যবহার করতে পারে।

‘ডার্ক এমপ্যাথ’দের দেখে মনে হতে পারে, তাঁরা খুব সহানুভূতিশীল, কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটা ছিল সুবিধা নেওয়ার উপায়
ছবি: পেক্সেলস

ডার্ক এমপ্যাথ কারা?

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, তাঁরা সাধারণত তথাকথিত ‘ডার্ক ট্রায়াড’ ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডার্ক ট্রায়াড হলো ব্যক্তিত্ব মনোবিজ্ঞানের এমন একটি ধারণা, যেখানে একটি ব্যক্তির ভেতর তিনটি ‘অন্ধকার’ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো—

১. নার্সিসিজম

  • অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতা।

  • নিজেকে খুব বিশেষ বা অন্যদের চেয়ে সেরা মনে করা।

  • অন্যদের থেকে বেশি মনোযোগ ও প্রশংসা চাওয়া।

২. ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজম

  • অন্যকে নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করার প্রবণতা।

  • কৌশল, মিথ্যা বা চালাকি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করা।

  • আবেগের বদলে ঠান্ডা হিসাবনিকাশে কাজ করা।

আরও পড়ুন

৩. সাইকোপ্যাথি

  • সহানুভূতির অভাব, অন্যের ভালো সহ্য করতে না পারা। অন্যের খুশি বা সাফল্যে ঈর্ষা বোধ করা।

  • আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা বা হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ।

  • অন্যের ক্ষতি হলেও অনুশোচনা কম থাকা, শীতল মনোভাব।

ডার্ক এমপ্যাথদের মধ্যে এসব বৈশিষ্টি থাকতে পারে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা অন্যের আবেগও পড়তে পারেন।

কীভাবে চিনবেন?

কিছু লক্ষণ হতে পারে—

১. খুব আকর্ষণীয় ও মিশুক মনে হয়

প্রথম দেখায় তাঁদের আত্মবিশ্বাসী, বন্ধুসুলভ ও আকর্ষণীয় লাগতে পারে।

২. অন্যের দুর্বলতা দ্রুত বুঝে ফেলেন

কে কী শুনতে চায়, কার কোথায় কষ্ট—এসব তাঁরা সহজে ধরতে পারেন।

৩. সহানুভূতির অভিনয় করেন

মনে হতে পারে তাঁরা খুব সহানুভূতিশীল, কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটা ছিল সুবিধা নেওয়ার উপায়।

৪. অপরাধবোধ কম

কারও অনুভূতিতে আঘাত লাগলেও তেমন অনুতাপ না–ও থাকতে পারে।

৫. সম্পর্কে নিয়ন্ত্রণ চান

মানসিক চাপ, গিল্ট-ট্রিপ (অপরাধবোধ তৈরি করে তাঁকে প্রভাবিত করা), সূক্ষ্মভাবে ‘ম্যানিপুলেশন’ করা। এমনভাবে মানুষকে ব্যবহার করা, মানসিকভাবে চাপে রাখা, ছোট অনুভব করানো বা ক্ষতি করা অথবা নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা, যা সাদা চোখে বোঝা যায় না।

সাধারণত সহানুভূতিশীল মানুষ অন্যের অনুভূতি বুঝে পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু ডার্ক এমপ্যাথরা অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারলেও সেটিকে প্রভাব খাটানো, নিয়ন্ত্রণ করা বা মানসিকভাবে চালিত করার জন্য ব্যবহার করতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

কেন তাঁরা বিপজ্জনক?

কারণ, তাঁরা সাধারণত প্রকাশ্য খারাপ আচরণ করেন না। বরং ভালো মানুষ সেজে ধীরে ধীরে মানসিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। ফলে তাঁদের চেনা কঠিন হয়।

তাঁরা বন্ধুবেশী শত্রু। আর এটাই তাঁদের ‘ইউএসপি’। এ কারণেই তাঁরা সহজেই দ্রুতগতিতে আর প্রকাশ্য শত্রুর চেয়েও গভীরভাবে ক্ষতি করতে পারেন।

কেননা এ ধরনের ব্যক্তিকে আপনি সহানুভূতিশীল মনে করে পাশে রাখছেন, আবার তাঁর নেতিবাচক পদক্ষেপের বিষয়ে আপনি সতর্কও নন।

আরও পড়ুন

কী করবেন?

  • নিজের সীমারেখা পরিষ্কার রাখুন।

  • বারবার বিভ্রান্ত হলে আচরণ লক্ষ্য করুন। ওই ব্যক্তি পাশে থাকলে আপনার এনার্জি কেমন থাকে, লক্ষ্য করুন।

  • কথার চেয়ে কাজ দেখুন।

  • অপরাধবোধে ফেলে নিয়ন্ত্রণ করলে সতর্ক হোন।

  • তাঁদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

এককথায়, ডার্ক এমপ্যাথ এমন ব্যক্তি, যাঁরা অন্যের অনুভূতি বোঝেন। তবে সেই বোঝাপড়াকে ভালোবাসা বা সহানুভূতির জন্য নয়, বরং নেতিবাচকভাবে প্রভাব বিস্তার ও নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ব্যবহার করেন।

সূত্র: সায়েন্স ফোকাস

আরও পড়ুন