আম দিয়ে বানাতে পারেন এই ৩ মিষ্টান্ন
বাইরে পাকা আমের ঘ্রাণ। তাই আম দিয়ে কোনো খাবার তৈরি করার এখনই সময়। পাকা আম দিয়ে বানানো যায় নানা স্বাদের খাবার। এখানে থাকছে তেমন কয়েকটি পদ। রেসিপি দিয়েছেন সেলিনা আক্তার
পাকা আমের পায়েস
উপকরণ: পোলাওয়ের চাল সিকি কাপ, পাকা আমের ক্বাথ আধা কাপ, দুধ ১ লিটার, চিনি পৌনে ১ কাপ, লবণ ১ চিমটি ও এলাচিগুঁড়া ১ চিমটি।
প্রণালি: চাল ভালো করে ধুয়ে আধা কাপ পানিতে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। চাল পানি থেকে তুলে ঝরাতে দিন আরও ১ ঘণ্টা। ঝরঝরে হয়ে গেলে চাল হাত দিয়ে ভেঙে গুঁড়া করে নিন। হাঁড়িতে চাল ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে চুলায় বসান। মধ্যম আঁচে নেড়ে জ্বাল দিতে থাকুন। নাড়া বন্ধ করবেন না, চালে দলা বেঁধে যেতে পারে। দুধ ফুটে উঠলে চিনি ও লবণ দিন। এদিকে আমের ক্বাথ ব্লেন্ড করে ছেঁকে রাখুন, যেন কোনো আঁশ না থাকে। পায়েস ঘন হয়ে এলে এলাচিগুঁড়া দিন। এরপর নামানোর আগে আমের ক্বাথ দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে একবার ফুটলেই নামিয়ে নিন।
আম সন্দেশ
উপকরণ: কাজুবাদাম ১ কাপ, গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, আমের ক্বাথ ১ কাপ, চিনি সিকি কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ ও এলাচিগুঁড়া ১ চিমটি।
প্রণালি: কাজুর সঙ্গে আমের ক্বাথ দিয়ে মসৃণ পেস্ট করে নিন। চুলায় ননস্টিক প্যান চাপিয়ে ঘি দিন। গরম হলে আম–বাদামের পেস্ট দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন যেন কড়াইয়ের নিচে লেগে না যায়। এবার গুঁড়া দুধ ও চিনি দিন। এলাচিগুঁড়া দিয়ে নাড়ুন। তাল বেঁধে ননস্টিক প্যান থেকে আলগা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। একটু ঠান্ডা হয়ে এলে বাদামকুচি দিয়ে বা নিজের ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিন।
আম দই
উপকরণ: আমের ক্বাথ ১ কাপ, পানি ঝরানো দই পৌনে ১ কাপ, তরল দুধ দেড় লিটার, গুঁড়া দুধ সিকি কাপ, চিনি সিকি কাপ ও ২ টেবিল চামচ (ক্যারামেলের জন্য)।
প্রণালি: প্রথমে দুধ হাঁড়িতে ঢেলে চুলায় জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। দুধের পরিমাণ অর্ধেক হলে গুঁড়া দুধ ও চিনি মিশিয়ে আরও কিছু সময় জ্বাল দিয়ে নামিয়ে রাখুন। এবার একটি ছড়ানো প্যানে ২ টেবিল চামচ চিনি দিয়ে ক্যারামেল করে নিন। ক্যারামেলটুকু জ্বাল করে রাখা ঘন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে রাখুন।
কুসুম গরম থাকতেই দুধের সঙ্গে আমের ক্বাথ ও পানি ঝরানো টক দই ভালো করে মেশান। খেয়াল রাখবেন, দুধের সঙ্গে মেশানোটা যেন স্মুদ হয়, তাহলে দইয়ের টেক্সচার ভালো হবে। এখন যে পাত্রে দই বসাবেন, তাতে ঢেলে নিন। মাটির পাত্র বা সিরামিকের পাত্র হলে দই ভালো জমে।
এবার ২৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেন ১০ মিনিট প্রিহিট করে নিন। তারপর ওভেন বন্ধ করে গরম ওভেনে দইয়ের বাটি মোটা টাওয়েল দিয়ে কভার করে রেখে দিন সাত–আট ঘণ্টা। এমনভাবে রাখুন যেন দইয়ের বাটি নড়াচড়া না করে। দই জমে গেলে ওভেন থেকে বের করে ফ্রিজে রাখুন আরও দু-তিন ঘণ্টা।