কাঁঠালের গুড় তৈরি করেছেন ফারহানা, খেতে কেমন

কাঁঠালের কোয়া থেকে তৈরি হয়েছে ঘন তরল এই গুড়ছবি: প্রথম আলো

চায়ে চিনির বদলে মেশানো হচ্ছে গুড়। সেই গুড়ও আবার আখ কিংবা খেজুরের না। কাঁঠালের কোয়া থেকে তৈরি হয়েছে ঘন তরল এই গুড়। প্রচলিত গুড়ের মতো স্বাদ, মিষ্টতা, সব ঠিকঠাক। ঘ্রাণটাও বেশ নেশা ধরা। আঙুলের মাথায় নিয়ে জিবে ছোঁয়াতেই চোখ বুজে আসে। আবারও গুড়ের বয়ামের দিকে চলে যায় হাত।

একটু কি অবাক হলেন? ঘটনা কিন্তু সত্য। কাঁঠালের কোয়া থেকে গুড় তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা মুনতাহ। তিনি ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী। এখন মাস্টার্স করছেন।

আরও পড়ুন

মাস্টার্সের শুরুতে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার বিষয় ঠিক করে দিয়েছিলেন বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক মারুফ আহমেদ। ফারহানা শোনালেন গবেষণার শুরুর দিকের কথা, ‘গত বছর জানুয়ারি মাসে স্যার কাঁঠালের কোয়া থেকে গুড় তৈরির আইডিয়া দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তো কাঁঠালের মৌসুম না। তাই মৌসুমের অপেক্ষা না করে কলা দিয়ে গুড় তৈরির চেষ্টা করি। প্রাথমিকভাবে সফলও হই। যদিও গবেষণার পরবর্তী ধাপগুলো অসমাপ্তই থেকে যায়, কারণ তত দিনে বাজারে কাঁঠাল চলে এসেছে। পাকা কাঁঠালের কোয়া থেকে বীজ আলাদা করে গবেষণার নানা ধাপ পার করে পাঁচ কেজির মতো গুড় বানাই। ছয় মাস ধরে গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কাঁঠাল থেকে প্রস্তুত গুড়ের গুণগত মান প্রচলিত আখের গুড়ের তুলনায় উন্নত।’

ছয় মাস ধরে গুড়ের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

শুধু কাঁঠাল থেকে গুড়ই না, এই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী টমেটো থেকে পাউডার সস, দই পাউডার, ব্ল্যাক গার্লিক, কালোজামের জুস, টুটি ফ্রুটি, মিষ্টি আলুর পাতা থেকে মোডিফায়েড ফাইবার পাউডার (ফ্যাটিলিভার কমাতে সহায়ক), ঢ্যাঁড়স থেকে কমলা ও হলুদ রঙের পিগমেন্ট তৈরি করেছেন। তরমুজের গুণগত মান পরীক্ষার যন্ত্রও তৈরি করেছেন তাঁরা।

প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক সাজ্জাত হোসেন উদ্ভাবন করেছেন মাল্টি গ্রেন ড্রায়ার (শস্য শুকানোর মেশিন)। কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেগুন ও টমেটোর নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এ ছাড়া নতুন ব্যাকটেরিয়া উদ্ভাবন থেকে শুরু করে ইনকিউবেটরে প্রথমবারের মতো উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কাজ করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই।

আরও পড়ুন