দাম্পত্যে ঝগড়া এড়িয়ে চলার ৭ টিপস
সম্পর্কে তর্কবিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। তবে এসব মতভেদ কীভাবে সমাধান করে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তুলছেন, সেটাই জরুরি।
প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল–বোঝাবুঝি বা মতবিরোধ খুবই স্বাভাবিক। দাম্পত্য জীবনেও তা–ই। তবে এই ছোটখাটো দ্বন্দ্ব শুরুতেই সামলে নেওয়া ভালো। না হলে তা হয়ে উঠতে পারে গভীর ক্ষত। দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে যে বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি—
১. সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা
সঙ্গীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পরই অনেকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এটা ভুল। ঝগড়া-বিবাদ মেটানোর জন্য খোলামেলাভাবে যোগাযোগ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গী যখন কোনো অভিযোগ করবেন, সেটা মন দিয়ে শুনুন। তবে শোনার উদ্দেশ্য যেন হয় তাঁকে বোঝা, তাঁর কথার পাল্টা যুক্তি দেওয়ার জন্য নয়। কথা বলার সময় তাঁকে বাধা দেবেন না।
২. দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো
অনেক সময় আমরা পরিস্থিতিকে শুধু নিজের দিক থেকে বিচার করতে পছন্দ করি। তবে দাম্পত্য জীবনের ছোট-বড় কলহের সমাধানের জন্য এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। ঝগড়ার পর নিজেকে সঙ্গীর জায়গায় বসিয়ে ভাবুন। অর্থাৎ আপনি তাঁর জায়গায় থাকলে কী করতেন।
সঙ্গীর অনুভূতিকে সম্মান জানান ও স্বীকার করুন। খুব ছোট ছোট বাক্যে মুহূর্তেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা হতে পারে। যেমন ‘আমি বুঝতে পারছি কেন বিষয়টি তোমার জন্য এত কষ্টের’—এ ধরনের কথা সমাধানের দরজা খুলে দিতে পারে।
৩. আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ
ঝগড়ার সময় অনেকের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তখন মনের ইচ্ছার বাইরে গিয়েও কটু কথা বলে ফেলেন। পরবর্তী সময় সেসব কথাই আরও বড় বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। তাই তর্কের সময়ও একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রাখা জরুরি। পরিস্থিতি উল্টো দিকে যেতে শুরু করলে বিরতি নিন। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই প্রস্তাব রাখুন, ‘চলো একটু হেঁটে আসি, তারপর আলোচনা করা যাবে।’
৪. দোষারোপ না করে অনুভূতির প্রকাশ
যখন আপনার কথা বলার পালা আসবে, তখন এমন শব্দ বেছে নিন, যাতে সঙ্গীকে দোষারোপের বদলে আপনার ভেতরের অনুভূতির প্রকাশ হয়। যেমন ‘তুমি কখনো ঘরের কোনো কাজেই আমাকে সাহায্য করো না’—এভাবে না বলে বরং ‘সব যখন আমাকেই সামলাতে হয়, তখন খুব অসহায় আর ক্লান্ত লাগে’ ধরনের বাক্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৫. নিজেকে দিয়ে কথা বলা শুরু করুন
ঝগড়ার শুরুতেই অভিযোগ করে ‘তুমি এমন বলেছ, তুমি এমন করেছ’ ইত্যাদি না বলা ভালো। ‘তুমি’ দিয়ে শুরু করলে অপরপক্ষ নিজেকে অভিযুক্ত মনে করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আত্মরক্ষামূলক রূঢ় আচরণ করে বসতে পারেন। তার বদলে ‘আমি’ দিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে অপরাধবোধ ছাড়া খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।
৬. সব বিষয়ে একমত হওয়া যায় না, এটা মেনে নেওয়া
সব দ্বন্দ্বের বা মতবিরোধের পরই যে একটি নিখুঁত সমাধান আসবে, এমন কোনো কথা নেই। এটি মেনে নেওয়া জরুরি যে প্রতিটি ব্যক্তির নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনার জগৎ আছে। কখনও কখনও এটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ-আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন, ‘যদিও সব বিষয়ে আমাদের মতামত মিলছে না, তবুও আমি তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানাই।’
৭. ভুল স্বীকার করুন
নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং সম্পর্কে পরিপক্বতার লক্ষণ। ঠিক তেমনি সঙ্গীর ভালো কাজের প্রশংসারও দরকার আছে। সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করতে চাইলে প্রতিদিন ‘সরি’, ‘ধন্যবাদ’, ‘তোমাকে ভালোবাসি’ ইত্যাদি ছোট ছোট শব্দ ব্যবহার করুন। সব সময় যে শুধু মুখেই বলতে হবে তেমনটা নয়, তবে যত্নের বহিঃপ্রকাশ জরুরি।
সম্পর্কে তর্কবিতর্ক স্বাভাবিক বিষয়। তবে এসব মতভেদ কীভাবে সমাধান করে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তুলছেন, সেটাই জরুরি।
সূত্র: ফেমিন