‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ কী? কেন এটি বাড়ছে?

একসঙ্গে ভ্রমণে বের হলেও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অনেক দম্পতির পছন্দ যেন দুই মেরুর। কেউ সময় হাতে নিয়ে ঘণ্টাখানেক আগেই পৌঁছে নিশ্চিন্ত থাকতে চান, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে গেটে পৌঁছেই স্বস্তি পান। কেউ বিমানবন্দরের দোকানে দোকানে ঘুরে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, কেউ চান নিরিবিলি কোথাও বসে থাকতে। এই ভিন্ন পছন্দই কখনো কখনো তৈরি করে বিরক্তি, এমনকি ছোটখাটো ঝগড়াও। তাই ভ্রমণের শুরুতেই অস্বস্তি এড়াতে কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকাটাই হতে পারে সহজ সমাধান। সম্পর্কের শান্তি বজায় রাখতে বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে আলাদা থাকার এই মজার কৌশলই পরিচিত হচ্ছে ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামে। জেনে নিন এ বিষয়ে।

সম্পর্কের শান্তি বজায় রাখতে বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন দম্পতিরাছবি: পেক্সেলস

কীভাবে চালু হলো

২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সাংবাদিক হিউ অলিভার ‘সানডে টাইমস’-এর ভ্রমণবিষয়ক কলামে এ সমস্যার একটি মজার সমাধানের কথা বলেন। তিনি এর নাম দেন ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’।
নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ইচ্ছা করে আলাদা হয়ে থাকা এবং পরে গেটে বা প্লেনে আবার একত্র হওয়াই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’। মজা করে অলিভার একে বলেছেন ‘সুখী সম্পর্কের গোপন রহস্য’।

শব্দটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ল

এয়ারপোর্ট ডিভোর্স সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার জন্য নেওয়া ছোট্ট একটি বিরতি
ছবি: পেক্সেলস

অলিভারের লেখাটি পাঠকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। কয়েক দিনের মধ্যেই ‘আফার’ ম্যাগাজিনে ‘হোয়াট ইজ এয়ারপোর্ট ডিভোর্স অ্যান্ড শুড ইউ ট্রাই ইট?’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে শুধু শব্দটির উৎপত্তিই নয়, এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণও তুলে ধরা হয়।
ভ্রমণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ধারণাটিকে কার্যকর বলে মনে করেন।
‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নামের মধ্যে ‘ডিভোর্স’ বা বিবাহবিচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও এটি সত্যিকারের বিচ্ছেদ নয়। বরং ভ্রমণ যাতে বিভীষিকায় পরিণত না হয় এবং একজন আরেকজনের প্রতি যাতে বিরক্ত হয়ে না ওঠেন, সে জন্য কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকাকেই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

পক্ষেও আছে যুক্তি

এই কৌশলের পক্ষে কিছু তথ্যও আছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরে মানুষের উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। অলিভার তাঁর লেখায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ২০২৩ সালের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে প্রায় ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে গেলে তাঁদের আচরণ বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন আসে।

দূরত্ব কখনো কখনো সম্পর্ককে আরও কাছের করে তোলে
ছবি: পেক্সেলস

এয়ারপোর্ট ডিভোর্সের সুবিধা হলো, প্রত্যেকে নিজের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ও পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। ফলে সঙ্গীর ভিন্ন অভ্যাস বা রুটিন নিয়ে অযথা বিরোধে জড়ানোর আশঙ্কাও কমে।
মার্কিন টেলিভিশন তারকা কেলি রিপা ও তাঁর স্বামী মার্ক কনসুয়েলোস ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁদের অনুষ্ঠান ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড মার্ক’-এ ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ নিয়ে মজার আলোচনা করেন।
দুজনের ভ্রমণের ধরন আলাদা—মার্ক অনেক আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পছন্দ করেন, আর রিপা তুলনামূলক দেরিতে যেতে স্বচ্ছন্দ। তাই তাঁরা ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ পালন করেন।

শেষ কথা

এয়ারপোর্ট ডিভোর্স কোনোভাবেই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কৌশল নয়। বরং সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার জন্য নেওয়া ছোট্ট একটি বিরতি। চেক-ইন থেকে প্লেনে ওঠার আগপর্যন্ত সময়টুকুতে সামান্য দূরত্বই হয়তো দুজনকে আবারও একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পারে। কারণ, সব সময় পাশাপাশি থাকাই যে ভালো সম্পর্কের একমাত্র চাবিকাঠি, তা নয়; দূরত্ব কখনো কখনো সম্পর্ককে আরও কাছের করে তোলে।


সূত্র: ইয়াহু

আরও পড়ুন