বিয়ের গুজব থামাতে শোয়েব মালিকের আবেগঘন বিবৃতি

স্ত্রী সানা জাভেদের সঙ্গে শোয়েব মালিক
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা গুজব, গুঞ্জন চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সম্প্রতি তৃতীয় বিয়ের খবরসহ নানা কথাই শোনা গেছে। অবশেষে নীরবতা ভেঙে সব গুজব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন শোয়েব। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে পারস্পরিক সম্মতিতেই তাঁর প্রথম বিবাহের বিচ্ছেদ ঘটেছিল। আইনগতভাবে বিচ্ছেদপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সব গুজব-গুঞ্জনের অবসান ঘটাতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন এই সাবেক অধিনায়ক।
বিবৃতিতে শোয়েব মালিক জানান, গুজব এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যে আর চুপ থাকা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পরিবারের জন্য হলেও মুখ খুলতেই হচ্ছে। তাই তিনি নিজেই সব সত্য সামনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মালিকের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সানিয়া মির্জার সঙ্গে প্রথম দাম্পত্যজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটার পর দুজনেই সন্তানের দায়িত্বপালনে শ্রদ্ধাশীল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, আগের বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন।
শোয়েব মালিক স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে ছিলেন। কারণ, তাঁর দিক থেকে সহজ। পরিবারের প্রতি সম্মান এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমারেখা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই নীরবতা তাঁর বিরুদ্ধেই কাজ করতে শুরু করে। ভিত্তিহীন গল্পের ডালপালা গজাতে থাকে এবং এমন সব মানুষের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো হয়, যাঁদের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে শোয়েব মালিক তাঁর বর্তমান স্ত্রী সানা জাভেদের কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শোয়েবের বক্তব্য, সানাকে এমন সব বিতর্কে টেনে আনা হয়েছে, যার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁকে অনলাইনে অহেতুক সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টিকে অন্যায় ও বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেন শোয়েব। তাঁর মতে, অনেক কিছু নিছক ‘গসিপ’ বা ‘মুখরোচক গল্প’ হিসেবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে তা অনেক ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ছেলে ইজহান মালিকের সঙ্গে শোয়েব
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

শোয়েবের এই প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর ছেলে ইজহান মালিক। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সন্তানের এখন সংবাদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা পড়ার মতো বয়স হয়েছে। অনলাইনে ছড়ানো ভুল ও চাঞ্চল্যকর সব খবর তাঁর পরিবারকে প্রতিদিন মানসিকভাবে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মূলত এ কারণেই তিনি জনসমক্ষে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন যেন কারও ব্যক্তিজীবন নিয়ে তথ্য যাচাই না করে গুজব ছড়ানো না হয়। বিবৃতির শেষে তিনি লিখেছেন, যদি এরপরও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো অব্যাহত থাকে, তবে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাঁর টিম কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। ইনস্টাগ্রামে বিবৃতি প্রকাশের পর প্রায় ৩০ হাজার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এই পোস্টে।

আরও পড়ুন