দীর্ঘদিন সংসার করলে কি স্বামী-স্ত্রীর চেহারা একরকম হয়ে যায়
অনেকেই বলেন, বিয়ের বহু বছর পর কিছু দম্পতির একে-অন্যের চেহারায় মিল পাওয়া যায়। দম্পতির একজনকে অনেকটাই নাকি অন্যজনের মতো দেখায়। কখনো কখনো দেখে মনে হয়, তাঁরা বুঝি ভাই-বোন! সম্পূর্ণ আলাদা দুটি পরিবার থেকে আসা দুটি মানুষের ক্ষেত্রেও এমন মিল তৈরি হতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন সংসার করার পর দম্পতির চেহারায় মিল চলে আসার বিষয়টা কিন্তু দৃষ্টিভ্রম নয়। বরং তা পুরোপুরি বাস্তব। এমনকি বিষয়টি নিয়ে হওয়া গবেষণায়ও এর সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেন ঘটে এমনটা? জেনে নেওয়া যাক।
শুরুতেই মিল
গবেষণা বলছে, বহু মানুষ অবচেতন মনে এমন কাউকেই সঙ্গী হিসেবে খোঁজেন, যিনি দেখতে অনেকটা তাঁর নিজেরই মতো। অর্থাৎ যাঁদের মুখের আদল বা গড়ন কাছাকাছি ধরনের, তাঁরা একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হন।
তার মানে অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে চেহারার এই মিল শুরু থেকেই থাকে। যদিও শুরুতে তা খুব একটা বোঝা না-ও যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে এই মিল আরও প্রকটভাবে ফুটে ওঠে।
আবেগীয় একাত্মতা
সুখী দম্পতির মধ্যে বেশ কিছু মিল থাকে। তাঁরা দুজনই জীবনের অনেক বিষয়কে একইভাবে দেখেন। কোথাও না কোথাও আবেগীয় সমতা থাকে তাঁদের মধ্যে। বহু ঘটনায় একই ধরনের আবেগ সঞ্চারিত হয় তাঁদের মধ্যে। আবেগীয় অভিব্যক্তিও হয় একই রকম।
দীর্ঘদিন কারও সঙ্গে সংসার করলে এই লম্বা সময় ধরে একই ধরনের আবেগীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁদের। সেসব পরিস্থিতিতে তাঁদের অভিব্যক্তিও হয় একই রকম।
অর্থাৎ তাঁদের দুজনেরই মুখের পেশিগুলো প্রায় একইভাবে সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। এমনকি ত্বকে বলিরেখা এবং বয়সের অন্যান্য ছাপও পড়ে একইভাবে। দীর্ঘদিন পর এসব কারণে দুজনের চেহারা একই রকম দেখায়।
জীবনধারার মিল
একই সংসারে থাকা হলে জীবনধারাও অনেকটা একরকম হয়ে যায়। একই ধরনের খাবারদাবার খাওয়া হয়। ঘুমের সময়টাও সাধারণত মিলে যায়। চেহারার নানান বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে জীবনধারার এসব বিষয়ের ওপর।
চেহারার বয়সজনিত পরিবর্তনও নির্ভর করে জীবনধারার ওপর। এসব কারণেও দীর্ঘ সময় সংসার করলে স্বামী-স্ত্রীর চেহারায় মিল সৃষ্টি হয় অনেকটা।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে