গভীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন, নিজেকে সামলাবেন কীভাবে

আচ্ছা, কোনো সম্পর্কের শুরুতে আপনার কি এমন হয়েছে যে কোনো কাজে মন বসছে না, খেতে পারছেন না, ঠিকমতো কোনো কিছুর স্বাদ পাচ্ছেন না, ঘুমাতে পারছেন না? কেবলই ওই মানুষটার কথা মনে পড়ছে? ওই মানুষটাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টক করছেন তো করছেনই? কেবলই ওই মানুষটার ছবি জুম করে দেখছেন? আশপাশে কে কী বলছে, সব মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে? সচেতন ও অবচেতনভাবে সব সময় ওই মানুষটার কথাই ভাবছেন? মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘লিমারেন্স’।

কাউকে নিয়ে তীব্র আকর্ষণ, কৌতূহল ও মানসিক ব্যস্ততাকে বলে লিমারেন্স
প্রতীকী ছবির মডেল: গালিব। ছবি: সুমন ইউসুফ

কাউকে নিয়ে তীব্র আকর্ষণ, কৌতূহল ও মানসিক ব্যস্ততাই লিমারেন্স। সাধারণত প্রেমের প্রথম দিকে এ রকম হয়। সপ্তাহখানেক থাকে। এরপর ধীরে ধীরে হরমোনের প্রভাব স্তিমিত হয়ে আসে। এই সময়ে মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যকলাপ বেড়ে যায়।

ফলে মনে হতে পারে, ওই মানুষটিই যেন সবকিছুর কেন্দ্র। তবে অনুভূতিটা স্বাভাবিক হলেও, সেটি যেন আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ না করে—সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যদি আপনি একাই উতলা হন আর অপর পাশের ব্যক্তি স্বনিয়ন্ত্রিত, স্থির ও শান্ত থাকেন, তাহলে আপনার মানসিক চাপ আরও বাড়তে আরে। এমন সময়ে নিজেকে সামলাতে কী করবেন?

১. অনুভূতিটাকে স্বীকার করুন; কিন্তু অনুভূতির প্রতিটি তাগিদ মেনে চলবেন না। আপনার মনে হতে পারে, এখনই মেসেজ দিতে হবে; অনেক কিছু জানাতে ইচ্ছা করবে; কিন্তু নিজের লাগাম নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন।

২. নিজের রুটিন অক্ষুণ্ন রাখুন। কাজ, পড়াশোনা, ব্যায়াম, ঘুম, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময়—এসব চালিয়ে যান।

প্রেমে তীব্র অনুভূতি মানেই গভীর সম্পর্ক নয়
প্রতীকী ছবির মডেল: সামিয়া। ছবি: সুমন ইউসুফ

৩. মস্তিষ্ককে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন। এমন কাজ করুন, যেখানে মনোযোগ দিতে হয়—লেখালেখি, রান্না, বই পড়া, নতুন কিছু শেখা বা শরীরচর্চা।

৪. প্রতিটি অনুভূতিকে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন, ‘আমি কি মানুষটিকে সত্যিই চিনি, নাকি তার সম্পর্কে আমার কল্পনাকেই বেশি ভালোবাসছি?’

৫. বারবার অনলাইন স্ট্যাটাস দেখা, রিপ্লাই না এলে দুশ্চিন্তা করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নজর রাখা—এসব অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

৬. সম্পর্ককে সময় দিন। বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও ভালোবাসা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। শুরুতেই সব উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করলে উল্টো চাপ তৈরি হতে পারে।

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে

তীব্র অনুভূতি মানেই গভীর সম্পর্ক নয়। আবার তীব্র অনুভূতি থাকলেই তা অস্বাস্থ্যকর, এমনও নয়। সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ হলো, সেই সম্পর্ক আপনার জীবনে আনন্দ যোগ করবে; কিন্তু আপনার কাজ, ঘুম, আত্মসম্মান বা দৈনন্দিন কার্যক্ষমতাকে গ্রাস করবে না।

যদি দেখেন—

  • কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ রাখা যাচ্ছে না

  • খাওয়া-ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে

  • অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়ার ওপর আপনার মানসিক অবস্থা পুরোপুরি নির্ভর করছে

  • উদ্বেগ এত বেড়ে যাচ্ছে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে

  • তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

আরও পড়ুন