রোনালদো ও জর্জিনা কেন ড্রয়িংরুমে বিয়ে করলেন, ‘ভোগ’কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরও যা জানালেন

এত দিন মনে করা হতো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শুভসংখ্যা ৭। তবে এবার জানা গেল, সাতের চেয়েও একটা বিশেষ তারিখ আছে তাঁর জীবনে—১১ আগস্ট। এরই মধ্যে সবাই জেনে গেছে ১১ আগস্ট ১০ বছরের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। কিন্তু এই তারিখেই কেন বিয়ে? কারণ, এই তারিখেই গুচির শোরুমে জর্জিনাকে প্রথম দেখেছিলেন রোনালদো। ঠিক সেই দেখা হওয়ার দিন ধরেই এক বছর আগে বাগ্‌দান করেছিলেন তাঁরা। এবার সারলেন বিয়ে। আজ ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ‘ভোগ’–এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে একটি বিশেষ ফিচার। ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও মডেল–উদ্যোক্তা জর্জিনা রদ্রিগেজ যেখানে তাঁদের বিয়ের বিস্তারিত জানিয়েছেন ‘ভোগ’–এর এডিটর–ইন–চিফ গ্যাবি উডের সঙ্গে। আছে বিয়ের সবিশেষ ছবিও

১ / ১৪
বিয়ের পাঁচ দিন আগে, রোনালদো ও তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ পর্তুগালের কাসকাইশে তাঁদের নতুন সামার হাউস থেকে জুমে ‘ভোগ’কে সাক্ষাৎকারটি দেন। নতুন এই বাড়িতে তাঁরা উঠেছেন গত জুলাই মাসে। বাড়িটি তৈরি করতে সময় লেগেছে সাত বছর!
ছবি: ইনস্টাগ্রাম/ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
২ / ১৪
বাগ্‌দানের পরই এই জুটি জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা আছে। আর তাই এবার ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতেই রোনালদো–জর্জিনার বিয়ের গুঞ্জন ডালপালা মেলে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিয়ে হচ্ছে বলে জানিয়েছিল অনেক গণমাধ্যম। এমনকি পর্তুগালের স্বশাসিত অঞ্চল মাদেইরার ফুনশাল ক্যাথেড্রালে বিয়ে হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। ৮ আগস্ট বিয়ের খবরে সেই গির্জার সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। তবে সেখানে সেদিন রোনালদোর বিয়ে হচ্ছে না জেনে ভক্তরাও হতাশ হয়
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
৩ / ১৪
অনেকেই ঐতিহ্যবাহী এই গির্জার নাম শুনে বিশ্বাস করেছিলেন। তবে রোনালদো ও জর্জিনার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। তাঁরা বিয়ের দিন হিসেবে বেছে নেন ১১ আগস্ট তারিখটি, আর ভেন্যু হিসেবে ছিল নিজেদের বাসার ড্রয়িংরুম! এত বড় তারকার বিয়ে এত সাদামাটা! বিয়ের দিন বাড়িতে পাঁচ সন্তানের সঙ্গে জর্জিনা রদ্রিগেজ
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৪ / ১৪
অথচ একসময় জর্জিনা নিজেই স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর বিয়ে হবে অনেক পুরোনো কোনো দুর্গে। জর্জিনা সে কথা স্মরণ করে বলেন, ‘যখন ছোট ছিলাম, তখন স্বপ্ন দেখতাম সবচেয়ে বড় দুর্গ, সবচেয়ে বড় ঘোড়ার গাড়ি, সবচেয়ে লম্বা পোশাক আর হীরায় ভরা একটি মুকুট পরে বিয়ে করব।’ ছবিতে গুচির পোশাকে বিয়ের দিনের লুকে জর্জিনা
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৫ / ১৪
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন খুবই খেলো মনে হতে থাকে জর্জিনা ও রোনালদোর। কারণ, বিয়ের জন্য যে রূপকথার মতো ভাবনা ছিল, তার সবটাই বিয়ের আগে পূরণ হয়ে গেছে। বিলাসবহুল ইয়ট, কয়েক ডজন গাড়ি, প্লেন থেকে শুরু করে একাধিক বাড়ি, পোশাক, গয়নার সবটাই পাওয়া হয়ে গেছে গত ১০ বছরে। তাই বিয়ের দিনটাকে বরং এই জুটি রাখতে চেয়েছিলেন একান্ত ব্যক্তিগত, ছিমছাম। বিয়ের দিনও বাসার জিমে এই দম্পতি
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৬ / ১৪
যেখানে নিজেদের পাঁচ সন্তানই থাকবে সবকিছুর ওপরে। তারা ইচ্ছেমতো মজা করবে মা–বাবার বিয়েতে। ৭৫ কোটির বেশি ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার থাকা এই জুটি তাই বিয়ে করলেন ড্রয়িংরুমেই। সন্তানদের সামনে রেখেই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তাঁরা। ছবিতে পুরো পরিবারের বিয়ের দিনের জুতা
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৭ / ১৪
ছোটবেলার ভাবনামতো বিয়ে না করলেও হীরার গয়না পরতে ভোলেননি জর্জিনা। বিয়েতে বিশাল আকারেই সেই বাগ্‌দানের আংটি ছাড়াও জর্জিনা পরেছিলেন ‘চপার্ড’–এর গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। নেকলেসটির মূল আকর্ষণ হলো একটি ৫০ ক্যারেটের ব্রিলিয়ান্ট-কাট হীরা, যার মান ডি–ফ্ললেস। হীরার সর্বোচ্চ রঙের গ্রেড ‘ডি’ এবং ত্রুটিহীনতার সর্বোচ্চ গ্রেড ‘ফ্ললেস’। বিয়ের গয়না পরে বাড়ির পুলে জর্জিনা
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৮ / ১৪
এখানে বলে রাখা ভালো, হীরাটির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৫০ ক্যারেট—অত্যন্ত বড় একটি হীরা আর রঙের গ্রেডিংয়ে ডি হলো সর্বোচ্চ রঙের মান আর ফ্ললেস বলতে বোঝায় ১০ ম্যাগনিফিকেশন। অর্থাৎ যে হীরায় অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো দৃশ্যমান ত্রুটি পাওয়া যায় না
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
৯ / ১৪
রোনালদো–জর্জিনার বিয়েটা ‘মাইক্রো ওয়েডিং’ তকমা পেলেও ব্রাইডাল লুকটিকে খুব সাদামাটা বলা যাচ্ছে না। কারণ, এই মাপের বিলাসবহুল গয়না ছাড়াও পোশাক নিয়েও বিশেষভাবে ভেবেছিলেন তাঁরা। তাঁদের বিশেষ দিনটির পোশাকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয় গুচির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ডেমনার হাতে। ডেমনা বলেন, ‘এই বিশেষ মুহূর্তের জন্য জর্জিনা ও ক্রিস্টিয়ানোকে আমাদের পোশাকে দেখার অনুভূতির তুলনা হয় না। কারণ, তাঁদের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে। বিষয়টির মধ্যে দারুণ এক রোমান্টিকতা আছে। মনে হয় যেন একটি সুন্দর বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো, প্রায় আধুনিক রূপকথার মতো।’ বিয়ের দিনে সকালের বাড়ির জিমে রোনালদো ও জর্জিনা
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
১০ / ১৪
বন্ধু ও পরিবারের কাছে ‘ক্রিস অ্যান্ড জিও’ নামে পরিচিত এই দম্পতির জন্য এ বছরটা ছিল ‘পাগলাটে ব্যস্ততার বছর’। বিশ্বকাপ, জর্জিনার নতুন ব্র্যান্ডের কাজের ব্যস্ততা এবং সন্তানদের নানা রকম ব্যস্ততা সামলানো...। তবে এর মধ্যেও নিজেদের সম্পর্কের ১০ বছর পূর্তির দিনটিকে কোনো আয়োজন ছাড়াই পার করে দিতে চাননি জর্জিনা। সেই ভাবনা থেকেই মূলত বিয়ের এই ঘরোয়া আয়োজন
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
১১ / ১৪
বিয়ে নিয়ে অনেক বছর আগের ভাবনার চেয়ে দুজনেরই এখনকার ভাবনাটা একেবারে আলাদা। আর তাই সঙ্গী আর সন্তানদের নিয়ে বাড়িতেই ছোট ও ঘরোয়া কিছু করেছেন তাঁরা। জর্জিনা বলেন, ‘দুর্গ, বাড়ি, দ্বীপ, ঘোড়া, গাড়ি—এসবই তো আমরা প্রতিদিন হাতের নাগালে পাই। কিন্তু একান্ত, ব্যক্তিগত একটা আয়োজন—আমাদের জন্য সেটাই বরং বেশি বিরল।’ তবে ভবিষ্যতে তাঁরা বড় করে বিয়ের আরেকটি আয়োজন করবেন বলেও জানিয়েছেন। যেখানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দিনটি উদ্‌যাপন করা হবে
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
১২ / ১৪
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তাঁরা গাড়িতে করে যান ‘লেডি অব ফাতিমা’র কাছে। জায়গাটি পর্তুগালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথলিক তীর্থস্থানগুলোর একটি। রোনালদোদের বাড়ি থেকে জায়গাটি এক ঘণ্টার দূরত্বে। সেখানে একটি ছোট প্রার্থনাস্থল তাঁদের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ রাখা হয়। তারপর সেখানে একজন যাজক তাঁদের জন্য আশীর্বাদ করেন। রোনালদো বলেন, ‘আমি সাধারণত মানুষের ভিড়ভাট্টা আছে, এমন জায়গা এড়িয়ে চলি।’ আর তা নাহলে লোকে যে আশীর্বাদ অনুষ্ঠানটি ভন্ডুল করে দিত, তা বলাবাহুল্য
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
১৩ / ১৪
‘ভোগ’–এর প্রতিবেদককে জর্জিনা ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের বাড়ির বসার ঘরেই বিয়েটা করছি। কেননা, এখানেই আমরা সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবার খাই। এখানেই আমরা আমাদের বাস্তব জীবনটা কাটাই। ৩০ বছর পর আমি চাই, আমাদের সন্তানেরা যেন এই টেবিলটার দিকে তাকিয়ে ভাবে—এই টেবিলেই দারুণ একটা ঘটনা ঘটেছিল, এখানে তাদের মা–বাবা বিয়ের শপথ নিয়েছিল।’ জর্জিনার এই কথার পর রোনালদো সঙ্গে সঙ্গে মজা করে বলেন, ‘সম্ভবত টেবিলটা তখন আর একই রকম থাকবে না। আমরা হয়তো ঘরের সাজসজ্জা বদলে ফেলব।’
ছবি: ইউয়ের্গেন টেলার/ভোগ
১৪ / ১৪
জর্জিনা ও রোনালদো—দুজনই যথাক্রমে স্পেন ও পর্তুগালে বড় হয়েছেন। জর্জিনার ভাষায়, দুজনেরই পরিবার ছিল ‘তুলনামূলকভাবে কম গোছানো’। তাই নিজেদের সন্তানদের ‘কিছু না থাকা এবং সবকিছু থাকার মূল্য’ বোঝানো তাঁদের দুজনের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ
ছবি: ইনস্টাগ্রাম/ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন