কমলা না মাল্টা, বাজারে কোনটার চাহিদা বেশি
বাজারে এখন বিদেশি কমলার ছড়াছড়ি, আছে মাল্টাও। কিনতে গেলেই দেখবেন তিন থেকে চার রকমের মাল্টা আর কমলা। এসবের দামও আলাদা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা গেল কোনটা কোন দেশের; দামই–বা কেমন।
কমলা-মাল্টার রকমফের
কমলার দাম ও স্বাদের পার্থক্য হয় মূলত সেসব কোন দেশ থেকে এসেছে, তার ওপর। বাজার ঘুরে চার ধরনের কমলা পাওয়া গেল। বাজারে বেশি আছে চীনা কমলা। দোকানিদের ভাষায় ‘ম্যান্ডা’। এসব কমলা মাঝারি আকৃতির। ত্বক মসৃণ। আরেক ধরনের চীনা কমলা আছে। সেসব আকারে ছোট। প্রায় সব দোকানেই জালের মধ্যে ছোট ছোট কমলাগুলো ঝুলে থাকতে দেখা যায়।
চীনা কমলা ছাড়াও বাজারে আছে ভুটান, ভারত ও নেপালি কমলা। ভুটানি কমলা তুলনামূলক মিষ্টি বলে চাহিদা বেশি। আকার মাঝারি। এর চেয়ে বড় একধরনের কমলা আছে, ত্বকে সবুজ ছোপ থাকে। এটি মূলত ভারতীয় কমলা।
বাজারে মাল্টা আছে তিন ধরনের—মিসরীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান ও চীনা। আমরা সচরাচর যে মাল্টা দেখি, সেটি দক্ষিণ আফ্রিকার। মিসরের মাল্টা কিছুটা লালচে রঙের।
দেশ, আকার ও স্বাদভেদে দাম
কমলা কোন দেশ থেকে আসছে, আকার এবং স্বাদ কেমন, তার ওপর দামে ভিন্নতা দেখা যায়। কমলা আর মাল্টার দামেও আছে পার্থক্য। কমলার দাম মাল্টার থেকে তুলনামূলক বেশি। এখন বাজারে প্রতি কেজি কমলা ১৮০-৩৫০ টাকা এবং মাল্টা ২২০-২৮০ টাকা।
দোকানিরা জানালেন, তুলনামূলক বেশি মিষ্টি বলে ভুটানি কমলা বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ২২০-২৪০ টাকা করে। যাঁরা একটু রসাল কমলা পছন্দ করেন, তাঁরা কেনেন ভারতীয় কমলা। সবুজ ছোপের এই কমলার দাম প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। চীনা কমলা ২৩০-২৬০ টাকা প্রতি কেজি। মাঝারি আকৃতির কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরবরাহের জন্য এই কমলা নেওয়া হয়।
আর জালে রাখা ছোট চীনা কমলা ২০০-২২০ টাকা প্রতি কেজি। নেপালি কমলা প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা।
বাজারে মিসরীয় মাল্টা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৮০ টাকায়। মাল্টার মধ্যে তুলনামূলক মিষ্টি দক্ষিণ আফ্রিকার মাল্টা। আকৃতিভেদে এটি দুই ধরনের হয়। বড় আকৃতির মাল্টা ২৬০ টাকা, ছোটগুলো ২২০ টাকা। চীনা মাল্টা কিছুটা টক, দাম কেজি প্রতি ২০০-২২০ টাকা।
দোকানিরা জানালেন, তাঁরা রাজধানীর বাদামতলী ফলের আড়ত থেকে এসব কমলা ও মাল্টা আনেন। তাঁদের কেনা দামের তারতম্যের কারণে দোকানভেদে দামে পার্থক্য হয়। দোকানের চেয়ে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে দাম কিছুটা কম। আবার দামাদামি করতে পারলে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমাতে পারবেন।
মাল্টার চেয়ে কমলার চাহিদা বেশি
মোটরসাইকেলে বসেই একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানের সামনে দাঁড়ালেন মো. ফেরদৌস। খুঁজছিলেন ছোট আকারের কমলা। পরপর দুই দোকানে দামাদামি করে কিনলেন জালে রাখা ছোট চীনা কমলা। তিনি জানালেন, পরিবারের জন্য কিনলেন, আগে এই ছোট কমলা কেনেননি।
একই দোকানে ভুটানি কমলার খোঁজ করছিলেন ষাটোর্ধ্ব ফারুক আহমদ। দোকানি আখতার হোসেন জানালেন, মাল্টার চেয়ে কমলার চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, ‘কমলা বেশি চলে। মাল্টা আনি না। একবার আইনা তিন দিন ধরে বেঁচছি।’
পরিবার ছাড়াও রোগী দেখতে, আত্মীয়ের বাড়ি যেতে এবং অনুষ্ঠানের জন্য মানুষ কমলা কেনে বলে জানান বিক্রেতারা।