ভাড়ায় কোথায় পাবেন বর–কনের সাজপোশাক
বিয়ের পোশাক মানেই তো এক দিনের আয়োজন। এ জন্য কত খরচ! তাই এক দিনের জন্য বেহুদা পোশাক কেনার ধারণা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন নগরবাসী। ঢাকায় বিয়ের সাজপোশাকের ভাড়া ব্যবসা এখন তাই রমরমা। এলিফ্যান্ট রোড, বাটা সিগন্যাল ও কাঁটাবন মসজিদ–সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বিয়ের সাজপোশাকের বাজারে অনেক বছর ধরেই চলছে এই ভাড়া ব্যবসা। শুধু ঢাকাবাসীই নন, ঢাকার বাইরের জেলা থেকেও অনেকে ভাড়ায় পোশাক নিতে এখানে আসেন।
সানাই, পালকি, মেহেল ক্রিয়েশন, দোলহান, বিয়ে–শাদি, বর–কনে, বধূবরণ, হানিমুন, ওয়েডিং ওয়ার্ল্ড, রাজ, সুলতান, নিকাহ প্যালেস, ফাইকি শেরওয়ানি হাউস, সানি জরি হাউস, আলিফ জরি হাউসসহ প্রায় ৫৪টি শোরুম ও দোকান রয়েছে, যারা বিয়ের পোশাক বিক্রির পাশাপাশি ভাড়াও দিয়ে থাকে। এখানে এক জায়গায়ই পাবেন নানা মান ও ডিজাইনের পোশাক।
ভাড়ায় যা যা পাবেন
মেহেল ক্রিয়েশনের সালমান আহমেদ জানান, সাধারণত বরযাত্রার জন্য দরকারি চারটি আইটেম মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সেট ভাড়া দেওয়া হয়। এতে থাকে পাগড়ি, শেরওয়ানি, ওড়না ও মালা। পোশাকের কাপড়, নকশা ও সামগ্রিক মান অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হয়। পোশাকের মান অনুযায়ী ২ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে ভাড়া। বরযাত্রায় যাঁরা যান, অনেক ক্ষেত্রে তাঁরাও বরের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে শেরওয়ানি ভাড়া নেন। এতে ভাড়া পড়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।
তবে এই প্যাকেজে পায়জামা ও জুতা অন্তর্ভুক্ত থাকে না। পায়জামা ও জুতা আলাদা করে কিনে নিতে হয়। পায়জামা পাবেন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। জুতার ক্ষেত্রে কেউ পছন্দ করেন ঐতিহ্যবাহী নাগড়া, কেউবা লোফার। ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে নাগড়া পাবেন। লোফারের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। নাগড়ার চেয়ে লোফারের চাহিদাই এখন বেশি। জানালেন ‘সানাই’–এর স্বত্বাধিকারী এ এইচ এম মুজিবুল আলম।
জামানত
ভাড়া নেওয়ার সময় পোশাকের মান অনুযায়ী কিছু টাকা জামানত রাখতে হয়। এই জামানতের পরিমাণ দুই হাজার থেকে শুরু করে আট হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোশাক ঠিকঠাক অবস্থায় ফেরত দিলে এই জামানতের পুরো টাকাই ফেরত দেওয়া হয়।
সময়সীমার মধ্যে পোশাক ফেরত না দিলে কি ভাড়া বাড়তে পারে? না। পোশাক ভাড়া নেওয়ার সময় ‘ফেরতের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা’ বেঁধে দেওয়া থাকে না। কেউ বিয়ের প্রোগ্রামের এক দিন আগেও পোশাক নেন, আবার কেউ এক মাস আগেও পছন্দের পোশাক নির্বাচন করে রাখেন। আগাম নেওয়ার সুবিধা হলো পছন্দের ডিজাইন, রং ও সাইজ নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষ সতর্কতা
ভাড়ায় পোশাক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
পোশাক নেওয়ার সময় ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা দরকার—কোথাও দাগ, ছেঁড়া বা অন্য কোনো ত্রুটি আছে কি না।
শরীরের সঙ্গে ফিট হয় কি না।
পোশাক ব্যবহারের সময়ও সাবধান থাকতে হবে। পোশাকে দাগ লাগতে পারে, ছিঁড়ে যেতে পারে অথবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে পাগড়ির ভাঁজ। এমন হলে পোশাকের ক্ষতির বিপরীতে জামানতের টাকা থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কেটে রাখা হয়।
তবে কেউ যদি নিজ থেকেই ‘ড্রাই ওয়াশ’ করে আবারও আগের মতো পরিষ্কার করে দিতে চান, সেই সুযোগও আছে। প্রয়োজনে রং বা দাগ ওঠানোর জন্য ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বাড়তি সময় দিয়ে থাকেন বিক্রেতারা। তখন জামানতের পুরো টাকাই ফেরত পাবেন। আবার চাইলে অল্প দামে সেই শেরওয়ানি কিনেও রাখতে পারেন। বিক্রেতারা এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে থাকেন।
ভাড়ার পোশাক অল্প দামে কেনাও যায়!
বিয়ের জন্য নতুন পোশাক কেনার সুযোগ তো আছেই। ভাড়া হয়ে কয়েক বাড়ি ঘুরে আসা পোশাকও বিক্রি হয়। কেউ চাইলে ভাড়ায় দেওয়া পোশাকই পরে কিনে নিতে পারেন সাশ্রয়ী দামে। আলিফ ব্রাইডাল কালেকশনের বিক্রেতা রবিউল আলম জানান, অনেক সময় এসব পোশাকের দাম অর্ধেকের কাছাকাছিও নেমে আসে। দেখা যায়, ১৫ হাজার টাকার নতুন এক সেট বিয়ের পোশাকের বিপরীতে ভাড়া হওয়া ওই একই সেট পোশাক নিতে পারবেন সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকায়।
কনের সাজপোশাক
ছেলেদের পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের বিয়ের পোশাকও ভাড়া নেওয়া যায়।
দ্য থ্রেড স্টোরি
দ্য থ্রেড স্টোরির অবস্থান ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর বাসায়। ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা দ্য থ্রেড স্টোরি শুরুতে অনলাইনে বুকিং নেওয়ার মাধ্যমে বিয়ের পোশাক ভাড়া দিত। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে সরাসরি দোকানে গিয়ে দেখার মাধ্যমে পোশাক ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। এতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক হাতে ধরে দেখার ও পছন্দ করে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়া নির্ধারিত হয় পোশাকের কেনা দামের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ টাকার ওপর। কমপক্ষে এক মাস আগে পোশাক নির্বাচন করে ভাড়ার ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হয় এখানে। এরপর নেওয়ার আগে পোশাক সংগ্রহের সময় অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হবে। পোশাক কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সিগনেচার রেন্টাল
মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের কাছে মীনা বাজারের ঠিক উল্টো পাশেই অবস্থান সিগনেচার রেন্টালের। আউটলেটের পাশাপাশি অনলাইনেও পোশাক ভাড়া নেওয়া যায় এখান থেকে। ভাড়া নির্ধারিত হয় পোশাকের কেনা দামের ৪ ভাগের ১ ভাগ হিসাবে। ভাড়ার পরিমাণ হয় সাধারণত ১ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সাধারণত ঢাকার ভেতরে হলে ৩ দিন আর ঢাকার বাইরে হলে ৫ দিনের মধ্যে পোশাক ফেরত দিতে হয়।
ঢাকার আরও যেখানে ভাড়ায় বিয়ের পোশাক পাবেন
ভাড়ায় বিয়ের সাজপোশাক পাবেন ‘রেন্ট লেহেঙ্গা বাই সামিহা’, ‘রেন্ট লেহেঙ্গা, শাড়ি, ড্রেস অ্যান্ড জুয়েলারি’, ‘ওয়েডিং ড্রেস রেন্ট ইন বিডি’, ‘পার্টি রেন্টাল’, ‘লেহেঙ্গা অ্যান্ড শাড়ি অন রেন্ট’–এর মতো কিছু অনলাইন পেজ ও ফেসবুক গ্রুপে। এসব পেজে পোস্ট দিয়ে শাড়ি, লেহেঙ্গা আর গাউন ভাড়া নেওয়া যাবে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে।