ওড়নার যেমন ফ্যাশন দেখা যাবে এবারের ঈদে

ঈদের জন্য অনেকেই এমন ওড়না বেছে নেন, যা একাধিক পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়
ছবি: সুমন ইউসুফ

রাজধানীর সবচেয়ে বড় ওড়নার বাজার গাউছিয়া ও চাঁদনী চক। যদিও ঈদের কেনাকাটা এখনো জমে ওঠেনি, তারপরও গাউছিয়া ও চাঁদনী চক ঘুরে দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঈদ ফ্যাশনে এবার উজ্জ্বল রঙের শেড ও সূক্ষ্ম নকশার ওড়নার বেশি চাহিদা থাকবে। প্যাস্টেল থেকে গাঢ়—সব ধরনের রংই চলবে। বিশেষ করে সিল্ক, শিফন ও হালকা জর্জেট কাপড়ের ওড়নায় এবার দেখা যাবে ব্লক বা এমব্রয়ডারির কাজ।

ওড়নার দোকান চাঁদনি ম্যাচিংয়ের বিক্রেতা দেলওয়ার জানালেন, ঈদের জন্য অনেকেই এমন ওড়না বেছে নেন, যা একাধিক পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই শিবোরি, টাইডাই বা গ্রেডিয়েন্ট (একটি রং থেকে অন্য রঙে বা একই রঙের গাঢ় থেকে হালকায় ধীরে ধীরে মিশে যাওয়া) শেডের ওড়না বছরজুড়েই বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
রাজধানীর সবচেয়ে বড় ওড়নার বাজার গাউছিয়া ও চাঁদনী চক
ছবি: সুমন ইউসুফ

চাঁদনী চক ও গাউছিয়ার বিভিন্ন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একটু জমকালো নকশা আছে, এমন ওড়নাই নাকি ঈদের সময় ক্রেতারা বেশি কেনেন। তাই ঈদের সময় সুতির পাশাপাশি সিল্ক বা নেটের ওপর হালকা কাজ করা ওড়না জনপ্রিয়তা পায় বেশি।

চাঁদনী চক বা গাউছিয়ার মতো ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরেও দেখা গেল এমন ওড়নার পসরা। আগেই বলেছি, এখন এক ওড়নায় নানা রঙের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। কামিজের সঙ্গে একদম মিলিয়ে নয়, বরং রঙিন ওড়নার সঙ্গে মিল রেখে পোশাক বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানালেন ডিজাইনাররা। রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনার সৌমিক দাস জানালেন, নানা শেডের ওড়না খুব সহজেই যেকোনো একরঙা কামিজের সঙ্গে মানিয়ে যায়। অনেক সময় একটি ওড়নাই দুই বা তিনটি পোশাকের সঙ্গে পরা যায়। ঈদের কেনাকাটায় তাই শেডের ওড়নার চাহিদা থাকে বেশি।

গরমের কথা মাথায় রাখলে সুতি, তাঁত বা খাদির ওড়না বেশ আরাম দেবে।
ছবি: সুমন ইউসুফ

সাদা, অফ হোয়াইট বা প্যাস্টেল রঙের কামিজ দিয়ে শুরু হতে পারে ঈদের সকাল। তার সঙ্গে উজ্জ্বল লাল, হলুদ, কমলা বা আসমানি শেডের ওড়না নিলেই পুরো সাজে চলে আসে উৎসবের আবহ। দুপুরের দাওয়াতে চাইলে বেছে নিতে পারেন গাঢ় নীল, সবুজ বা বেগুনি শেডের ওড়না। আর রাতের অনুষ্ঠানে সিল্ক বা শিফনের জমিনে ব্লক, বাটিক বা হালকা ঝিলমিল কাজের ওড়না যোগ করবে আলাদা মাত্রা, এমনটাই বললেন এই ডিজাইনার।

গরমের কথা মাথায় রাখলে সুতি, তাঁত বা খাদির ওড়না বেশ আরাম দেবে। বিশেষ আয়োজনে রাখুন সিল্ক বা শিফন। খেয়াল রাখবেন, ওড়না যদি খুব গাঢ় বা রঙিন হয়, তবে কামিজ রাখুন তুলনামূলক কোমল রঙের। আবার একরঙা সাদামাটা পোশাকের সঙ্গে জমকালো নকশার ওড়না নিলে ভারসাম্য তৈরি হয় সহজেই।

চাইলে নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন ঈদের জন্য আলাদা ওড়না। একরঙা কাপড় কিনে গাঢ় থেকে হালকা শেডে রাঙিয়ে নিতে পারেন। অথবা কয়েক রঙের কাপড় জোড়া দিয়ে বানাতে পারেন প্যাচওয়ার্ক স্টাইলের ওড়না। রং ও প্রয়োজনীয় উপকরণ মিলবে ঢাকার গাউছিয়া কিংবা নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকানে।

আরও পড়ুন
ঈদ ফ্যাশনে এবার উজ্জ্বল রঙের শেড ও সূক্ষ্ম নকশার ওড়নার বেশি চাহিদা থাকবে
ছবি: সুমন ইউসুফ

কোথায় পাবেন

ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশে মিলবে খাদি, সুতি ও টাইডাইয়ের নানা শেডের ওড়না। দেশালের রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যের ওড়নার সংগ্রহ। সোর্সে পাবেন বাটিক ও খাদি কাপড়ের ওড়না। যাত্রায় আছে জামদানি, নকশিকাঁথার ওড়না। এখানে সিল্কের ওড়নাও পাবেন। এ ছাড়া নিউমার্কেট, গাউছিয়া বা চাঁদনী চক মার্কেটের দোকানগুলোয় কম বাজেটে পছন্দের ওড়নাটি পেয়ে যাবেন।

দরদাম

চাঁদনী চক ও গাউছিয়ায় সুতির শেডের ওড়নার দাম ৩৩০ থেকে ৬৫০ টাকা। খাদির ওড়নার দাম পড়বে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। ৪৫০ টাকার মধ্যে পাবেন টাইডাই ওড়না। যদি টাইডাইয়ের ওপর ব্লক বা স্ক্রিন প্রিন্টের ওড়না কিনতে চান তাহলে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ করতে হবে। শিবোরি ওড়না পাবেন ৬৫০-৭৫০ টাকায়, সিল্কের শিবোরি ওড়না ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। দেশালে শেডের সুতি ও খাদির ওড়না পাবেন ৩৫০-৭০০ টাকায়। যাত্রায় জামদানি ওড়নার দাম ৭০০ টাকা থেকে শুরু। তবে নকশিকাঁথার ওড়নার দাম কাজের ওপর নির্ভর করে। সোর্সে ওড়নার দাম শুরু ৪৫০ টাকা থেকে।

আরও পড়ুন